৬৫/৩১৩. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮৬১ - সাফা-মারওয়া সাঈর বিধান

আল্লাহর বাণী: এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্বন্ধে? (সূরা আন-নাজম ৫৩/২০)

সাফা-মারওয়া সাঈ: আল্লাহর নিদর্শন মানার গুরুত্বপূর্ণ হাদিস

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৮৬১

الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ سَمِعْتُ عُرْوَةَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا فَقَالَتْ إِنَّمَا كَانَ مَنْ أَهَلَّ بِمَنَاةَ الطَّاغِيَةِ الَّتِيْ بِالْمُشَلَّلِ لَا يَطُوْفُوْنَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللهِ} فَطَافَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَالْمُسْلِمُوْنَ قَالَ سُفْيَانُ مَنَاةُ بِالْمُشَلَّلِ مِنْ قُدَيْدٍ وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَالِدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ نَزَلَتْ فِي الْأَنْصَارِ كَانُوْا هُمْ وَغَسَّانُ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمُوْا يُهِلُّوْنَ لِمَنَاةَ مِثْلَهُ وَقَالَ مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ كَانَ رِجَالٌ مِنَ الْأَنْصَارِ مِمَّنْ كَانَ يُهِلُّ لِمَنَاةَ وَمَنَاةُ صَنَمٌ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِيْنَةِ قَالُوْا يَا نَبِيَّ اللهِ كُنَّا لَا نَطُوْفُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ تَعْظِيْمًا لِمَنَاةَ نَحْوَهُ.

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, মুশাল্লাল নামক স্থানে অবস্থিত মানাত দেবীর নামে যারা ইহ্রাম বাঁধতো, তারা সাফা ও মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করতো না। তারপর আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, “সাফা ও মারওয়া আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহের অন্যতম।” এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও মুসলিমগণ তাওয়াফ করলেন। সুফ্য়ান (রহ.) বলেন, ‘মানাত’ কুদায়দ-এর মুশাল্লাল-এ অবস্থিত ছিল।অপর এক বর্ণনায় আবদুর রহমান ইব্‌নু খালিদ (রহ.).....‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াতটি আনসারদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। ইসলাম গ্রহণের আগে আনসার ও গাস্সান গোত্রের লোকেরা মানাতের নামে ইহ্রাম বাঁধতো। হাদীসের বাকী অংশ সুফ্য়ানের বর্ণনার মতই। অপর এক সূত্রে মা‘মার (রহ.).....‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারদের কতক লোক মানাতের নামে ইহ্রাম বাঁধতো, মানাত মাক্কাহ ও মাদীনাহ্র মাঝে রাখা একটি দেবমূর্তি। তারা বললেন, হে আল্লাহ্‌র নাবী! মানাতের সম্মানার্থে আমরা সাফা ও মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করতাম না। এ হাদীসটি আগের হাদীসেরই মত।

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮৬১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সাফা-মারওয়া সাঈ এবং জাহিলী ভুল ধারণা থেকে বের হয়ে আল্লাহর নির্দেশ মানা। আয়েশা (রাঃ) জানান, কিছু লোক মানাত দেবীর নামে ইহরাম বাঁধত এবং মানাতের সম্মানের কারণে সাফা ও মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ বা সাঈ করত না। এরপর আল্লাহ আয়াত নাজিল করলেন যে সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তারপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এবং মুসলিমগণ সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করলেন। হাদিসটি দেখায়, কোনো পুরনো ভুল রীতি বা ভ্রান্ত সম্মান ইবাদতের পথে বাধা হতে পারে না। যখন আল্লাহর নির্দেশ পরিষ্কার হয়, তখন মুসলিমের কাজ হলো তা মেনে নেওয়া।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
  • জাহিলী রীতি ইবাদতের সঠিক পথ নির্ধারণ করতে পারে না।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আমল মুসলিমদের জন্য অনুসরণের পথ।
  • ইবাদতে ভুল ধারণা থাকলে আল্লাহর নির্দেশের আলোকে তা ঠিক করতে হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন