৫৫/৩৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৭৮ - উসমান (রাঃ)-এর দান ও ওয়াকফ শিক্ষা
যখন কেউ জমি বা কূপ ওয়াকফ করে এবং অপরাপর মুসলমানদের মত সে নিজেও পানি নেয়ার শর্ত আরোপ করে।
وَأَوْقَفَ أَنَسٌ دَارًا فَكَانَ إِذَا قَدِمَهَا نَزَلَهَا وَتَصَدَّقَ الزُّبَيْرُ بِدُورِهِ وَقَالَ لِلْمَرْدُودَةِ مِنْ بَنَاتِهِ أَنْ تَسْكُنَ غَيْرَ مُضِرَّةٍ وَلَا مُضَرٍّ بِهَا فَإِنِ اسْتَغْنَتْ بِزَوْجٍ فَلَيْسَ لَهَا حَقٌّ وَجَعَلَ ابْنُ عُمَرَ نَصِيبَهُ مِنْ دَارِ عُمَرَ سُكْنَى لِذَوِي الْحَاجَةِ مِنْ آلِ عَبْدِ اللَّهِআনাস (রাঃ) একটি ঘর ওয়াকফ করেন। যখন তিনি সেখানে আসতেন, তখন তাতে অবস্থান করতেন। যুবাইর (রাঃ) তার ঘর সদাকা করে তার কন্যাদের মধ্যে যারা তালাক প্রাপ্তা তাদের সম্পর্কে বলেছিলেন যে, কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন না করে তারা এখানে বসবাস করতে পারবে; এবং তাদেরও যেন কোনো কষ্ট দেয়া না হয়। তবে তারা যদি স্বামী গ্রহণ করে অভাবমুক্ত হয়ে যায় তাহলে সেখানে তাদের হক থাকবে না। ইবন ‘উমার (রাঃ) তার পিতা ‘উমার (রাঃ)-এর ওয়ারিস হিসেবে যে ঘরটি পেয়েছিলেন সেটি তার অভাবগ্রস্ত বংশধরদের বসবাসের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছিলেন।"
উসমান (রাঃ)-এর দান: রুমা কূপ, তাবুক ও ওয়াকফের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৭৭৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭৭৮
وَقَالَ عَبْدَانُ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عُثْمَانَ ـ رضى الله عنه ـ حَيْثُ حُوصِرَ أَشْرَفَ عَلَيْهِمْ وَقَالَ أَنْشُدُكُمْ وَلاَ أَنْشُدُ إِلاَّ أَصْحَابَ النَّبِيِّ ﷺ، أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «مَنْ حَفَرَ رُومَةَ فَلَهُ الْجَنَّةُ ". فَحَفَرْتُهَا، أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنَّهُ قَالَ " مَنْ جَهَّزَ جَيْشَ الْعُسْرَةِ فَلَهُ الْجَنَّةُ ". فَجَهَّزْتُهُمْ. قَالَ فَصَدَّقُوهُ بِمَا قَالَ. وَقَالَ عُمَرُ فِي وَقْفِهِ لاَ جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهُ أَنْ يَأْكُلَ. وَقَدْ يَلِيهِ الْوَاقِفُ وَغَيْرُهُ فَهْوَ وَاسِعٌ لِكُلٍّ.
আবূ ‘আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘উসমান (রাঃ) অবরুদ্ধ হলে তিনি উপর থেকে সাহাবীদের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে বললেন, আমি আপনাদের আল্লাহ্র কসম দিয়ে বলছি, আর আমি নবী (ﷺ) -এর সাহাবীদেরকেই আল্লাহ্র কসম দিয়ে বলছি, আপনারা কি জানেন না যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছিলেন, যে ব্যক্তি রূমার কূপটি খনন করে দিবে সে জান্নাতী এবং আমি তা খনন করে দিয়েছি। আপনারা কি জানেন না যে, তিনি বলেছিলেন, যে ব্যক্তি তাবূকের যুদ্ধে সেনাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিবে, সে জান্নাতী এবং আমি তা ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, সাহাবীগণ তাঁর কথা সত্য বলে স্বীকার করলেন।‘উমর (রাঃ) তাঁর কথা সম্পর্কে বলেছিলেন, মুতওয়াল্লীর জন্য তা থেকে আহার করতে কোন দোষ নেই। ওয়াক্ফকারী কখনো নিজে মুতওয়াল্লী হয় আবার কখনো অপর ব্যক্তি হয়। এ ব্যাপারে সকলের জন্য প্রশস্ততা রয়েছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় উসমান (রাঃ)-এর দুটি বড় দানের কথা এসেছে। অবরুদ্ধ অবস্থায় তিনি সাহাবীদের স্মরণ করিয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছিলেন—যে রুমা কূপ খনন করবে তার জন্য জান্নাত; আর তিনি তা করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, যে তাবুকের সেনাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করবে তার জন্য জান্নাত; আর তিনিই সে ব্যবস্থা করেছিলেন। সাহাবীরা তাঁর কথাকে সত্য বলে স্বীকার করেন। এরপর উমর (রাঃ)-এর ওয়াকফ সম্পর্কেও বলা হয়েছে, মুতাওয়াল্লী তা থেকে খেতে পারে, আর ওয়াকফকারী নিজেও কখনো মুতাওয়াল্লী হতে পারে, অন্য কেউও হতে পারে। এই বর্ণনায় দান, জনকল্যাণ, আল্লাহর পথে ব্যয় এবং ওয়াকফ পরিচালনার শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জনকল্যাণে সম্পদ ব্যয় করা বড় নেক কাজের পথ।
- রুমা কূপ ও তাবুকের প্রস্তুতিতে উসমান (রাঃ)-এর দান স্মরণীয়।
- ওয়াকফের মুতাওয়াল্লী সঙ্গতভাবে ব্যবহার করতে পারে।
- ওয়াকফকারী নিজে বা অন্য কেউ দায়িত্ব নিতে পারে।
