৪/৮১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬১৪ - জুলুমে সহযোগিতা ও হারাম আয়
নামাজের ফজিলত
জালিম শাসকের সহযোগিতা ও হারাম উপার্জনের পরিণতি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৬১৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৬১৪
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ الْقَطَوَانِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا غَالِبٌ أَبُو بِشْرٍ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ عَائِذٍ الطَّائِيِّ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أُعِيذُكَ بِاللَّهِ يَا كَعْبُ بْنَ عُجْرَةَ مِنْ أُمَرَاءَ يَكُونُونَ مِنْ بَعْدِي فَمَنْ غَشِيَ أَبْوَابَهُمْ فَصَدَّقَهُمْ فِي كَذِبِهِمْ وَأَعَانَهُمْ عَلَى ظُلْمِهِمْ فَلَيْسَ مِنِّي وَلَسْتُ مِنْهُ وَلاَ يَرِدُ عَلَىَّ الْحَوْضَ وَمَنْ غَشِيَ أَبْوَابَهُمْ أَوْ لَمْ يَغْشَ فَلَمْ يُصَدِّقْهُمْ فِي كَذِبِهِمْ وَلَمْ يُعِنْهُمْ عَلَى ظُلْمِهِمْ فَهُوَ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ وَسَيَرِدُ عَلَىَّ الْحَوْضَ يَا كَعْبُ بْنَ عُجْرَةَ الصَّلاَةُ بُرْهَانٌ وَالصَّوْمُ جُنَّةٌ حَصِينَةٌ وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ . يَا كَعْبُ بْنَ عُجْرَةَ إِنَّهُ لاَ يَرْبُو لَحْمٌ نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ إِلاَّ كَانَتِ النَّارُ أَوْلَى بِهِ».قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى . وَأَيُّوبُ بْنُ عَائِذٍ الطَّائِيُّ يُضَعَّفُ وَيُقَالُ كَانَ يَرَى رَأْىَ الإِرْجَاءِ . وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَلَمْ يَعْرِفْهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى وَاسْتَغْرَبَهُ جِدًّا .
কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ হে কা’ব ইবনু উজরা! আমার পরে যেসব নেতার উদয় হবে আমি তাদের (খারাবী) থেকে তোমার জন্য আল্লাহ তা’আলার সহায়তা প্রার্থনা করি। যে ব্যক্তি তাদের দ্বারস্থ হলো (সান্নিধ্য লাভ করলো), তাদের মিথ্যাকে সত্য বললো এবং তাদের স্বৈরাচার ও যুলুম-নির্যাতনে সহায়তা করলো, আমার সাথে ঐ ব্যক্তির কোন সম্পর্ক নেই এবং এ ব্যক্তির সাথে আমারও কোন সংস্রব নেই। ঐ ব্যক্তি ‘কাওসার’ নামক হাউজের ধারে আমার নিকট আসতে পারবে না।অপরদিকে যে ব্যক্তি তাদের দ্বারস্থ হলো (তাদের কোন পদ গ্রহণ করলো) কিন্তু তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে মানল না এবং তাদের স্বৈরাচার ও যুলুম-নির্যাতনে সহায়তা করলো না, আমার সাথে এ ব্যক্তির সম্পর্ক রয়েছে এবং এ ব্যক্তির সাথে আমারও সম্পর্ক রয়েছে। শীঘ্রই সে ‘কাওসার’ নামক হাউজের কাছে আমার সাথে দেখা করবে।হে কা’ব ইবনু উজরা! নামাজ হল (মুক্তির) সনদ, রোজা হল মজবুত ঢাল (জাহান্নামের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক) এবং সাদাকা (যাকাত বা দান-খায়রাত) গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়, যেভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়। হে কা’ব ইবনু উজরা! হারাম (পন্থায় উপার্জিত সম্পদ) দ্বারা সৃষ্ট ও পরিপুষ্ট গোশত (দেহ) -এর জন্য (জাহান্নামের) আগুনই উপযুক্ত।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র উল্লেখিত সূত্রেই হাদীসটি জেনেছি। আমি মুহাম্মাদকে (বুখারীকে) এ হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনিও শুধুমাত্র উবাইদুল্লাহ ইবনু মূসার সূত্রেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটাকে খুবই গারীব বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬১৪-এর সারসংক্ষেপ
রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কা’ব ইবনু উজরাহ (রাঃ)-কে ভবিষ্যতের কিছু নেতার বিষয়ে সতর্ক করেন। যারা তাদের কাছে গিয়ে মিথ্যাকে সত্য বলবে এবং জুলুমে সাহায্য করবে, তাদের সঙ্গে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সম্পর্ক নেই এবং তারা হাউজে তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারবে না বলে বর্ণনায় এসেছে। বিপরীতে, কেউ তাদের কাছে গেলেও যদি মিথ্যাকে সত্য না বলে এবং জুলুমে সাহায্য না করে, তার জন্য সম্পর্ক ও হাউজে সাক্ষাতের কথা বলা হয়েছে। এরপর সালাতকে প্রমাণ, রোজাকে মজবুত ঢাল এবং সদাকাকে গুনাহ নেভানোর কারণ বলা হয়েছে। শেষে হারাম পথে অর্জিত সম্পদে গড়ে ওঠা দেহের জন্য আগুনের কঠিন সতর্কতা এসেছে। তাই হাদিসটি ক্ষমতাবানের অন্যায় সমর্থন না করা, ইবাদত ধরে রাখা, দান করা এবং হালাল উপার্জনের প্রতি সতর্ক থাকার শিক্ষা একসঙ্গে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শাসকের মিথ্যাকে সত্য বলা ও জুলুমে সাহায্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- সালাতকে প্রমাণ, রোজাকে ঢাল এবং সদাকাকে গুনাহ মুছার কারণ বলা হয়েছে।
- ক্ষমতার কাছে থাকা নিজে মূল সমস্যা নয়; মিথ্যা সমর্থন ও জুলুমে সহায়তাই কঠিনভাবে নিন্দিত।
- হারাম উপার্জনে দেহ গড়ে তোলার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
