৬৪/৮৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৩৭ - জান্নাতের স্থান ও রফীকুল আ'লা
নবী (ﷺ)-এর রোগ ও তাঁর ওফাত
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى : ﴾إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ. ثُمَّ إِنَّكُ مْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُونَ﴿.মহান আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই আপনিও মরণশীল আর তারাও মরণশীল। অতঃপর কিয়ামতের দিনে তোমরা উভয় দলই নিজ নিজ মোকাদ্দমা স্বীয় রবের সামনে পেশ করবে। (সূরা আয-যুমার ৩৯/৩০-৩১)وَقَالَ يُونُسُ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ يَا عَائِشَةُ مَا أَزَالُ أَجِدُ أَلَمَ الطَّعَامِ الَّذِي أَكَلْتُ بِخَيْبَرَ فَهَذَا أَوَانُ وَجَدْتُ انْقِطَاعَ أَبْهَرِي مِنْ ذَلِكَ السَّمِّ."
নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ইন্তিকাল ও রফীকুল আ'লার আকাঙ্ক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৪৩৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৪৩৭
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ إِنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَهُوَ صَحِيْحٌ يَقُوْلُ إِنَّهُ لَمْ يُقْبَضْ نَبِيٌّ قَطُّ حَتَّى يَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ ثُمَّ يُحَيَّا أَوْ يُخَيَّرَ فَلَمَّا اشْتَكَى وَحَضَرَهُ الْقَبْضُ وَرَأْسُهُ عَلَى فَخِذِ عَائِشَةَ غُشِيَ عَلَيْهِ فَلَمَّا أَفَاقَ شَخَصَ بَصَرُهُ نَحْوَ سَقْفِ الْبَيْتِ ثُمَّ قَالَ اللهُمَّ فِي الرَّفِيْقِ الْأَعْلَى فَقُلْتُ إِذًا لَا يُجَاوِرُنَا فَعَرَفْتُ أَنَّهُ حَدِيْثُهُ الَّذِيْ كَانَ يُحَدِّثُنَا وَهُوَ صَحِيْحٌ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুস্থাবস্থায় বলতেন, জান্নাতে তাঁর স্থান দেখানো ব্যতীত কোন নবী (আঃ)-এর প্রাণ কখনো কবজ করা হয়নি। তারপর তাঁকে জীবন বা মৃত্যু একটি গ্রহণ করতে বলা হয়। এরপর যখন নবী করীম (ﷺ) অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তাঁর মাথা 'আয়িশাহ (রাঃ)-এর উরুতে রাখাবস্থায় তাঁর জান কবজের সময় উপস্থিত হল তখন তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে গেলেন। এরপর যখন তিনি সংজ্ঞা ফিরে পেলেন তখন তিনি ঘরের ছাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই)। অনন্তর আমি বললাম, তিনি আর আমাদের মাঝে থাকতে চাচ্ছেন না। এরপর আমি উপলব্ধি করলাম যে, এটা হচ্ছে ঐ কথা যা তিনি আমাদের কাছে সুস্থাবস্থায় বর্ণনা করতেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি কথা স্মরণ করেন, যা তিনি সুস্থ অবস্থায় বলতেন। কোনো নবীর প্রাণ কবজের আগে তাঁকে জান্নাতে তাঁর স্থান দেখানো হয়, তারপর জীবন বা মৃত্যু বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে যখন নবী (صلى الله عليه وسلم) অসুস্থ হলেন এবং তাঁর মাথা আয়িশা (রাঃ)-এর উরুতে ছিল, তখন তিনি অজ্ঞান হলেন। জ্ঞান ফিরে পেয়ে ঘরের ছাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, হে আল্লাহ, উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে। তখন আয়িশা (রাঃ) বুঝলেন, তিনি আর তাঁদের মধ্যে থাকতে চাইছেন না। এই হাদিস নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শেষ সময়, আখিরাতের পছন্দ এবং আয়িশা (রাঃ)-এর গভীর উপলব্ধি তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সুস্থ অবস্থায় যে শিক্ষা দিতেন, শেষ সময়ে তার বাস্তব চিহ্ন দেখা যায়।
- আয়িশা (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথার অর্থ গভীরভাবে বুঝতেন।
- আখিরাতের মর্যাদা দুনিয়ার থাকার চেয়ে বড় হিসেবে ফুটে উঠেছে।
- মৃত্যুর সময়ও আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়াই মুমিনের আশা।
