৪২/২০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯১৮ - কুরআনের হারামকে হালাল মনে করার সতর্কতা
(কুরআনকে ভিক্ষার উপায় বানানো নিষেধ)
কুরআনের হারামকে হালাল মনে করা ও ঈমানের দাবি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯১৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯১৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا أَبُو فَرْوَةَ، يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ عَنْ أَبِي الْمُبَارَكِ، عَنْ صُهَيْبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَا آمَنَ بِالْقُرْآنِ مَنِ اسْتَحَلَّ مَحَارِمَهُ». قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيِّ وَقَدْ خُولِفَ وَكِيعٌ فِي رِوَايَتِهِ. وَقَالَ مُحَمَّدٌ أَبُو فَرْوَةَ يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ الرُّهَاوِيُّ لَيْسَ بِحَدِيثِهِ بَأْسٌ إِلاَّ رِوَايَةَ ابْنِهِ مُحَمَّدٍ عَنْهُ فَإِنَّهُ يَرْوِي عَنْهُ مَنَاكِيرَ. قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ سِنَانٍ عَنْ أَبِيهِ هَذَا الْحَدِيثَ فَزَادَ فِي هَذَا الإِسْنَادِ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ صُهَيْبٍ وَلاَ يُتَابَعُ مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ عَلَى رِوَايَتِهِ وَهُوَ ضَعِيفٌ وَأَبُو الْمُبَارَكِ رَجُلٌ مَجْهُولٌ.
সুহাইব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোরআনের হারামসমূহকে হালাল মনে করে সে কোরআনের প্রতি ঈমান আনেনি।
আবূ ঈসা বলেনঃ উক্ত হাদীসের সনদ তেমন মজবুত নয়। ওয়াকীর রিওয়ায়াতের বিরোধিতা করা হয়েছে। মুহাম্মাদ বলেনঃ আবূ ফারওয়া ইয়াযীদ ইবনু সিনান আর-রাহাবীর হাদীস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। তবে তার পুত্র মুহাম্মাদ তার সূত্রে যে রিওয়ায়াত করেছেন সেগুলোর বক্তব্য আলাদা। কারণ তিনি তার আব্বার বরাতে অনেক মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ ইবনু সিনান তার আব্বার সূত্রে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং তার সনদে মুজাহিদ-সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব-সুহাইব (রহঃ) অতিরিক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদের রিওয়ায়াতের সমর্থক কোন রিওয়ায়াত নেই। ইনি একজন দুর্বল রাবী। আর আবুল মুবারাক একজন অপরিচিত ব্যক্তি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কুরআনের হারাম করা বিষয়গুলোকে হালাল মনে করে, সে কুরআনের প্রতি ঈমান আনেনি। বক্তব্যটি কুরআনের বিধানের প্রতি সম্মান ও আনুগত্যের গুরুত্ব তুলে ধরে। কুরআনে ঈমানের দাবি শুধু মুখের স্বীকৃতিতে সীমাবদ্ধ নয়; তার হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়ও এর সঙ্গে যুক্ত। তবে বর্ণনার শেষে ইমাম আবু ঈসা স্পষ্ট করেছেন যে এর সনদ শক্তিশালী নয়। একজন বর্ণনাকারী অজ্ঞাত এবং আরেকটি সূত্রের বর্ণনাকারী দুর্বল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এই নির্দিষ্ট বাক্যটিকে উদ্ধৃত করার সময় সনদের দুর্বলতা গোপন করা উচিত নয়। বর্ণনার মূল সতর্কতা হলো, কুরআনের স্পষ্ট নিষেধকে জেনে-শুনে বৈধ ঘোষণা করা কুরআনের প্রতি সত্যিকারের বিশ্বাসের বিপরীত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনে ঈমানের সঙ্গে তার হালাল-হারাম মেনে নেওয়ার সম্পর্ক রয়েছে।
- কুরআনের নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ ঘোষণা করার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- বর্ণনাটির সনদ শক্তিশালী নয় এবং একজন বর্ণনাকারী অজ্ঞাত।
- দুর্বল সনদের তথ্য উল্লেখ না করে বক্তব্যটি নিশ্চিত সহিহ হাদিস বলা উচিত নয়।
