৩/১. অধ্যায়ঃ
(صحيح) عَنْ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ". رواه البخاري ومسلم وابن ماجه
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেনঃ “আল্লাহ যার কল্যান চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।” [১] (বুখারী, মুসলিম ও ইবনু মাজাহ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।) (হাসান লি গাইরিহী)হাদীছটি ত্বাবারানীও [কাবীর গ্রন্থে] বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনার বাক্য এরকমঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে একথা বলতে শুনেছিঃ يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا الْعِلْمُ بِالتَّعَلُّمِ، وَالْفِقْهُ بِالتَّفَقُّهِ، وَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ، وَإِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ" “হে লোক সকল! শিক্ষার্জনের মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করা যায়, গবেষণার মাধ্যমেই ফিক্বাহ অর্জন করা যায়। আর আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের ফিক্বহ (গভীর জ্ঞান) দান করেন।إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ {আল্লাহকে তো তাঁর বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই ভয় করে চলে।}(সূরা ফাতেরঃ ২৮)
[১] ফিকাহ শব্দের আসল অর্থ হচ্ছে বুঝা। বলা হয় (আরবি) লোকটি বুঝেছে ও জেনেছে। আর ক্বাফ অক্ষরে পেশ দিয়ে অর্থ হবে ফিকাহাবিদ ও আলেম। পরিভাষায় শরীয়তের বিদ্যাকেই ফিকাহ বলা হয়। বিশেষ করে শরীয়তের শাখা-প্রশাখাগত জ্ঞানকে ফিকহ বলা হয়। আবুস সা’আদাত একথাটি বলেছেন। শায়খ আলবানী বলেন, কিন্তু তাঁর এই কথার পক্ষে কোন দলীল নেই। কেননা দারেমী বর্ণনা করেন ইমরান মিনকারী থেকে। তিনি বলেন, আমি কোন একটি বিষয়ে হাসান বাসরীকে বললাম ফিকাহবিদগণ তো এরূপ বলেননি। তিনি বললেন, তোমার ধ্বংস হোক! তুমি প্রকৃত ফিকাহবিদ দেখেছো? প্রকৃত ফিকাহবিদ হচ্ছে সেই ব্যক্তি যিনি দুনিয়া বিমুখ, আখেরাত মুখী, ধর্মের যাবতীয় বিষয়ে পণ্ডিত এবং সর্বদা পালনকর্তার ইবাদতে লিপ্ত।
(صحيح لغيره) (68) وَعَنْ حذيفَةَ بْنَ الْيَمَانِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَضْلُ الْعِلْمِ خَيْرٌمِنْ فَضْلِ الْعِبَادَةِ، وخَيْرُ دِينِكُمُ الْوَرَعُ. رواه الطبراني في الأوسط والبزار بإسناد حسن
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “ইবাদতের মর্যাদার চেয়ে বিদ্যার মর্যাদা অনেক বেশি। তোমাদের দ্বীনের মাঝে সর্বোত্তম বিষয় হল পরহেযগারিতা।”
(ত্বাবরানী আওসাত গ্রন্থে ও উত্তম সনদে বাযযার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)
(صحيح) عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ،وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ، وَمَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ إِلَّا نَزَلَتْ عَلَيْهِمْ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمْ الرَّحْمَةُ وَحَفَّتْهُمْ الْمَلَائِكَةُ وَذَكَرَهُمْ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ، وَمَنْ بَطَّأَ بِهِ عَمَلُهُ لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نَسَبُهُ رواه مسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه وابن حبان في صحيحه والحاكم وقال صحيح على شرطهما
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি কোন মুমিনের দুনিয়ার বিপদ সমূহ [১] থেকে একটি বিপদ দূরীভূত করবে [২], আল্লাহ তা’আলা কেয়ামত দিবসের বিপদ সমূহ থেকে তার একটি বিপদ দূরীভূত করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন [৩] রাখবে। আল্লাহ তা’আলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত বা অভাবী ব্যক্তিকে [৪] সহযোগিতা করবে, আল্লাহ তা’আলা দুনিয়া ও আখেরাতে তাকে সহযোগিতা দান করবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইকে সাহায্য করবে, আল্লাহ ততক্ষণ তাকে সাহায্য করবেন। যে ব্যক্তি বিদ্যার্জনের জন্য রাস্তা চলবে, বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি পথ সহজ করে দেবেন।যখনই কিছু সংখ্যক মানুষ আল্লাহর কোন ঘরে [৫] একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে, তার পঠন-পাঠন ও গবেষণায় [৬] লিপ্ত হয় তখনই ফেরেশতাগণ তাদেরকে ঘিরে নেন। নাযিল হয় তাদের প্রতি প্রশান্তি ও দৃঢ়তা, তাদেরকে আচ্ছাদিত করে (আল্লাহর) রহমত এবং আল্লাহ তাঁর নিকটের ফেরেশতাদের মাঝে তাদের সম্পর্কে আলোচনা করেন। যার (মন্দ) কর্ম তাকে পিছে ফেলেছে [৭], তার বংশ মর্যাদা তাকে (জান্নাতের পথে) অগ্রবর্তী করতে পারবে না।”
[১] অর্থাৎ দুনিয়ার কোন বিপদ বা দুশ্চিন্তা ছোট-বড় যাই হোক না কেন। চাই তা ইজ্জত সংক্রান্ত হোক বা ধন-সম্পদের বিষয়ে হোক শরীয়ত সম্মত হলে তা দূর করে দিবে। কিন্তু শরীয়ত বহির্ভূত হারাম বা মাকরূহ হলে উক্ত বিপদ দূর করা জায়েয নয়।[২] অর্থাৎ তার সম্পদ বা সম্মান বা ইঙ্গিত বা মুখের কথা বা মধ্যস্থতা বা দু’আ বা সুপারিশ ইত্যাদি দ্বারা মুমিনের বিপদ দূর করবে।[৩] গোপন করার অর্থ হল, বস্ত্র দ্বারা শারীরিক ত্রুটি ঢেকে দিবে অথবা চারিত্রিক দোষ-ত্রুটি গোপন করবে। কিন্তু লোকটি যদি দুশ্চরিত্র হিসেবে পরিচিত থাকে, তবে তার অন্যায় গোপন করা জায়েয নয়। আর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ও উত্তম চরিত্রের লোক হলে তার দোষ-ত্রুটি গোপন করবে। নবী (ﷺ) বলেন, “ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন উত্তম চরিত্রের লোকদের দন্ডবিধি সংক্রান্ত অপরাধ ব্যতীত অন্যান্য ত্রুটি মার্জনা করে দিও।” (আবু দাউদ)। অর্থাৎ আল্লাহর অধিকার সম্পর্কিত অপরাধ যেমন ব্যভিচার, মদ্যপান ইত্যাদি গোপন করবে। কিন্তু মানুষের অধিকার সম্পর্কিত হলে যেমন খুন, চুরি ইত্যাদি। তবে তা গোপন করা হারাম; বরং এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো ওয়াজিব।[৪] অর্থাৎ ঋণে জর্জরিত ব্যক্তি। তাকে সহযোগিতা করার অর্থ হচ্ছে ঋণ মওকুফ করে দেয়া বা পরিশোধের সময় বৃদ্ধি করে দেয়া। অথবা উদ্দেশ্য হচ্ছে যে কোন অভাবী মানুষকে উপহার দিয়ে বা সাদকা প্রদান করে বা কর্য দিয়ে তাকে সহযোগিতা করা।[৫] এখানে ঘর বলতে উদ্দেশ্য হচ্ছে, মসজিদ বা মাদ্রাসা বা মক্তব ইত্যাদি যা দ্বীনী কাজের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।[৬] অর্থাৎ কুরআন শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়া, একজন অপরজনকে পড়ানো, তাফসীর করা, তার শাব্দিক অর্থ ও ব্যাখ্যা করা, গবেষণা করে মাসআলা-মাসায়েল বের করা ইত্যাদি।