২৩/৭৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৫৫ - ইবনু সাইয়াদের কথা শুনতে নবী صلى الله عليه وسلم-এর অনুসন্ধান
কোন বালক ইসলাম গ্রহণ করে মারা গেলে তার জন্য (জানাজার) সালাত আদায় করা যাবে কি? বালকের নিকট ইসলামের দাওয়াত দেয়া যাবে কি?
وَقَالَ الْحَسَنُ وَشُرَيْحٌ وَإِبْرَاهِيمُ وَقَتَادَةُ إِذَا أَسْلَمَ أَحَدُهُمَا فَالْوَلَدُ مَعَ الْمُسْلِمِ وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا مَعَ أُمِّهِ مِنَ الْمُسْتَضْعَفِينَ وَلَمْ يَكُنْ مَعَ أَبِيهِ عَلَى دِينِ قَوْمِهِ وَقَالَ الْإِسْلَامُ يَعْلُو وَلَا يُعْلَىহাসান, শুরাইহ, ইবরাহীম ও কাতাদা (রহঃ) বলেছেন, পিতা-মাতার কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে সন্তান মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে থাকবে। ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁর মায়ের সাথে ‘মুস্তায‘আফীন’ (দুর্বল ও নির্যাতিত জামা‘আত)-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তাঁকে তাঁর পিতা (আব্বাস)-এর সাথে ‘তার কওমের (মুশরিকদের) ধর্মে গণ্য করা হত না। নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: ইসলাম বিজয়ী হয়, বিজিত হয় না।"
ইবনু সাইয়াদের গুনগুন আওয়াজ: দাজ্জাল প্রসঙ্গে অনুসন্ধান
সহীহ বুখারী : ১৩৫৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩৫৫
وَقَالَ سَالِمٌ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ انْطَلَقَ بَعْدَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ إِلَى النَّخْلِ الَّتِي فِيهَا ابْنُ صَيَّادٍ وَهُوَ يَخْتِلُ أَنْ يَسْمَعَ مِنِ ابْنِ صَيَّادٍ شَيْئًا قَبْلَ أَنْ يَرَاهُ ابْنُ صَيَّادٍ فَرَآهُ النَّبِيُّ ﷺ وَهُوَ مُضْطَجِعٌ، يَعْنِي فِي قَطِيفَةٍ لَهُ فِيهَا رَمْزَةٌ أَوْ زَمْرَةٌ، فَرَأَتْ أُمُّ ابْنِ صَيَّادٍ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ يَتَّقِي بِجُذُوعِ النَّخْلِ فَقَالَتْ لاِبْنِ صَيَّادٍ يَا صَافِ ـ وَهْوَ اسْمُ ابْنِ صَيَّادٍ ـ هَذَا مُحَمَّدٌ ﷺ. فَثَارَ ابْنُ صَيَّادٍ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " لَوْ تَرَكَتْهُ بَيَّنَ ".وَقَالَ شُعَيْبٌ فِي حَدِيثِهِ فَرَفَصَهُ رَمْرَمَةٌ، أَوْ زَمْزَمَةٌ. وَقَالَ إِسْحَاقُ الْكَلْبِيُّ وَعُقَيْلٌ رَمْرَمَةٌ. وَقَالَ مَعْمَرٌ رَمْزَةٌ.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
অতঃপর রাসূল (ﷺ) এবং উবাই ইব্নু কা’ব (রাঃ) ঐ খেজুরের বাগানের দিকে গমন করলেন যেখানে ইব্নু সাইয়াদ ছিল। ইব্নু সাইয়াদ তাকে দেখে ফেলার পূর্বেই ইব্নু সাইয়াদের কিছু কথা তিনি শুনে নিতে চাচ্ছিলেন। নবী (ﷺ) তাকে একটি চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখলেন। যার ভিতর হতে তার গুনগুন আওয়াজ শোনা [১] যাচ্ছিল।ইব্নু সাইয়াদের মা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে দেখতে পেল যে, তিনি খেজুর (গাছের) কাণ্ডের আড়ালে আত্মগোপন করে চলছেন। সে তখন ইব্নু সাইয়াদকে ডেকে বলল, ও সাফ! (এটি ইব্নু সাইয়াদের ডাক নাম) এই যে মুহাম্মাদ! তখন ইব্নু সাইয়াদ লাফিয়ে উঠল। নবী (ﷺ) ইরশাদ করলেনঃ সে (ইব্নু সাইয়াদের মা) তাকে (যথাবস্থায়) থাকতে দিলে (ব্যাপারটি) স্পষ্ট হয়ে যেত।শুআইব (রহঃ) তাঁর হাদীসে (فَرَفَضَهُ) বলেন, এবং সন্দেহের সাথে বলেন, (رَمْرَمَةُ) অথবা (زَمْزَمَةُ) এবং উকাইল (রহঃ) বলেছেন, (رَمْرَمَةٌ) আর মা’মার বলেছেন, رَمْزَةٌ।
[১] (رَمْرَمَة، زَمْزَمَة، رَمْزَةُ، رَمْزَمَةُ) শব্দগুলো সমার্থকবোধক। অর্থাৎ অস্পষ্ট ও গুনগুন শব্দ।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু সাইয়াদের বিষয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর আরেকটি ঘটনা এসেছে। রাসূল صلى الله عليه وسلم এবং উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) সেই খেজুর বাগানে যান, যেখানে ইবনু সাইয়াদ ছিল। উদ্দেশ্য ছিল, সে নবী صلى الله عليه وسلم-কে দেখে ফেলার আগে তার কিছু কথা শুনে নেওয়া। নবী صلى الله عليه وسلم তাকে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখেন, আর তার ভেতর থেকে গুনগুন আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। তখন ইবনু সাইয়াদের মা নবী صلى الله عليه وسلم-কে দেখে তাকে ডেকে বলে, এই যে মুহাম্মাদ। সে লাফিয়ে ওঠে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, সে যদি তাকে ওই অবস্থায় থাকতে দিত, বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যেত। এই হাদিসে অনুসন্ধান, সতর্কতা এবং অসম্পূর্ণ তথ্যের সীমা বোঝা যায়। দাজ্জাল প্রসঙ্গে নিশ্চিত কথা বলার আগে নবী صلى الله عليه وسلم নিজে পর্যবেক্ষণ করেছেন—এটাই বড় শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কোনো জটিল বিষয়ে আগে পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের গুরুত্ব দেখা যায়।
- ইবনু সাইয়াদের অবস্থা বুঝতে নবী صلى الله عليه وسلم সরাসরি শুনতে চেয়েছিলেন।
- মায়ের ডাকে অনুসন্ধান অসম্পূর্ণ থেকে যায়—এ কথা হাদিসেই এসেছে।
- সন্দেহপূর্ণ বিষয়ে সীমা মেনে কথা বলা দরকার।
