২৩/৩৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৯৫ - সম্পদ, অসিয়ত ও পরিবারের দায়িত্ব
সাদ ইবনু খাওলা (রাঃ)-এর প্রতি নবী (ﷺ)-এর দুঃখ প্রকাশ।
অসিয়ত ও সম্পদ: এক তৃতীয়াংশও বেশি—পরিবারের হক
সহীহ বুখারী : ১২৯৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১২৯৫
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَعُودُنِي عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ مِنْ وَجَعٍ اشْتَدَّ بِي فَقُلْتُ إِنِّي قَدْ بَلَغَ بِي مِنَ الْوَجَعِ وَأَنَا ذُو مَالٍ، وَلاَ يَرِثُنِي إِلاَّ ابْنَةٌ، أَفَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثَىْ مَالِي قَالَ " لاَ ". فَقُلْتُ بِالشَّطْرِ فَقَالَ " لاَ " ثُمَّ قَالَ " الثُّلُثُ وَالثُّلْثُ كَبِيرٌ ـ أَوْ كَثِيرٌ ـ إِنَّكَ أَنْ تَذَرَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ، وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللَّهِ إِلاَّ أُجِرْتَ بِهَا، حَتَّى مَا تَجْعَلُ فِي فِي امْرَأَتِكَ ". فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أُخَلَّفُ بَعْدَ أَصْحَابِي قَالَ " إِنَّكَ لَنْ تُخَلَّفَ فَتَعْمَلَ عَمَلاً صَالِحًا إِلاَّ ازْدَدْتَ بِهِ دَرَجَةً وَرِفْعَةً، ثُمَّ لَعَلَّكَ أَنْ تُخَلَّفَ حَتَّى يَنْتَفِعَ بِكَ أَقْوَامٌ وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُونَ، اللَّهُمَّ أَمْضِ لأَصْحَابِي هِجْرَتَهُمْ، وَلاَ تَرُدَّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهِمْ، لَكِنِ الْبَائِسُ سَعْدُ ابْنُ خَوْلَةَ، يَرْثِي لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ مَاتَ بِمَكَّةَ ".
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বিদায় হজে একটি কঠিন রোগে আমি আক্রান্ত হলে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার খোঁজ খবর নেয়ার জন্য আসতেন। একদা আমি তাঁর কাছে নিবেদন করলাম, আমার রোগ চরমে পৌঁছেছে আর আমি সম্পদশালী। একমাত্র কন্যা ছাড়া কেউ আমার উত্তরাধিকারী নেই। তবে আমি কি আমার সম্পদের দু’ তৃতীয়াংশ সদকা করতে পারি? তিনি বললেন, না। আমি আবার নিবেদন করলাম, তাহলে অর্ধেক। তিনি বললেন, না।অতঃপর তিনি বললেন, এক তৃতীয়াংশ আর এক তৃতীয়াংশও বিরাট পরিমাণ অথবা অধিক। তোমরা ওয়ারিসদের অভাবমুক্ত রেখে যাওয়া, তাদের খালি হাতে পরমুখাপেক্ষী অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। [১৫] আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তুমি যে কোন ব্যয় করো না কেন, তোমাকে তার বিনিময়ে প্রদান করা হবে। এমনকি যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দিবে (তারও প্রতিদান পাবে)।আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! (আফসোস) আমি আমার সাথীদের হতে পিছনে থেকে যাব? তিনি বললেন, তুমি যদি পিছনে থেকে নেক আমল করতে থাক, তাহলে তাতে তোমার মর্যাদা ও উন্নতি বৃদ্ধিই পেতে থাকবে। তাছাড়া, সম্ভবত, তুমি পিছনে (থেকে যাবে)। যার ফলে তোমার দ্বারা অনেক কওম উপকার লাভ করবে। আর অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হে আল্লাহ্! আমার সাহাবীগণের হিজরত বলবৎ রাখুন। পশ্চাতে ফিরিয়ে দিবেন না। কিন্তু আফসোস! সা‘দ ইব্নু খাওলার জন্য (এ বলে) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করছিলেন, যেহেতু মক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
[১] বর্তমান সমাজে কিছু অতি পরহেজগার লোক দেখা যায় যারা নিজেদের ওয়ারিসদের বঞ্চিত করে মালের সিংহভাগ দান করে থাকেন, কেউ বা মেয়েদের বঞ্চিত করেন আবার কেউ বা সমাবেশ করে লিখে দিয়ে যান তাদেরকে এ হাদীস থেকে শিক্ষা নেয়া দরকার।
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সম্পদ, অসিয়ত, পরিবার এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয়ের শিক্ষা এসেছে। সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) কঠিন অসুস্থ হলে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর খোঁজ নিতে আসতেন। তিনি জানতে চান, তাঁর সম্পদের দুই তৃতীয়াংশ সদকা করতে পারবেন কি না। নবী (صلى الله عليه وسلم) না বলেন। অর্ধেকের কথা বললেও না বলেন। শেষে তিনি বলেন, এক তৃতীয়াংশ; আর এক তৃতীয়াংশও বড় পরিমাণ। এরপর তিনি বলেন, উত্তরাধিকারীদের অভাবমুক্ত রেখে যাওয়া, তাদের মানুষের কাছে হাত পাতার অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে ব্যয় করা হয়, এমনকি স্ত্রীর মুখে খাবার তুলে দেওয়াও সওয়াবের কারণ। এই হাদিস দান ও পরিবারের দায়িত্বের ভারসাম্য শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অসিয়তের ক্ষেত্রে এক তৃতীয়াংশও বড় পরিমাণ হিসেবে বলা হয়েছে।
- পরিবারকে অভাবমুক্ত রেখে যাওয়া উত্তম।
- আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বৈধ ব্যয় সওয়াবের কারণ।
- স্ত্রীর জন্য খরচ করাও নেকির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
