৫৭/১৫. অধ্যায়ঃ
যিনি বলেন, এক পঞ্চমাংশ মুসলিমদের প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে।
مَا سَأَلَ هَوَازِنُ النَّبِيَّ ﷺ بِرَضَاعِهِ فِيهِمْ فَتَحَلَّلَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَمَا كَانَ النَّبِيُّ ﷺ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعِدُ النَّاسَ أَنْ يُعْطِيَهُمْ مِنَ الْفَيْءِ وَالْأَنْفَالِ مِنَ الْخُمُسِ وَمَا أَعْطَى الْأَنْصَارَ وَمَا أَعْطَى جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ تَمْرَ خَيْبَرَএর প্রমাণ: হাওয়াযিন, তাদের গোত্রে নবী (ﷺ)-এর দুধ পানের সৌজন্যে তারা যে আবেদন করছিল, তারই কারণে মুসলিমদের নিকট থেকে তাদের সে দাবী আদায় করিয়ে নেন। ‘নবী (ﷺ) লোকদেরকে ফায় ও গনীমত-এর অংশ নিকট হতে খুমুস দানের যে প্রতিশ্রুতি দান করতেন।’ ‘আর যা তিনি আনসারদের প্রদান করেছেন’ এবং ‘যা তিনি খায়বারের খেজুর হতে জাবির ইবন ‘আবদুল্লাহ (রা.)-কে দান করেছেন।’"
সহিহ বুখারী : ৩১৩২
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৩১৩২
حَدَّثَنَا سَعِيْدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ وَزَعَمَ عُرْوَةُ أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ وَمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ أَخْبَرَاهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ حِيْنَ جَاءَهُ وَفْدُ هَوَازِنَ مُسْلِمِيْنَ فَسَأَلُوْهُ أَنْ يَرُدَّ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ وَسَبْيَهُمْ فَقَالَ لَهُمْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَحَبُّ الْحَدِيْثِ إِلَيَّ أَصْدَقُهُ فَاخْتَارُوْا إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ إِمَّا السَّبْيَ وَإِمَّا الْمَالَ وَقَدْ كُنْتُ اسْتَأْنَيْتُ بِهِمْ وَقَدْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم انْتَظَرَ آخِرَهُمْ بِضْعَ عَشْرَةَ لَيْلَةً حِيْنَ قَفَلَ مِنْ الطَّائِفِ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرُ رَادٍّ إِلَيْهِمْ إِلَّا إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ قَالُوْا فَإِنَّا نَخْتَارُ سَبْيَنَا فَقَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمُسْلِمِيْنَ فَأَثْنَى عَلَى اللهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ إِخْوَانَكُمْ هَؤُلَاءِ قَدْ جَاءُوْنَا تَائِبِيْنَ وَإِنِّيْ قَدْ رَأَيْتُ أَنْ أَرُدَّ إِلَيْهِمْ سَبْيَهُمْ مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُطَيِّبَ فَلْيَفْعَلْ وَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَكُوْنَ عَلَى حَظِّهِ حَتَّى نُعْطِيَهُ إِيَّاهُ مِنْ أَوَّلِ مَا يُفِيءُ اللهُ عَلَيْنَا فَلْيَفْعَلْ فَقَالَ النَّاسُ قَدْ طَيَّبْنَا ذَلِكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ لَهُمْ فَقَالَ لَهُمْ رَسُوْلُ اللهِ إِنَّا لَا نَدْرِيْ مَنْ أَذِنَ مِنْكُمْ فِيْ ذَلِكَ مِمَّنْ لَمْ يَأْذَنْ فَارْجِعُوْا حَتَّى يَرْفَعَ إِلَيْنَا عُرَفَاؤُكُمْ أَمْرَكُمْ فَرَجَعَ النَّاسُ فَكَلَّمَهُمْ عُرَفَاؤُهُمْ ثُمَّ رَجَعُوْا إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرُوْهُ أَنَّهُمْ قَدْ طَيَّبُوْا وَأَذِنُوْا فَهَذَا الَّذِيْ بَلَغَنَا عَنْ سَبْيِ هَوَازِنَ
‘উরওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁকে মারওয়ান বিন হাকাম ও মিসওয়ার বিন মাখরামা (রাঃ) রিওয়ায়াত করেছেন যে, যখন হাওয়াজিন গোত্রের প্রতিনিধি দল মুসলিম হয়ে আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল যে, তাদের মালামাল ও বন্দী উভয়ই ফেরত দেয়া হোক। তখন আল্লাহর রসূল (ﷺ) তাদের বললেন, “আমার নিকট সত্য কথা অধিকতর প্রিয়। তোমরা দুয়ের মধ্যে যে কোন একটি গ্রহণ কর—বন্দী, নয় মালামাল। আর আমি তো তাদের (হাওয়াজিন গোত্রের) প্রতীক্ষা করছিলাম।আর তায়েফ হতে ফেরার সময় আল্লাহর রসূল (ﷺ) দশ দিন থেকে অধিক সময় তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে যখন তাদের নিকট স্পষ্ট হলো যে, আল্লাহর রসূল (ﷺ) তাদের দুটোর মধ্যে যে কোন একটিই ফেরত দিবেন, তখন তারা বলল, “আমরা আমাদের বন্দীদের ফেরত লাভই পছন্দ করি।”অতঃপর রসূল (ﷺ) মুসলিমদের সামনে দাঁড়ালেন। প্রথমে তিনি আল্লাহ তা‘আলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করলেন। অতঃপর বললেন, “তোমাদের এ সব ভাই তাওবা করে আমার নিকট এসেছে। আর আমি উচিত মনে করছি যে, তাদের বন্দীদের ফেরত দিব। যে ব্যক্তি সন্তুষ্টচিত্তে তা করতে চায়, সে যেন তা করে। আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি চায় যে, তার অংশ বহাল থাকুক, সে যেন অপেক্ষা করে (কিংবা) আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে প্রথম যে গনীমতের মাল দান করেছেন, আমি তাকে তা হতে তা দিয়ে দিব, তাও করতে পারে।”উপস্থিত লোকেরা বলল, “হে আল্লাহর রসূল! আমরা সন্তুষ্টচিত্তে তা গ্রহণ করলাম।”আল্লাহর রসূল (ﷺ) বললেন, “আমি সঠিক জানতে পারিনি, তোমাদের মধ্যে কে এতে সম্মতি দিয়েছে, আর কে দেয়নি। কাজেই, তোমরা ফিরে যাও এবং নিজ নিজ প্রতিনিধির মাধ্যমে আমাকে তোমাদের সিদ্ধান্ত জানাও।”লোকেরা চলে গেল। আর তাদের প্রতিনিধিরা নিজেদের লোকের সঙ্গে আলোচনা করে আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর নিকট ফেরত এল এবং তাঁকে জানাল যে, তারা সন্তুষ্টচিত্তে সম্মতি দিয়েছে। হাওয়াজিনের বন্দীগণ সম্পর্কিত বিবরণ আমাদের নিকট এ রকমই পৌঁছেছে।
(২৩০৭, ২৩০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৯৭,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৯০৮)