[৭] অর্থাৎ অসৎ কর্মের কারণে এবং নেক কর্মে উদাসীনতার কারণে যে লোক পিছনে পড়ে যাবে তার বংশ মর্যাদা ও বাপ-দাদার দোহাই কোন উপকারে আসবে না, তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে না। বান্দা যদি হাবশী গোলামও হয় তবু তার আনুগত্যশীল কর্ম তাকে অগ্রগামী করবে সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের উদাসীন লোকের উপর। আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহর নিকট অতি সম্মানিত সেই লোক যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে অধিক ভয় করে।”[৮] শায়খ আলবানী বলেন, হাদীসটির উল্লেখিত বাক্যগুলা ইবনে মাজাহ থেকে নেয়া। হুবহু এই বাক্যগুলো অন্যান্য গ্রন্থগুলোতে নেই। (হাদীসটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান ও হাকেম। হাকেম বলেন, বুখারী ও মুসলিমের শর্তনুযায়ী হাদীসটি সহীহ) [৮]
(حسن لغيره) وَعَنْ أبِيْ الدَّرْداَءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَطْلُبُ فِيهِ عِلْمًا سَلَكَ اللَّهُ بِهِ طَرِيقًا مِنْ طُرُقِ الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ الْعِلْمِ رِضًا بِمَا يَصْنَعُ وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَالْحِيتَانُ فِي الْمَاءِ وَإِنَّ فَضْلَ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ وَإِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ وَإِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ رواه أبو داود والترمذي وابن ماجه وابن حبان في صحيحه والبيهقي
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একথা বলতে শুনেছিঃ “যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে রাস্তা চলবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের একটি পথ সহজ করে দিবেন। আর নিঃসন্দেহে তালেবে ইলমের কাজে সন্তুষ্ট হয়ে ফেরেশতাগণ ডানাগুলো তাদের জন্যে বিছিয়ে দেন। আসমান সমূহ ও যমীনের মধ্যে যা কিছু আছে সবই আলেম ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে, এমনকি পানির মাছও তার জন্য ইস্তেগফার করে।সাধারণ আবেদ (ইবাদত গুজর) ব্যক্তির উপর একজন আলেম (জ্ঞানী) ব্যক্তির মর্যাদা ঠিক সেরূপ, যেরূপ সমস্ত নক্ষত্ররাজীর উপর চন্দ্রের মর্যাদা। নিঃসন্দেহে ওলামাগণ নবীদের উত্তরসূরী। নিশ্চয় নবীগণ কোন দীনার বা দিরহামের মীরাছ ছেড়ে যান না, বরং তাঁরা ইলম বা জ্ঞানের উত্তরাধিকার ছেড়ে যান। সুতরাং যে ব্যক্তি উহা গ্রহণ করল সে পরিপূর্ণ অংশ গ্রহণ করল।”
(হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান, বায়হাকী)
(حسن) وَعَنْ صَفْوَانُ بن عَسَّالٍ الْمُرَادِيُّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ مُتَّكِئٌ عَلَى بُرْدٍ لَهُ أحْمَرَ، فَقُلْتُ لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي جِئْتُ أَطْلُبُ الْعِلْمَ، فَقَالَ:"مَرْحَبًا بطالبِ الْعِلْمِ، إنَّ طَالِبَ الْعِلْمِ تَحُفُّهُ الْمَلائِكَةُ بِأَجْنِحَتِهَا، ثُمَّ يَرْكَبُ بَعْضُهُم بَعْضًا حَتَّى يَبْلُغُوا السَّمَاءَ الدُّنْيَا مِنْ مُحَبَّتِهِمْ لِمَا يَطْلُبُ.رواه أحمد والطبراني بإسناد جيد واللفظ له وابن حبان في صحيحه والحاكم وقال صحيح الإسناد وروى ابن ماجه نحوه باختصار
তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট এলাম। তখন তিনি একটি লাল চাদরে হেলান দেয়া অবস্থায় মসজিদে নববীতে বসে ছিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার নিকট এসেছি, উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন করব। তিনি বললেনঃ “তালেবে ইলম স্বাগতম। নিশ্চয় ফেরেশতাগণ জ্ঞানান্বেষণকারীকে ঘিরে রাখেন এবং ডানাগুলো দ্বারা তাকে ছায়া দান করেন। অতঃপর সে যা অন্বেষণ করে তার ভালবাসায় তাঁরা একে অপরের উপর সওয়ার হয়ে দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত পৌছে যায়।”
(আহমাদ, ত্বাবরানী উত্তম সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের উপরোক্ত বাক্যগুলো তুবরানী থেকে গৃহীত। হাদীসটি আরো বর্ণনা করেছেন ইবনু হিব্বান ও হাকেম। হাকেম বলেন, তার সনদ সহীহ। হাদীসটি অনুরূপভাবে ইবনে মাজাহ সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করেছেন।)
(صحيح) وروي عَنْ أنَسِ بْنِ ماَلِكٍقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ.رواه ابن ماجه وغيره
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “জ্ঞানার্জন প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উপর ফরজ।”
(ইবনু মাজাহ প্রমুখ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)
(حسن لغيره) وَعَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «سَبْعٌ يَجْرِي لِلْعَبْدِ أَجْرُهُنَّ وَهُوَ فِي قَبْرِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ: مَنْ عَلَّمَ عِلْمًا، أَوْ كَرَى نَهَرًا، أَوْ حَفَرَ بِئْرًا، أَوْ غَرَسَ نَخْلًا، أَوْ بَنَى مَسْجِدًا، أَوْ وَرَّثَ مُصْحَفًا، أَوْ تَرَكَ وَلَدًا يَسْتَغْفِرُ لَهُ بَعْدَ مَوْتِهِ».رواه البزار وأبو نعيم في الحلية والبيهقي
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “সাতটি আমলের সওয়াব বান্দার মৃত্যুর পর কবরে থাকা অবস্থায় তার জন্য জারি থাকে। যে ব্যক্তি কাউকে বিদ্যা শিক্ষা দিবে, অথবা নদী খনন করবে, অথবা কূপ খনন করবে, অথবা খেজুর গাছ লাগিয়ে যাবে, অথবা মসজিদ তৈরি করবে, অথবা পবিত্র কোরআনের উত্তরাধিকার রেখে যাবে অথবা এমন সন্তান রেখে যাবে যে মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।” (এসকল নেক কাজের সওয়াব মৃত্যুর পরও লাভ করতে থাকবে।)
(হাদীসটি বর্ণনা করেছেন বাযযার ও আবু নাঈম [হিলইয়া গ্রন্থে], আরো বর্ণনা করেছেন বায়হাকী]
(حسن ) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَلَا إِنَّ الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ مَلْعُونٌ مَا فِيهَا إِلَّا ذِكْرُ اللَّهِ وَمَا وَالَاهُ وَعَالِمًا وَمُتَعَلِّمًا.رواه الترمذي وابن ماجه والبيهقي وقال الترمذي حديث حسن
তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “দুনিয়াটা অভিশপ্ত এবং এর মধ্যস্থিত সব কিছুই অভিশপ্ত। তবে আল্লাহর যিকির, যিকিরের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়, আলেম (জ্ঞানী) ও জ্ঞানার্জনকারী (অভিশপ্ত নয়)। [১]”
[১] এখানে দুনিয়া বলতে উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহ তা’আলা থেকে যা দূরে রাখে তা সবই। অভিশপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর রহমতের নযর থেকে বঞ্চিত হওয়া। আল্লাহর যিকিরের সাথে সংশ্লিষ্ট দুনিয়াবী বস্তু আল্লাহ যা পছন্দ করেন। অর্থাৎ আল্লাহর আদেশ-নিষেধের সাথে সামঞ্জস্যশীল বিষয়। (হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী, ইবনু মাজহ ও বায়হাকী। তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি হাসান)
(صحيح) وَعَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الحِكْمَةَ فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا.رواه البخاري ومسلم
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “দুটি কাজ ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে হিংসা[১] করা বৈধ নয়।(১) এক ব্যক্তি, আল্লাহ তাকে সম্পদ দিয়েছেন এবং তাকে শক্তি দিয়েছেন সৎপথে উহা ব্যয় করতে।(২) আর এক ব্যক্তি আল্লাহ তাকে হিকমত তথা প্রজ্ঞা দিয়েছেন, সে তা দ্বারা বিচার ফায়সালা করে বা সিদ্ধান্ত নেয় এবং অন্যকে উহা শিক্ষা দান করে।” (হাদীসটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ও মুসলিম)
[১] আরবীতে الحسد শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়ঃ(১) হিংসা- অর্থাৎ কারো ভাল দেখে তার ধ্বংস কামনা করা। এটা হারাম।(২) হিংসা অর্থ গিবতা অর্থাৎ অন্যের ভাল দেখে তা নিজের জন্য আকাঙ্ক্ষা করা, এটা বৈধ। উল্লেখিত হাদীসে দ্বিতীয় অর্থটি উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
(صحيح) وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مَثَلَ مَا بَعَثَنِيَ اللَّهُ بِهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ الْهُدَى وَالْعِلْمِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَصَابَ أَرْضًا فَكَانَتْ مِنْهَا طَائِفَةٌ طَيِّبَةٌ قَبِلَتْ الْمَاءَ فَأَنْبَتَتْ الْكَلَأَ وَالْعُشْبَ الْكَثِيرَ فَكَانَ مِنْهَا أَجَادِبُ أَمْسَكَتْ الْمَاءَ فَنَفَعَ اللَّهُ بِهَا النَّاسَ فَشَرِبُوا مِنْهَا وَسَقَوْا وَزَرَعَوْا وَأَصَابَ طَائِفَةً أُخْرَى إِنَّمَا هِيَ قِيعَانٌ لَا تُمْسِكُ مَاءً وَلَا تُنْبِتُ كَلَأً فَذَلِكَ مَثَلُ مَنْ فَقُهَ فِي دِينِ اللَّهِ وَنَفَعَهُ بِمَا بَعَثَنِيَ اللَّهُ بِهِ فَعَلِمَ وَعَلَّمَ وَمَثَلُ مَنْ لَمْ يَرْفَعْ بِذَلِكَ رَأْسًا وَلَمْ يَقْبَلْ هُدَى اللَّهِ الَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ.رواه البخاري ومسلم
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “যে ইলম ও হেদায়াত দিয়ে আল্লাহ তা’আলা আমাকে প্রেরণ করেছে তার উদাহরণ হল যমীনে বৃষ্টিপাতের মত। কোন কোন জায়গার মাটি ভাল, পানি ধারণ করে এবং তাতে প্রচুর উদ্ভিদ ও ঘাস-পাতা উৎপন্ন হয়। আবার কোন জায়গার মাটি শক্ত, সেখানে উদ্ভিদ হয় না। তবে সে পানি ধরে রাখে। অতঃপর আল্লাহ তা দ্বারা মানুষের উপকার করেন। তারা সে পানি পান করে, সেচের কাজে ব্যবহার করে ও চাষাবাদ করে। আর এক ধরণের মাটি রয়েছে যা শক্ত ও খারাপ, পানিও ধরে রাখে না। উদ্ভিদও উৎপন্ন করে না।প্রথম দুপ্রকার মাটির উদাহরণ ঐ ব্যক্তির সাথে যে আল্লাহ তা’আলার দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করেছে, আর আল্লাহ যা দিয়ে আমাকে প্রেরণ করেছেন তা দ্বারা তাকে উপকৃত করেছেন। অতঃপর সে নিজে উহা শিখেছে ও অন্যকে শিক্ষা দিয়েছে। আর তৃতীয় প্রকার মাটির উদাহরণ ঐ ব্যক্তির সাথে, যে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে মাথা উঠায়নি এবং আল্লাহর হেদায়াত কবুল করেনি, যা দিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি।”
(হাদীসটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ও মুসলিম)