নামাজের কাতার সোজা করা

মোট হাদিস ২০

সালাতের সঠিক নিয়ম, স্থিরতা এবং কাতার সোজা করার গুরুত্ব

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী অনুযায়ী সালাত বা নামাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো এতে পুরোপুরি স্থিরতা বজায় রাখা এবং কাতার সোজা করে দাঁড়ানো। বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে জানা যায়, নামাজের শেষে সালাম ফেরানোর সময় হাত উঁচিয়ে ইশারা করা যাবে না, বরং হাত উরুর ওপর স্থির রেখে স্বাভাবিকভাবে সালাম ফেরাতে হবে। এলোমেলোভাবে হাত নাড়ানোকে অবাধ্য ঘোড়ার লেজের সাথে তুলনা করে তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জামায়াতে নামাজ পড়ার সময় সামনের কাতার পূর্ণ করা এবং সোজা হয়ে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি। কাতারে কোনো বিশৃঙ্খলা বা এলোমেলো ভাব থাকলে মানুষের অন্তরেও পারস্পরিক মতবিরোধ তৈরি হয়। তাই নামাজের পরিপূর্ণ ফজিলত ও মনোযোগ লাভের জন্য কাতার সোজা রাখা এবং সালাতের ভেতর শান্ত ও স্থির থাকা প্রত্যেক মুসলিমের অবশ্যকরণীয় কর্তব্য।

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنِ نَافِعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: «اسْتَوُوا. اسْتَوُوا. اسْتَوُوا، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لَأَرَاكُمْ مِنْ خَلْفِي كَمَا أَرَاكُمْ مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নাবী (ﷺ) বলতেন, “ইস্তাউ, ইস্তাউ, ইস্তাউ” (তোমরা বরাবর হয়ে দাঁড়াও, বরাবর হয়ে দাঁড়াও, সোজা হয়ে দাঁড়াও)। যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর কসম! আমি তোমাদের দেখছি পেছন হতে যেভাবে আমি তোমাদের দেখছি আমার সামনে হতে।

[১] রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) অলৌকিকভাবে পেছনের সারির লোকদের অবস্থা দেখতে পেতেন।

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: أَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِوَجْهِهِ حِينَ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ فَقَالَ: «أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ وَتَرَاصُّوا؛ فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতে দাঁড়ালেন তখন তাকবির বলার আগে আমাদের দিকে মুখ করে বললেন, তোমরা তোমাদের কাতার ঠিক কর এবং পরস্পর মিলে দাঁড়াও। আমি তোমাদেরকে আমার পেছন থেকেও দেখে থাকি।

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ الْمُخَرِّمِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبَانُ قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسٌ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «رَاصُّوا صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا بَيْنَهَا، وَحَاذُوا بِالْأَعْنَاقِ، فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ إِنِّي لَأَرَى الشَّيَاطِينَ تَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهَا الْحَذَفُ»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর নাবী (ﷺ) বলেছেন : তোমরা কাতারে পরস্পর মিলে দাঁড়াও। কাতারগুলোকে কাছাকাছি করে নাও অর্থাৎ দু' কাতারের মাঝে বেশি ফাঁক রেখো না এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন তাঁর কসম! আমি শয়তানকে দেখছি ছোট ছোট বকরীর মতো কাতারের মাঝে প্রবেশ করছে।

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، عَنْ خَالِدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَتِمُّوا الصَّفَّ الْأَوَّلَ ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ، وَإِنْ كَانَ نَقْصٌ فَلْيَكُنْ فِي الصَّفِّ الْمُؤَخَّرِ»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রথম কাতার পুরো কর, তারপর পরবর্তী কাতার যদি খালি থাকে তবে তা থাকবে শেষ কাতারে।

أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: أَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِوَجْهِهِ حِينَ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ فَقَالَ: «أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ وَتَرَاصُّوا؛ فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতে দাঁড়িয়ে তাকবির বলার আগে আমাদের দিকে মুখ করে বললেন, তোমরা কাতার সোজা কর এবং পরস্পর মিলে দাঁড়াও। কারণ আমি তোমাদেরকে আমার পিঠের পিছন দিক থেকেও দেখে থাকি।

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا نُوحٌ يَعْنِي ابْنَ قَيْسٍ، عَنْ ابْنِ مَالِكٍ وَهُوَ عَمْرٌو، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: «كَانَتْ امْرَأَةٌ تُصَلِّي خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَسْنَاءُ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ قَالَ: فَكَانَ بَعْضُ الْقَوْمِ يَتَقَدَّمُ فِي الصَّفِّ الْأَوَّلِ لِئَلَّا يَرَاهَا، وَيَسْتَأْخِرُ بَعْضُهُمْ حَتَّى يَكُونَ فِي الصَّفِّ الْمُؤَخَّرِ، فَإِذَا رَكَعَ نَظَرَ مِنْ تَحْتِ إِبْطِهِ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: ﴾وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِينَ﴿ [الحجر: 24]»

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

অতি সুন্দরী এক নারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পেছনে সালাত আদায় করতেন। তিনি বলেন, তখন গোত্রের মধ্য থেকে কেউ কেউ প্রথম কাতারে এগিয়ে যেত, যেন তাকে দেখতে না পায়। আর তাদের কেউ কেউ পেছনে থেকে যেত। যখন রুকূ করত তখন তারা বগলের নিচে থেকে তার দিকে তাকাত।তখন আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করলেন- “তোমাদের মাঝে যারা আগে অগ্রসর হয়ে গেছে তাদেরকেও আমি জানি আর যারা পেছনে রয়ে গেছে তাদেরকেও জানি”- (সূরা আল হিজর ১৫: ২৪)।

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا وَشَرُّهَا آخِرُهَا، وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا»

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: পুরুষদের কাতারের মধ্যে উত্তম হলো প্রথম কাতার আর নিকৃষ্ট কাতার হলো শেষ কাতার। আর মহিলাদের কাতারের মধ্যে উত্তম হলো শেষের কাতার এবং নিকৃষ্ট হলো প্রথম কাতার।

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى فِي أَصْحَابِهِ تَأَخُّرًا فَقَالَ: «تَقَدَّمُوا فَأْتَمُّوا بِي وَلْيَأْتَمَّ بِكُمْ مَنْ بَعْدَكُمْ، وَلَا يَزَالُ قَوْمٌ يَتَأَخَّرُونَ حَتَّى يُؤَخِّرَهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ»

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নাবী (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের মধ্যে লক্ষ্য করলেন সম্মুখের সারি থেকে পেছনে সরে থাকা। তিনি বললেন, তোমরা সম্মুখে এগিয়ে আসো এবং আমার অনুসরণ কর। আর তোমাদের পরবর্তীগণ তোমাদের অনুসরণ করবে। যে সম্প্রদায় সর্বদা সম্মুখের কাতার থেকে পেছনে থাকতে চাইবে, আল্লাহ তা'আলা তাদের পেছনে করে দিবেন।

أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَثْرُودٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللَّهُ، وَمَنْ قَطَعَ صَفًّا قَطَعَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ»

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি কাতার মিলায় আল্লাহ তা'আলা তার সাথে সম্পর্ক রাখে, আর যে ব্যক্তি কাতার বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহ তা'আলা তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ ابْنِ الْبَرَاءِ، عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ: «كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْبَبْتُ أَنْ أَكُونَ عَنْ يَمِينِهِ»

বারা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিছনে সালাত আদায় করতাম তখন আমি তাঁর ডান দিকে থাকতে পছন্দ করতাম।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন