৬৬/৩৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫০৫২ - সাওম ও কুরআন খতমে ভারসাম্য
কতটুকু সময়ে কুরআন খতম করা যায়?
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ﴿.এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলার কালাম: “যতটা কুরআন তোমার সহজসাধ্য হয়, ততটাই পড়।”"
ইবাদতে ভারসাম্য: সাওম, পরিবার ও সাত দিনে কুরআন খতমের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫০৫২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫০৫২
مُوْسَى حَدَّثَنَا أَبُوْ عَوَانَةَ عَنْ مُغِيْرَةَ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ أَنْكَحَنِيْ أَبِي امْرَأَةً ذَاتَ حَسَبٍ فَكَانَ يَتَعَاهَدُ كَنَّتَهُ فَيَسْأَلُهَا عَنْ بَعْلِهَا فَتَقُوْلُ نِعْمَ الرَّجُلُ مِنْ رَجُلٍ لَمْ يَطَأْ لَنَا فِرَاشًا وَلَمْ يُفَتِّشْ لَنَا كَنَفًا مُنْذُ أَتَيْنَاهُ فَلَمَّا طَالَ ذَلِكَ عَلَيْهِ ذَكَرَ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ الْقَنِيْ بِهِ فَلَقِيْتُهُ بَعْدُفَقَالَ كَيْفَ تَصُوْمُ قَالَ كُلَّ يَوْمٍ قَالَ وَكَيْفَ تَخْتِمُ قَالَ كُلَّ لَيْلَةٍ قَالَ صُمْ فِيْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةً وَاقْرَإِ الْقُرْآنَ فِيْ كُلِّ شَهْرٍ قَالَ قُلْتُ أُطِيْقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ قَالَ صُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فِي الْجُمُعَةِ قُلْتُ أُطِيْقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ قَالَ أَفْطِرْ يَوْمَيْنِ وَصُمْ يَوْمًا قَالَ قُلْتُ أُطِيْقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ قَالَ صُمْ أَفْضَلَ الصَّوْمِ صَوْمَ دَاوُدَ صِيَامَ يَوْمٍ وَإِفْطَارَ يَوْمٍ وَاقْرَأْ فِيْ كُلِّ سَبْعِ لَيَالٍ مَرَّةًفَلَيْتَنِيْ قَبِلْتُ رُخْصَةَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَذَاكَ أَنِّيْ كَبِرْتُ وَضَعُفْتُ فَكَانَ يَقْرَأُ عَلَى بَعْضِ أَهْلِهِ السُّبْعَ مِنَ الْقُرْآنِ بِالنَّهَارِ وَالَّذِيْ يَقْرَؤُهُ يَعْرِضُهُ مِنْ النَّهَارِ لِيَكُوْنَ أَخَفَّ عَلَيْهِ بِاللَّيْلِ وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَتَقَوَّى أَفْطَرَ أَيَّامًا وَأَحْصَى وَصَامَ مِثْلَهُنَّ كَرَاهِيَةَ أَنْ يَتْرُكَ شَيْئًا فَارَقَ النَّبِيَّ ﷺ عَلَيْهِقَالَ أَبُوْ عَبْد اللهِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ فِيْ ثَلَاثٍ وَفِيْ خَمْسٍ وَأَكْثَرُهُمْ عَلَى سَبْعٍ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার পিতা আমাকে এক সম্ভ্রান্ত বংশীয় মহিলার সঙ্গে শাদী দেন এবং প্রায়ই তিনি আমার সম্পর্কে আমার স্ত্রীর কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন। আমার স্ত্রী বলত, সে কতইনা ভালো মানুষ যে, সে কখনও আমার বিছানায় আসেনি এবং শাদীর পর থেকে আমার সম্পর্কে খোঁজ খবরও নেয়নি। এ অবস্থা যখন দীর্ঘদিন পর্যন্ত চলতে থাকল তখন আমার পিতা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)- কে আমার সম্পর্কে জানালেন। তখন নবী (ﷺ) আমার পিতাকে বললেন, তাকে আমার সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করুন।