৬৪/৮৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৫১ - রফীকে আ‘লা ও মিসওয়াকের শেষ শিক্ষা
নবী (ﷺ)-এর রোগ ও তাঁর ওফাত
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى : ﴾إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ. ثُمَّ إِنَّكُ مْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُونَ﴿.মহান আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই আপনিও মরণশীল আর তারাও মরণশীল। অতঃপর কিয়ামতের দিনে তোমরা উভয় দলই নিজ নিজ মোকাদ্দমা স্বীয় রবের সামনে পেশ করবে। (সূরা আয-যুমার ৩৯/৩০-৩১)وَقَالَ يُونُسُ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ يَا عَائِشَةُ مَا أَزَالُ أَجِدُ أَلَمَ الطَّعَامِ الَّذِي أَكَلْتُ بِخَيْبَرَ فَهَذَا أَوَانُ وَجَدْتُ انْقِطَاعَ أَبْهَرِي مِنْ ذَلِكَ السَّمِّ."
রফীকে আ‘লা, মিসওয়াক ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর দুনিয়ার শেষ দিন
সহীহ বুখারী : ৪৪৫১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৪৫১
سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوْبَ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ تُوُفِّيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِيْ بَيْتِيْ وَفِيْ يَوْمِيْ وَبَيْنَ سَحْرِيْ وَنَحْرِيْ وَكَانَتْ إِحْدَانَا تُعَوِّذُهُ بِدُعَاءٍ إِذَا مَرِضَ فَذَهَبْتُ أُعَوِّذُهُ فَرَفَعَ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ وَقَالَ فِي الرَّفِيْقِ الْأَعْلَى فِي الرَّفِيْقِ الْأَعْلَى وَمَرَّ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِيْ بَكْرٍ وَفِيْ يَدِهِ جَرِيْدَةٌ رَطْبَةٌ فَنَظَرَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَظَنَنْتُ أَنَّ لَهُ بِهَا حَاجَةً فَأَخَذْتُهَا فَمَضَغْتُ رَأْسَهَا وَنَفَضْتُهَا فَدَفَعْتُهَا إِلَيْهِ فَاسْتَنَّ بِهَا كَأَحْسَنِ مَا كَانَ مُسْتَنًّا ثُمَّ نَاوَلَنِيْهَا فَسَقَطَتْ يَدُهُ أَوْ سَقَطَتْ مِنْ يَدِهِ فَجَمَعَ اللهُ بَيْنَ رِيْقِيْ وَرِيْقِهِ فِيْ آخِرِ يَوْمٍ مِنْ الدُّنْيَا وَأَوَّلِ يَوْمٍ مِنَ الْآخِرَةِ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমার ঘরে আমার পালার দিনে এবং আমার গণ্ড ও সীনার মধ্যস্থলে থাকা অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। নবী (ﷺ) অসুস্থ হলে আমাদের মধ্যকার কেউ দোয়া পড়ে তাঁকে ঝাড়ফুঁক করতেন। আমি নবী (ﷺ)-কে ঝাড়ফুঁক করার জন্য তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি তাঁর মাথা আকাশের দিকে উঠিয়ে বললেন, উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই), উচ্চে সমাসীন মহান বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই)।এ সময় আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) আগমন করলেন। তাঁর হাতে মিসওয়াকের একটি তাজা ডাল ছিল। নবী (ﷺ) তখন সেদিকে তাকালেন। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর [নবী (ﷺ)]-এর মিসওয়াকের প্রয়োজন। তখন আমি সেটি নিয়ে চিবালাম, ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করলাম এবং নবী (ﷺ)-কে তা দিলাম। তখন তিনি এর দ্বারা এত সুন্দরভাবে দাঁত পরিষ্কার করলেন যে, এর আগে কখনও এরূপ করেননি। তারপর তা আমাকে দিলেন। এরপর তাঁর হাত ঢলে পড়ল অথবা রাবী বলেন, তাঁর হাত থেকে ঢলে পড়ল। আল্লাহ তা'আলা আমার থুথুকে নবী (ﷺ)-এর থুথুর সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন। তাঁর এ দুনিয়ার শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৪৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো রফীকে আ‘লা, মিসওয়াক ও শেষ সময়ের দোয়া। আয়িশা (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর ঘরে, তাঁর পালার দিনে এবং তাঁর গণ্ড ও সীনার মাঝখানে ইন্তিকাল করেন। তিনি অসুস্থ হলে পরিবারের কেউ দোয়া পড়ে ঝাড়ফুঁক করতেন। আয়িশা (রাঃ) তা করতে গেলে নবী (صلى الله عليه وسلم) মাথা আকাশের দিকে তুলে বললেন, “উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে, উচ্চে সমাসীন মহান বন্ধুর সঙ্গে।” তখন আবদুর রহমান (রাঃ)-এর হাতে মিসওয়াকের তাজা ডাল ছিল। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকালে আয়িশা (রাঃ) বুঝলেন তাঁর প্রয়োজন আছে। তিনি সেটি চিবিয়ে পরিষ্কার করে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে দিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তা দিয়ে খুব সুন্দরভাবে দাঁত পরিষ্কার করলেন। এরপর তাঁর হাত ঢলে পড়ে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তাঁর ও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর থুথু শেষ দিনে মিলিয়ে দেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم শেষ সময়েও আল্লাহর নৈকট্য ও রফীকে আ‘লার কথা বলেছেন।
- মিসওয়াকের প্রতি নবী صلى الله عليه وسلم-এর ভালোবাসা এই বর্ণনায় স্পষ্ট।
- আয়িশা রাঃ নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রয়োজন বুঝে কোমল সেবা করেছেন।
- দুনিয়ার শেষ সময়েও আল্লাহমুখী থাকা মুমিনের জন্য বড় শিক্ষা।
