৩/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিব হাদিস ৯০ - হাদিস প্রচার, এখলাস ও আখেরাতের নিয়ত
হাদীছ শোনা, পৌঁছিয়ে দেয়া ও তা লিখার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণ এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি মিথ্যারোপ করার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শনঃ
হাদিস প্রচার ও নিয়তের শিক্ষা: দুনিয়া নয়, আখেরাত লক্ষ্য
সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিব : ৯০
সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিবহাদিস নম্বর ৯০
(صحيح) وَعَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَبَلَّغَهُ غَيْرَهُ فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ. ثَلاثٌ لاَ يَغِلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُسْلِمٍ: إِخْلاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ، وَمُنَاصَحَةُ وُلاةِ الأَمْرِ وَلُزُومُ الْجَمَاعَةِ، فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مِنْ وَرَائِهِمْ. وَمَنْ كَانَتْ الدُّنْيَا نِيَّتُهُ فَرَّقَ اللَّهُ عَلَيْهِ أَمْرَهُ، وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ، وَمَنْ نِيَّتُهُ كَانَتْ الآخِرَةَ جَمَعَ اللَّهُ لَهُ شَمْلَهُ، وَجَعَلَ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ، وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا رَاغِمَةً.رواه ابن حبان في صحيحه والبيهقي بتقديم وتأخير وروى صدره إلى قوله ليس بفقيه أبو داود والترمذي وحسنه والنسائي وابن ماجه بزيادة عليهما
যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “আল্লাহ তা’আলা উজ্জ্বলতা দান করুন সেই ব্যক্তিকে যে আমাদের একটি হাদীস শ্রবণ করে অতঃপর তা অপরের কাছে পৌঁছে দেয়। কেননা জ্ঞান বহনকারী কতক ব্যক্তি তার চেয়ে অধিক জ্ঞানীর কাছে পৌঁছে দেয়। আর জ্ঞান বহনকারী কতক ব্যক্তি, নিজেই জ্ঞানী নয়। তিনটি বিষয়ে কোন মুসলিমের অন্তর হিংসা করে নাঃ(১) কর্মকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা(২) নেতৃবৃন্দকে নসীহত করা এবং(৩) (মুসলমানদের) জামাআতকে আঁকড়ে থাকা। কেননা এদের দোয়া অন্যান্যদেরকেও পরিবেষ্টিত করে।যে ব্যক্তির দুনিয়াটাই হল একক উদ্দেশ্য, আল্লাহ তার প্রতিটি বিষয়কে বিশৃঙ্খল করে দেন। দুচোখের সামনে শুধু অভাব-অনটন লাগিয়ে রাখেন। আর নির্ধারিত বস্তু ছাড়া দুনিয়ার কোন কিছুই তার কাছে আসে না। যে ব্যক্তির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র আখেরাত, আল্লাহ তার প্রতিটি বিষয় সুশৃঙ্খল করে দেন। তার অন্তরকে পরিতৃপ্ত করে দেন। আর দুনিয়ার সম্পদ তার সামনে লাঞ্ছিত অবস্থায় হাজির হয়।”
(হাদীসটি ইবনু হিব্বান (সহীহ) গ্রন্থে এবং বায়হাকী বাক্যগুলো কিছু আগে পিছে করে বর্ণনা করেন।) (আর আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনু মাজাহ হাদীসটির শুরু থেকে নিজেই জ্ঞানী নয়..। পর্যন্ত বর্ণনা করেন।)
সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিব হাদিস ৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কয়েকটি বড় শিক্ষা একসাথে এসেছে। প্রথমে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি হাদিস শুনে অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়, তার জন্য উজ্জ্বলতার দোয়া করা হয়েছে। কারণ কখনো জ্ঞান বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয়, যে তার চেয়ে বেশি বুঝতে পারে। এরপর তিনটি বিষয়ে অন্তরকে পরিষ্কার রাখার কথা এসেছে: আমলকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা, নেতৃবৃন্দকে নসীহত করা এবং মুসলমানদের জামাআত আঁকড়ে থাকা। শেষে দুনিয়াকে একমাত্র উদ্দেশ্য বানানো ও আখেরাতকে উদ্দেশ্য বানানোর ভিন্ন ফল বলা হয়েছে। তাই এই হাদিস জ্ঞান, নিয়ত ও জীবনলক্ষ্য—তিনটিকেই শুদ্ধ করতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদিস শুনে সঠিকভাবে অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া মূল্যবান কাজ।
- আমল আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা অন্তরের শুদ্ধতার অংশ।
- মুসলিম জামাআত আঁকড়ে থাকার গুরুত্ব হাদিসে এসেছে।
- দুনিয়াকে একমাত্র লক্ষ্য না করে আখেরাতকে লক্ষ্য করা উচিত।