এরপর আমি নবী (ﷺ)- এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেমন সাওম পালন কর? আমি উত্তর দিলাম, প্রতিদিন সাওম পালন করি। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, এ অবস্থায় পূর্ণ কোরআন মাজীদ খতম করতে তোমার কত সময় লাগে? আমি উত্তর দিলাম, প্রত্যেক রাতেই এক খতম করি।তিনি বললেন, প্রত্যেক মাসে তিনদিন সাওম পালন করবে এবং কোরআন এক মাসে এক খতম দেবে।” আমি বললাম, আমি এর চেয়ে অধিক করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে প্রতি সপ্তাহে তিনদিন সাওম পালন করবে। আমি বললাম, আমি এর চেয়ে অধিক করার শক্তি রাখি। তিনি বললেন, দু’দিন পর একদিন সাওম পালন কর। আমি বললাম, আমি এর চেয়ে অধিক সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে সব চেয়ে উত্তম পদ্ধতির সাওম পালন কর। তা হল, দাঊদ (আঃ)- এর সাওম। তিনি এক দিন অন্তর একদিন সাওম পালন করতেন এবং প্রতি সাত দিনে একবার আল্লাহর কিতাব খতম করতেন। হায়! আমি যদি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)- এর দেয়া সুবিধা গ্রহণ করতাম! এখন আমি দুর্বল বৃদ্ধ হয়ে গেছি।‘আবদুল্লাহ (রাঃ) প্রত্যেক দিন তাঁর পরিবারের একজন সদস্যের সামনে কোরআনের সপ্তমাংশ পাঠ করে শোনাতেন। দিবা ভাগে পাঠ করে দেখতেন, তাঁর স্মরণশক্তি সঠিক আছে কিনা? যা তিনি রাতে পাঠ করবেন তা যেন সহজ হয় এবং যখনই তিনি শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ইচ্ছা করতেন তখন কয়েকদিন সাওম পালন বন্ধ রাখতেন এবং পরবর্তীতে ঐ ক’দিনের হিসাব করে সাওম পালন করতেন। কেননা, তিনি রাসূল (ﷺ)- এর জীবদ্দশায় যে নিয়ম পালন করতেন পরে সে নিয়ম ত্যাগ করা অপছন্দ মনে করতেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ বলেন কেউ তিন দিনে, কেউ পাঁচ দিনে এবং অধিকাংশ লোক সাত দিনে কোরআন খতম করতেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫০৫২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ)-এর জীবনের একটি ঘটনা এসেছে। তিনি প্রতিদিন সাওম রাখতেন এবং প্রতি রাতে কুরআন খতম করতেন। এর ফলে দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, যা তাঁর পিতা নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জানান। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে প্রথমে মাসে তিন দিন সাওম ও মাসে একবার কুরআন খতমের নির্দেশ দেন। তিনি বেশি সামর্থ্যের কথা বললে ধাপে ধাপে সহজ পথ দেখানো হয়। শেষে দাউদ (আঃ)-এর সাওমের কথা বলা হয়—একদিন সাওম, একদিন বিরতি—এবং সাত দিনে কুরআন খতমের কথা আসে। পরে বৃদ্ধ বয়সে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দেওয়া সহজ সুযোগ গ্রহণ করলে ভালো হতো। এই হাদিস ইবাদতে ভারসাম্য, শরীরের হক, পরিবারের হক এবং দীর্ঘমেয়াদি আমলের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইবাদতে আগ্রহ থাকলেও পরিবার ও শরীরের হক ভুলে যাওয়া ঠিক নয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) ধাপে ধাপে সহজ ও টেকসই আমলের পথ দেখিয়েছেন।
- সাত দিনে কুরআন খতমের সীমা এই বর্ণনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
- যৌবনের শক্তি কমে যেতে পারে, তাই সহজ সুযোগকে মূল্য দেওয়া দরকার।
