৫৯/৮. অধ্যায়ঃ

জান্নাতের বর্ণনা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে আর তা হল সৃষ্ট

قَالَ أَبُو الْعَالِيَةِ : ﴿مُطَهَّرَةٌ﴾ مِنَ الْحَيْضِ وَالْبَوْلِ وَالْبُزَاقِ. ﴿كُلَّمَا رُزِقُوا﴾ أَتَوْا بِشَيْءٍ ثُمَّ أَتَوْا بِآخَرَ ﴿قَالُوا هَذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِنْ قَبْلُ﴾ (البقرة : ٢٥) أُتِينَا مِنْ قَبْلُ. ﴿وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهًا﴾ (البقرة : ٢٥) يُشْبِهُ بَعْضُهُ بَعْضًا وَيَخْتَلِفُ فِي الطُّعُومِ. ﴿قُطُوفُهَا﴾ يَقْطِفُونَ كَيْفَ شَاءُوا. ﴿دَانِيَةٌ﴾ (الحاقة : ٢٣) قَرِيبَةٌ. ﴿الْأَرَائِكُ﴾ (الكهف : ٣١) السُّرُرُ. وَقَالَ الْحَسَنُ : النَّضْرَةُ فِي الْوُجُوهِ. وَالسُّرُورُ فِي الْقَلْبِ.وَقَالَ مُجَاهِدٌ : ﴿سَلْسَبِيلًا﴾ (الإنسان ١٨) حَدِيدَةُ الْجَرْيَةِ. غَوْلٌ : وَجَعُ الْبَطْنِ. ﴿يُنْزَفُونَ﴾ (الصفات : ٤٧) لَا تَذْهَبُ عُقُولُهُمْ. وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : ﴿دِهَاقًا﴾ (النبأ: ٣٤) مُمْتَلِئًا. ﴿كَوَاعِبَ﴾ نَوَاهِدَ. ﴿الرَّحِيقُ﴾ الْخَمْرُ. ﴿التَّسْنِيمُ﴾ يَعْلُو شَرَابَ أَهْلِ الْجَنَّةِ. ﴿خِتَامُهُ﴾ طِينُهُ ﴿مِسْكٌ﴾. ﴿نَضَّاخَتَانِ﴾ فَيَّاضَتَانِ يُقَالُ : ﴿مَوْضُونَةٌ﴾ مَنْسُوجَةٌ. مِنْهُ وَضِينُ النَّاقَةِ. وَالْكُوبُ مَا لَا أُذُنَ لَهُ وَلَا عُرْوَةَ، وَالْأَبَارِيقُ ذَوَاتُ الْآذَانِ وَالْعُرَى ﴿عُرُبًا﴾ مُثَقَّلَةً وَاحِدُهَا عَرُوبٌ. مِثْلُ صَبُورٍ وَصُبُرٍ يُسَمِّيهَا أَهْلُ مَكَّةَ : الْعَرِبَةَ، وَأَهْلُ الْمَدِينَةِ : الْغَنِجَةَ. وَأَهْلُ الْعِرَاقِ : الشَّكِلَةَ.وَقَالَ مُجَاهِدٌ : ﴿رَوْحٌ﴾ (الواقعة : ٨٩) جَنَّةٌ وَرَخَاءٌ، ﴿وَالرَّيْحَانُ﴾ الرِّزْقُ. ﴿وَالْمَنْضُودُ﴾ الْمَوْزُ، ﴿وَالْمَخْضُودُ﴾ الْمُوَقَرُ حَمْلًا، وَيُقَالُ أَيْضًا : لَا شَوْكَ لَهُ. وَالْعُرُبُ : الْمُحَبَّبَاتُ إِلَى أَزْوَاجِهِنَّ. وَيُقَالُ : ﴿مَسْكُوبٌ﴾ جَارٍ. ﴿وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ﴾ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ. ﴿لَغْوًا﴾ بَاطِلًا، ﴿تَأْثِيمًا﴾ كَذِبًا. ﴿أَفْنَانٍ﴾ أَغْصَانٌ ﴿وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ﴾ : مَا يُجْتَنَى قَرِيبٌ ﴿مُدْهَامَّتَانِ﴾ سَوْدَاوَانِ مِنَ الرِّيِّ.আবুল ‘আলিয়া (রহ.) বলেন, مُطَهَّرَةٌ মাসিক ঋতু, পেশাব ও থুথু হতে পবিত্র। كُلَّمَا رُزِقُوا যখনই তাদের সামনে কোনো এক প্রকারের খাদ্য পরিবেশন করা হবে, অতঃপরই অন্য এক প্রকারের খাদ্য পরিবেশন করা হবে। তারা (জান্নাতবাসীরা) বলবে, এগুলো তো ইতোপূর্বেই আমাদেরকে পরিবেশন করা হয়েছে। وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهًا তাদেরকে পরস্পর সদৃশ খাবার পরিবেশন করা হবে অথচ সেগুলো স্বাদে হবে বিভিন্ন। قُطُوفُهَا তারা যেভাবে ইচ্ছা ফল ফলাদি গ্রহণ করবে। دَانِيَةٌ নিকটবর্তী الْأَرَائِكُ পালঙ্কসমূহ। হাসান বসরী (রহ.) বলেন, النَّضْرَةُ-চেহারার সজীবতা। আর السُّرُورُ মনের আনন্দ।মুজাহিদ (রহ.) বলেন, سَلْسَبِيلًا -দ্রুত প্রবাহিত পানি। غَوْلٌ পেটের ব্যথা। يُنْزَفُونَ তাদের বুদ্ধি লোপ পাবে না। ইবন ‘আব্বাস (রা.) বলেন, دِهَاقًا পরিপূর্ণ। كَوَاعِبَ অংকুরিত যৌবনা তরুণী। الرَّحِيقُ পানীয়। التَّسْنِيمُ -জান্নাতবাসীদের পানীয় যা উঁচু হতে নিঃসৃত হয়। خِتَامُهُ তার মোড়ক হবে مِسْكٌ কস্তুরী। نَضَّاخَتَانِ দুই উচ্ছ্বলিত (ঝর্ণা) مَوْضُونَةٌ সোনা ও মণি মুক্তা দিয়ে তৈরী। এ শব্দটি হতেই وَضِينُ النَّاقَةِ -এর উৎপত্তি অর্থাৎ উটের পিঠের গদী। وَالْكُوبُ -হাতল বিহীন পানপাত্র وَالْأَبَارِيقُ -হাতল বিশিষ্ট পানপাত্র। عُرُبًا -সোহাগিনী। একবচনে عَرُوبٌ -যেমন صَبُورٌ -এর বহুবচন صُبُرٌ মক্কাবাসী একে الْعَرِبَةَ -মদীনাবাসী الْغَنِجَةَ আর ইরাকীরা الشَّكِلَةَ বলে থাকে।মুজাহিদ (রহ.) বলেন, رَوْحٌ জান্নাত ও স্বচ্ছল জীবন। الرَّيْحَانُ জীবিকা। الْمَنْضُودُ কলা وَالْمَخْضُودُ কাঁদি ভরা, এটাও বলা হয় যার কাঁটা নেই। الْعُرُبُ স্বামীদের নিকট সোহাগিনী। مَسْكُوبٌ প্রবাহিত। فُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ একটির উপর আরেকটি বিছানা لَغْوًا অলীদ কথা। تَأْثِيمًا মিথ্যা। أَفْنَانٌ ডালসমূহ। وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ দুই বাগিচার ফল হবে তাদের নিকটবর্তী যা নিকট হতে গ্রহণ করবে। مُدْهَامَّتَانِ এ বাগিচা দু’টি ঘন সবুজ।"

সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৩২৪৬

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ أَوَّلُ زُمْرَةٍ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، وَالَّذِينَ عَلَى إِثْرِهِمْ كَأَشَدِّ كَوْكَبٍ إِضَاءَةً، قُلُوبُهُمْ عَلَى قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ، لاَ اخْتِلاَفَ بَيْنَهُمْ وَلاَ تَبَاغُضَ، لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ، كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا يُرَى مُخُّ سَاقِهَا مِنْ وَرَاءِ لَحْمِهَا مِنَ الْحُسْنِ، يُسَبِّحُونَ اللَّهَ بُكْرَةً وَعَشِيًّا، لاَ يَسْقَمُونَ وَلاَ يَمْتَخِطُونَ، وَلاَ يَبْصُقُونَ، آنِيَتُهُمُ الذَّهَبُ وَالْفِضَّةُ، وَأَمْشَاطُهُمُ الذَّهَبُ، وَقُودُ مَجَامِرِهِمُ الأُلُوَّةُ ـ قَالَ أَبُو الْيَمَانِ يَعْنِي الْعُودَ ـ وَرَشْحُهُمُ الْمِسْكُ ‏"‏‏.‏ وَقَالَ مُجَاهِدٌ الإِبْكَارُ أَوَّلُ الْفَجْرِ، وَالْعَشِيُّ مَيْلُ الشَّمْسِ أَنْ تُرَاهُ تَغْرُبَ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, “প্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল চেহারা নিয়ে প্রবেশ করবে আর তাদের পর যারা প্রবেশ করবে তারা অতি উজ্জ্বল তারার ন্যায় আকৃতি ধারণ করবে।তাদের অন্তরগুলো এক ব্যক্তির অন্তরের মত থাকবে। তাদের মধ্যে কোন রকম মতভেদ থাকবে না আর পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। তাদের প্রত্যেকের দুজন করে স্ত্রী থাকবে। সৌন্দর্যের কারণে গোশত ভেদ করে পায়ের নলের মজ্জা দেখা যাবে। তারা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করবে। তারা রোগাক্রান্ত হবে না, নাক ঝাড়বে না, থুতু ফেলবে না। তাদের পাত্রসমূহ হবে স্বর্ণ ও রৌপ্যের আর চিরুনি হবে স্বর্ণের। তাদের ধুনুচিতে থাকবে সুগন্ধি কাঠ।”আবু ইয়ামান (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ কাঠ। তাদের গায়ের ঘাম মিসকের মত সুগন্ধময় হবে।মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, الْإِبْكَارُ অর্থ উষাকালের প্রথম অংশ, الْعَشِيُّ অর্থ সূর্য ঢলে পড়ার সময় হতে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সময়কাল।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন