৬৪/৩৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৪৫ - হাসসান (রাঃ)-কে গালি না দেওয়ার শিক্ষা
ইফকের ঘটনা
وَالْأَفْكُ بِمَنْزِلَةِ النَّجِسِ وَالنَّجَسِ يُقَالُ إِفْكُهُمْ وَأَفَكَهُمْ وَأَفَكَهُمْ فَمَنْ قَالَ أَفَكَهُمْ يَقُولُ صَرَفَهُمْ عَنْ الْإِيمَانِ وَكَذَّبَهُمْ كَمَا قَالَ ﴾يُؤْفَكُ عَنْهُ مَنْ أُفِكَ﴿ يُصْرَفُ عَنْهُ مَنْ صُرِفَ[ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন] أُفِكَ ও إِفْكٌ এর মতো نَجِسٌ ও نَجَسٌ উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। তাই আরবীয় লোকেরা বলেন, أَفَكَهُمْ ও إِفْكَهُمْ-أَفَكَهُمْ। যিনি أَفَكَهُمْ পড়েছেন, তিনি বলেন যে, এর অর্থ তাদেরকে তিনি ঈমান হতে ফিরিয়ে রেখেছিলেন এবং তাদেরকে মিথ্যুক আখ্যায়িত করেছিলেন।"
হাসসান ইবন সাবিত (রাঃ): গালি নয়, ভালো কাজও মনে রাখা
সহীহ বুখারী : ৪১৪৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১৪৫
عُثْمَانُ بْنُ أَبِيْ شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ ذَهَبْتُ أَسُبُّ حَسَّانَ عِنْدَ عَائِشَةَ فَقَالَتْ لَا تَسُبَّهُ فَإِنَّهُ كَانَ يُنَافِحُ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَقَالَتْ عَائِشَةُ اسْتَأْذَنَ النَّبِيَّ ﷺ فِيْ هِجَاءِ الْمُشْرِكِيْنَ قَالَ كَيْفَ بِنَسَبِيْ قَالَ لَأَسُلَّنَّكَ مِنْهُمْ كَمَا تُسَلُّ الشَّعَرَةُ مِنَ الْعَجِيْنِوقَالَ مُحَمَّدُ : حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ فَرْقَدٍ سَمِعْتُ هِشَامًا عَنْ أَبِيْهِ قَالَ سَبَبْتُ حَسَّانَ وَكَانَ مِمَّنْ كَثَّرَ عَلَيْهَا
‘উরওয়াহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি 'আয়িশাহ (রাঃ)-এর সামনে হাস্সান ইবনু সাবিত (রাঃ)-কে গালি দিতে লাগলে তিনি বললেন, তাঁকে গালি দিও না। কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ হয়ে কাফিরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতেন। 'আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন হাস্সান ইবনু সাবিত (রাঃ) কবিতার মাধ্যমে মুশরিকের নিন্দাবাদ করার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি বললেন, তুমি কুরাইশদের নিন্দায় কবিতা রচনা করলে আমার বংশকে কি পৃথক করবে? হাস্সান (রাঃ) বললেন, আমি আপনাকে তাদের থেকে এমনভাবে পৃথক করে রাখব যেমনভাবে আটার খামির থেকে চুল পৃথক করা হয়।মুহাম্মদ (রহঃ) বলেছেন, 'উসমান ইবনু ফারকাদ (রহঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আমি হিশাম (রহঃ)-কে তাঁর পিতা 'উরওয়াহ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি হাস্সান ইবনু সাবিত (রাঃ)-কে গালি দিয়েছি। কেননা তিনি ছিলেন, 'আয়িশাহ (রাঃ)-এর প্রতি অপবাদ রটনাকারীদের একজন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, উরওয়াহ (রহঃ) আয়েশা (রাঃ)-এর সামনে হাসসান ইবন সাবিত (রাঃ)-কে গালি দিতে শুরু করলে তিনি তাঁকে থামিয়ে দেন। কারণ হিসেবে বলেন, হাসসান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পক্ষ হয়ে কাফিরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতেন, অর্থাৎ কবিতার মাধ্যমে জবাব দিতেন। হাদিসে আরও এসেছে, হাসসান (রাঃ) মুশরিকদের নিন্দা করতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর বংশের কথা জানতে চাইলে হাসসান (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে এমনভাবে পৃথক রাখবেন, যেমন আটার খামির থেকে চুল আলাদা করা হয়। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কারও ভুল বা ঘটনার এক দিক দেখে তার ভালো কাজ অস্বীকার করা ঠিক নয়। আয়েশা (রাঃ) নিজেই সংযম ও ন্যায়ের দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও বিষয়ে কথা বলার সময় তার ভালো কাজও মনে রাখা উচিত।
- গালি দেওয়া থেকে বিরত থাকা উত্তম আচরণের অংশ।
- হাসসান (রাঃ) কবিতার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পক্ষে জবাব দিতেন।
- ব্যক্তিগত কষ্টের মাঝেও ন্যায্য কথা বলা বড় গুণ।
