৬৪/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪০২৪ - বদরের বন্দী ও কৃতজ্ঞতার শিক্ষা
পরিচ্ছেদ নেই
বদরের যুদ্ধবন্দী ও মুতইম ইবন আদী সম্পর্কে হাদিস
সহীহ বুখারী : ৪০২৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪০২৪
وَعَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ فِيْ أُسَارَى بَدْرٍ لَوْ كَانَ الْمُطْعِمُ بْنُ عَدِيٍّ حَيًّا ثُمَّ كَلَّمَنِيْ فِيْ هَؤُلَاءِ النَّتْنَى لَتَرَكْتُهُمْ لَهُ وَقَالَ اللَّيْثُ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيْدٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَقَعَتْ الْفِتْنَةُ الْأُوْلَى يَعْنِيْ مَقْتَلَ عُثْمَانَ فَلَمْ تُبْقِ مِنْ أَصْحَابِ بَدْرٍ أَحَدًا ثُمَّ وَقَعَتْ الْفِتْنَةُ الثَّانِيَةُ يَعْنِي الْحَرَّةَ فَلَمْ تُبْقِ مِنْ أَصْحَابِ الْحُدَيْبِيَةِ أَحَدًا ثُمَّ وَقَعَتْ الثَّالِثَةُ فَلَمْ تَرْتَفِعْ وَلِلنَّاسِ طَبَاخٌ
জুবায়র ইবনু মুত’ইম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বাদ্রের যুদ্ধবন্দীর ব্যাপারে বলেছেন, আজ মুত‘ঈম ইব্নু ‘আদী [১৬] যদি বেঁচে থাকতেন আর এসব অপবিত্র লোকদের সম্পর্কে যদি আমার নিকট সুপারিশ করতেন, তাহলে তার সম্মানে এদেরকে আমি (মুক্তিপণ ব্যতীতই) ছেড়ে দিতাম। লায়স ইয়াহিয়ার সূত্রে সা‘ঈদ ইব্নু মুসায়্যিব (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, প্রথম ফিত্না অর্থাৎ ‘উসমানের হত্যাকাণ্ড [১৭] সংঘটিত হবার পর বদ্রে যোগদানকারী সাহাবীদের আর কেউ বেঁচে ছিলেন না। দ্বিতীয় ফিত্না তথা হাররার ঘটনা সংঘটিত হবার পর হুদাইবিয়াহ্র সন্ধিকালীন সময়ের কোন সাহাবীই আর জীবিত ছিলেন না। এরপর তৃতীয় ফিত্না সংঘটিত হওয়ার পর তা কখনো শেষ হয়নি, যতদিন মানুষের মধ্যে আক্ল ও সদ গুণাবলী বহাল ছিল।
[১৬] মুত‘ঈম ইব্নু ‘আদী রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)–কে বিভিন্ন সময় কাফিরদের হাত থেকে নিরাপত্তা দিয়ে সহানুভূতি দেখিয়েছেন। তাই তিনি নিজের মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেছিলেন, আজ যদি সে জীবিত থাকতো আর অনুরোধ করতো তাহলে তিনি তাদেরকে ছেড়ে দিতেন।[১৭] মিসরবাসী কতক বিদ্রোহী লোকের দ্বারা উনপঞ্চাশ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর তিনি তাদেরই হাতে শহীদ হন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪০২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বদরের যুদ্ধবন্দীদের বিষয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি কথা এসেছে। তিনি বলেন, মুতইম ইবন আদী যদি বেঁচে থাকতেন এবং বন্দীদের ব্যাপারে সুপারিশ করতেন, তাহলে তার সম্মানে তাদের ছেড়ে দিতেন। হাদিসের ভাষা থেকে বোঝা যায়, নবী (صلى الله عليه وسلم) অতীতের ভালো ব্যবহারকে ভুলে যাননি। এখানে বদরের বন্দী, সুপারিশ এবং সম্মান—এই বিষয়গুলো মূল। একই বর্ণনায় সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) থেকে ফিতনা সম্পর্কেও কথা এসেছে; প্রথম ফিতনার পর বদরী সাহাবীদের কেউ বেঁচে ছিলেন না, দ্বিতীয় ফিতনার পর হুদাইবিয়ার সাহাবীদের কেউ বেঁচে ছিলেন না। তাই এই হাদিস কৃতজ্ঞতা, সাহাবীদের যুগ এবং ফিতনার ক্ষয়—সবকিছুর একটি সংক্ষিপ্ত ছবি দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অতীতের ভালো আচরণ মনে রাখা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথায় দেখা যায়।
- বদরের বন্দীদের বিষয়ে মুতইম ইবন আদীর সম্মানের কথা উল্লেখ হয়েছে।
- ফিতনার ঘটনাগুলো সাহাবীদের প্রজন্মের শেষ সময়ের সঙ্গে যুক্ত করে বর্ণিত হয়েছে।
