৫৩/১৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭০৯ - ঋণ পরিশোধ ও বরকতের দোয়া
পাওনাদারদের মধ্যে এবং ওয়ারিসদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়া এবং এ ব্যাপারে অনুমান করা।
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَا بَأْسَ أَنْ يَتَخَارَجَ الشَّرِيكَانِ فَيَأْخُذَ هَذَا دَيْنًا وَهَذَا عَيْنًا فَإِنْ تَوِيَ لِأَحَدِهِمَا لَمْ يَرْجِعْ عَلَى صَاحِبِهِইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, দুই অংশীদার যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে, একজন বাকী আর একজন নগদ নিবে, তাতে কোনো ক্ষতি নেই। আর কারো সম্পদ নষ্ট হলে সে তার সাথীর নিকট দাবী করতে পারবে না।"
ঋণ পরিশোধে বরকত: জাবির রাঃ-এর খেজুরের ঘটনা
সহীহ বুখারী : ২৭০৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭০৯
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ تُوُفِّيَ أَبِي وَعَلَيْهِ دَيْنٌ، فَعَرَضْتُ عَلَى غُرَمَائِهِ أَنْ يَأْخُذُوا التَّمْرَ بِمَا عَلَيْهِ، فَأَبَوْا وَلَمْ يَرَوْا أَنَّ فِيهِ وَفَاءً، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ " إِذَا جَدَدْتَهُ فَوَضَعْتَهُ فِي الْمِرْبَدِ آذَنْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ".فَجَاءَ وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فَجَلَسَ عَلَيْهِ، وَدَعَا بِالْبَرَكَةِ ثُمَّ قَالَ " ادْعُ غُرَمَاءَكَ، فَأَوْفِهِمْ ". فَمَا تَرَكْتُ أَحَدًا لَهُ عَلَى أَبِي دَيْنٌ إِلاَّ قَضَيْتُهُ، وَفَضَلَ ثَلاَثَةَ عَشَرَ وَسْقًا سَبْعَةٌ عَجْوَةٌ، وَسِتَّةٌ لَوْنٌ أَوْ سِتَّةٌ عَجْوَةٌ وَسَبْعَةٌ لَوْنٌ، فَوَافَيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ الْمَغْرِبَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَضَحِكَ فَقَالَ " ائْتِ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ فَأَخْبِرْهُمَا ". فَقَالاَ لَقَدْ عَلِمْنَا إِذْ صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَا صَنَعَ أَنْ سَيَكُونُ ذَلِكَ.وَقَالَ هِشَامٌ عَنْ وَهْبٍ عَنْ جَابِرٍ صَلاَةَ الْعَصْرِ. وَلَمْ يَذْكُرْ أَبَا بَكْرٍ وَلاَ ضَحِكَ، وَقَالَ وَتَرَكَ أَبِي عَلَيْهِ ثَلاَثِينَ وَسْقًا دَيْنًا. وَقَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ عَنْ وَهْبٍ عَنْ جَابِرٍ صَلاَةَ الظُّهْرِ.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার পিতা মারা গেলেন, আর তার কিছু ঋণ ছিল। আমি তাঁর ঋণের বিনিময়ে পাওনাদারদের খেজুর নেয়ার কথা বললাম। তাতে ঋণ পরিশোধ হবে না বলে তারা তা নিতে অস্বীকার করল। আমি তখন নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে এ বিষয়ে তাঁর নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, খেজুর পেড়ে মাচায় রেখে আল্লাহর রাসূলকে খবর দিও।(অতঃপর) তিনি এলেন এবং তাঁর সঙ্গে আবু বক্র ও ‘উমর (রাঃ) -ও ছিলেন। তিনি তার উপর বসলেন এবং বরকতের দোয়া করলেন। পরে বললেন, তোমার পাওনাদারদের ডাক এবং তাদের প্রাপ্য পরিশোধ করে দাও। অতঃপর আমার পিতার পাওনাদারদের কেউ এমন ছিল না যার ঋণ পরিশোধ করিনি। অতঃপরও (আমার কাছে) তের ওয়াসক খেজুর উদ্বৃত্ত রয়ে গেল। সাত ওয়াসক আজওয়া খেজুর আর ছয় ওয়াসক নিম্নমানের খেজুর কিংবা ছয় ওয়াসক আজওয়া ও সাত ওয়াসক নিম্নমানের খেজুর।অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে মাগরিবের সালাত আদায় করলাম এবং তাঁকে ব্যাপারটা বললাম। তিনি হাসলেন এবং বললেন, আবূ বক্র ও ‘উমরের কাছে যাও এবং দু’জনের কাছে খবরটা দাও। তাঁরা বললেন, ‘আমরা আগেই জানতাম যে, যখন আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) যা করার তা যেহেতু করেছেন, তখন অবশ্য এ রকমই হবে।’হিশাম (রহঃ) ওয়াহাব (রহঃ)-এর মাধ্যমে জাবির (রাঃ) হতে (বর্ণনায়) ‘আসরের সালাতের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি আবূ বকর (রাঃ)-এর কথা এবং আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর হাসার কথা উল্লেখ করেননি। তিনি বর্ণনা করেছেন, [জাবির (রাঃ) বলেছেন] আমার পিতা নিজের উপর ত্রিশ ওয়াসক ঋণ রেখে মারা গিয়েছেন। ইব্নু ইসহাক (রহঃ) ওয়াহাব (রহঃ)-এর মাধ্যমে জাবির (রাঃ) হতে যুহরের সালাতের কথা বলেছেন।
[১]. এক ওয়াসক প্রায় ছয় মন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির (রাঃ)-এর পিতার ঋণের ঘটনা এসেছে। তাঁর পিতা ঋণ রেখে মারা যান। জাবির (রাঃ) পাওনাদারদের খেজুর নিতে বললেন, কিন্তু তারা মনে করল এতে ঋণ পূর্ণ হবে না। তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে বিষয়টি জানান। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, খেজুর পেড়ে মাচায় রেখে তাঁকে খবর দিতে। তিনি এলেন, খেজুরের উপর বসে বরকতের দোয়া করলেন এবং পাওনাদারদের ডেকে প্রাপ্য পরিশোধ করতে বললেন। জাবির (রাঃ) সব ঋণ পরিশোধ করলেন, তবু খেজুর বেঁচে রইল। এখানে ঋণ পরিশোধের গুরুত্ব, পাওনাদারের হক, নবীজির দোয়ার বরকত এবং সঠিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার শিক্ষা আছে। হাদিসটি ঋণকে হালকা করে না; বরং তা পরিশোধে চেষ্টা করার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋণ পরিশোধের দায়িত্বকে গুরুত্ব দিতে হয়।
- পাওনাদারের হক আদায় করা ন্যায়ের অংশ।
- সমস্যায় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পরামর্শ নেওয়ার সুন্দর দৃষ্টান্ত আছে।
- বরকতের দোয়া আল্লাহর রহমত লাভের একটি কারণ হতে পারে।
