৬৩/৪৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৩৮৯৮ - আনসারগণের মর্যাদা
নবী (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীদের মদীনায় হিজরত।
وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ وَأَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْلَا الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرَأً مِنَ الْأَنْصَارِ وَقَالَ أَبُو مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ أَنِّي أُهَاجِرُ مِنْ مَكَّةَ إِلَى أَرْضٍ بِهَا نَخْلٌ فَذَهَبَ وَهَلِي إِلَى أَنَّهَا الْيَمَامَةُ أَوْ هَجَرُ فَإِذَا هِيَ الْمَدِينَةُ يَثْرِبُ‘আবদুল্লাহ ইবন যায়দ ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, যদি হিজরতের ফযীলত না হত তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। আবূ মূসা (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি মক্কা হতে হিজরত করছি এমন জায়গায় যেখানে খেজুর বাগান আছে। আমি ভাবলাম, তা হবে ইয়ামামা কিংবা হাজার।’ পরে দেখলাম যে, তা মদীনা-ইয়াসরিব।"
সহীহ বুখারী : ৩৮৯৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৩৮৯৮
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ هُوَ ابْنُ زَيْدٍ عَنْ يَحْيَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُوْلُ الأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيْبُهَا أَوْامْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُوْلِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُوْلِهِ ﷺ
উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ) - কে বলতে শুনেছি যে, আমলের ফলাফল নির্ভর করে নিয়্যাতের [১] উপর। সুতরাং যার হিজরত [২] হয় দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করার উদ্দেশে, তাহলে তার হিজরত হবে যে উদ্দেশে সে হিজরত করেছে। আর যার হিজরত হবে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্য, তবে তার হিজরত হবে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলেরই জন্য।
[১] ‘নিয়্যাত’ শব্দের অর্থ অন্তরের দৃঢ় সংকল্প। শর’ঈয়াতের পরিভাষায় এর বিশেষ অর্থ নিম্নরূপঃ(১) কোন কাজকে কোন কাজ থেকে পৃথক করা বা নির্দিষ্ট করে নেয়া। যথা ফারয সালাতের নিয়্যাত করা মানে সুন্নাত তথা নাফল থেকে পৃথক বা নির্দিষ্ট করা।(২) কোন কাজ সম্পাদনের সংকল্প করা। যথা হজ্জের নিয়্যাত করা মানে হজ্জ সম্পাদনের সংকল্প করা।(৩) নিয়্যাত মানে কোন কাজের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য। উক্ত হাদীসে ‘নিয়্যাত’ শব্দটি এ শেষোক্ত অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ যে কোন কাজের ফলাফল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের উপরই নির্ভর করে। এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, নিয়্যাত যেহেতু অন্তরের সংকল্পেরই নাম, সেহেতু কোন কাজের নিয়্যাতের সময় অন্তরে সংকল্প না করে শুধু মুখে উচ্চারণ করলে চলবে না। যেমন সালাত আদায়ের পূর্বে অনেক মুসল্লীকে সালাতের আরবীতে তথাকথিত গৎবাঁধা নিয়্যাত করতে দেখা যায় - যার প্রমাণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কোন হাদীসে পাওয়া যায় না। সুতরাং সালাতের নিয়্যাতে নির্দিষ্টভাবে মনের দৃঢ় সংকল্পই যথেষ্ট; মুখে উচ্চারণ রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাহ্র পরিপন্থী যা নবাবিষ্কৃত হিসেবে গণ্য।[২] ‘হিজরত’ শব্দের অর্থ ত্যাগ করা, ছিন্ন করা। শর’ঈয়াতের পরিভাষায় এর দু’ধরনের অর্থ রয়েছে।(১) আল্লাহ্র সন্তোষ লাভের জন্য এক স্থান ত্যাগ করে অন্য স্থানে যাওয়া, ঈমান ও ধর্ম রক্ষার জন্য নিরাপদ স্থানে গমন করা। যথা রাসূল (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীদের মক্কা হতে মদীনায় গমনকে হিজরত বলা হয়।(২) শর’ঈয়াতের নিষিদ্ধ কাজগুলোকে পরিহার করা। তাই রাসূল হাদীসে বলেনঃ প্রকৃত মুহাজির ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহ্র নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে ত্যাগ করেছে।
