৬৭/৩৫. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৫১২৪ - ইদ্দতকালে বিয়ের ইঙ্গিতের আদব

আল্লাহর বাণী: তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই যদি তোমরা কথার ইশারায় নারীদেরকে বিবাহের প্রস্তাব পাঠাও, কিংবা নিজেদের মনে গোপন রাখ। আল্লাহ অবগত আছেন ......... ক্ষমাকারী এবং ধৈর্যশীল। (সূরা আল-বাকারা ২/২৩৫)

أَكْنَنْتُمْ أَضْمَرْتُمْ وَكُلُّ شَيْءٍ صُنْتَهُ وَأَضْمَرْتَهُ فَهُوَ مَكْنُونٌأَكْنَنْتُمْ আরবী অর্থ- তোমরা গোপনে মনে পোষণ কর, প্রত্যেক বস্তু যা তুমি গোপনে রাখ তা হলো ‘মাকনূন’।وَقَالَ لِي طَلْقٌ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ﴾فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ﴿ يَقُولُ إِنِّي أُرِيدُ التَّزْوِيجَ وَلَوَدِدْتُ أَنَّهُ تَيَسَّرَ لِي امْرَأَةٌ صَالِحَةٌوَقَالَ الْقَاسِمُ يَقُولُ إِنَّكِ عَلَيَّ كَرِيمَةٌ وَإِنِّي فِيكِ لَرَاعِبٌ وَإِنَّ اللَّهَ لَسَائِقٌ إِلَيْكِ خَيْرًا أَوْ نَحْوَ هَذَا وَقَالَ عَطَاءٌ يُعَرِّضُ وَلاَ يَبُوحُ يَقُولُ إِنَّ لِي حَاجَةً وَأَبْشِرِي وَأَنْتِ بِحَمْدِ اللَّهِ نَافِقَةٌ وَتَقُولُ هِيَ قَدْ أَسْمَعُ مَا تَقُولُ وَلاَ تَعِدُ شَيْئًا وَلاَ يُوَاعِدُ وَلِيُّهَا بِغَيْرِ عِلْمِهَا وَإِنْ وَاعَدَتْ رَجُلاً فِي عِدَّتِهَا ثُمَّ نَكَحَهَا بَعْدُ لَمْ يُفَرَّقْ بَيْنَهُمَا وَقَالَ الْحَسَنُ ﴾لاَ تَوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا﴿ الزِّنَا وَيُذْكَرُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ﴾حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ﴿ تَنْقَضِيَ الْعِدَّةُইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন: “যদি কোনো ব্যক্তি ইদ্দত পালনকারী কোনো মহিলাকে বলে যে, আমার বিয়ে করার ইচ্ছে আছে। আমি কোনো নেককার মহিলাকে পেতে ইচ্ছে পোষণ করি।” কাসিম (রহঃ) বলেন, এ আয়াতের ব্যাখ্যা হচ্ছে, যেন কোনো ব্যক্তি বলল, তুমি আমার কাছে খুবই সম্মানিতা এবং আমি তোমাকে পছন্দ করি। আল্লাহ তোমার জন্য কল্যাণ বর্ষণ করুন। অথবা এ ধরনের উক্তি। ‘আত্বা (রহঃ) বলেন, বিয়ের ইচ্ছে ইশারায় ব্যক্ত করা উচিত, খোলাখুলি এ ধরনের কোনো কথা বলা ঠিক নয়।কেউ এ ধরনের বলতে পারে, আমার এ সকল গুণের প্রয়োজন আছে। আর তোমার জন্য সুখবর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য আপনি পুনঃ বিয়ের উপযুক্ত। সে মহিলাও বলতে পারে- আপনি যা বলেছেন, তা আমি শুনেছি কিন্তু এর অধিক ওয়াদা করা ঠিক নয়। তার অভিভাবকদেরও তার অজ্ঞাতে কোনো প্রকার ওয়াদা দেয়া ঠিক নয়। কিন্তু যদি কেউ ইদ্দতের মাঝে কাউকে বিয়ের কোনো প্রকার ওয়াদা করে এবং ইদ্দত শেষে সে ব্যক্তি যদি তাকে বিয়ে করে তবে সেই বিয়ে বিচ্ছেদ করতে হবে না। হাসান (রহঃ) বলেছেন, ﴾لاَ تَوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا﴿ এর অর্থ হল: ব্যভিচার। ইবন ‘আব্বাস (রাঃ)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথা বলা হয় যে, ﴾حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ﴿ অর্থ হল- ‘ইদ্দত পূর্ণ হওয়া।"

ইদ্দতকালে বিয়ের ইঙ্গিত: শালীন কথা ও সীমা মানার শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫১২৪

وَقَالَ لِي طَلْقٌ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، ﴾فِيمَا عَرَّضْتُمْ} يَقُولُ إِنِّي أُرِيدُ التَّزْوِيجَ، وَلَوَدِدْتُ أَنَّهُ تَيَسَّرَ لِي امْرَأَةٌ صَالِحَةٌ. وَقَالَ الْقَاسِمُ يَقُولُ إِنَّكِ عَلَىَّ كَرِيمَةٌ، وَإِنِّي فِيكِ لَرَاغِبٌ، وَإِنَّ اللَّهَ لَسَائِقٌ إِلَيْكِ خَيْرًا. أَوْ نَحْوَ هَذَا.وَقَالَ عَطَاءٌ يُعَرِّضُ وَلاَ يَبُوحُ يَقُولُ إِنَّ لِي حَاجَةً وَأَبْشِرِي، وَأَنْتِ بِحَمْدِ اللَّهِ نَافِقَةٌ. وَتَقُولُ هِيَ قَدْ أَسْمَعُ مَا تَقُولُ. وَلاَ تَعِدُ شَيْئًا وَلاَ يُوَاعِدُ وَلِيُّهَا بِغَيْرِ عِلْمِهَا، وَإِنْ وَاعَدَتْ رَجُلاً فِي عِدَّتِهَا ثُمَّ نَكَحَهَا بَعْدُ لَمْ يُفَرَّقْ بَيْنَهُمَا. وَقَالَ الْحَسَنُ ﴾لاَ تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا} الزِّنَا. وَيُذْكَرُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ﴾الْكِتَابُ أَجَلَهُ﴿ تَنْقَضِي الْعِدَّةُ.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

“যদি কোন ব্যক্তি ইদ্দত পালনকারী কোন মহিলাকে বলে যে, আমার বিয়ে করার ইচ্ছে আছে। আমি কোন নেক্‌কার মহিলাকে পেতে ইচ্ছে পোষণ করি।” কাসিম (রহঃ) বলেন, এ আয়াতের ব্যাখ্যা হচ্ছে, যেন কোন ব্যক্তি বলল, তুমি আমার কাছে খুবই সম্মানিতা এবং আমি তোমাকে পছন্দ করি। আল্লাহ্‌ তোমার জন্য কল্যাণ বর্ষণ করুন। অথবা এ ধরনের উক্তি।‘আত্বা (রহঃ) বলেন, বিয়ের ইচ্ছে ইশারায় ব্যক্ত করা উচিত, খোলাখুলি এ ধরনের কোন কথা বলা ঠিক নয়। কেউ এ ধরনের বলতে পারে, আমার এ সকল গুণের প্রয়োজন আছে। আর তোমার জন্য সুখবর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য আপনি পুন: বিয়ের উপযুক্ত। সে মহিলাও বলতে পারে- আপনি যা বলেছেন, তা আমি শুনেছি কিন্তু এর অধিক ওয়াদা করা ঠিক নয়। তার অভিভাবকদেরও তার অজ্ঞাতে কোন প্রকার ওয়াদা দেয়া ঠিক নয়। কিন্তু যদি কেউ ইদ্দতের মাঝে কাউকে বিয়ের কোন প্রকার ওয়াদা করে এবং ইদ্দত শেষে সে ব্যক্তি যদি তাকে বিয়ে করে তবে সেই বিয়ে বিচ্ছেদ করতে হবে না।হাসান (রহঃ) বলেছেন, لاَ تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا এর অর্থ হল: ব্যভিচার। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথা বলা হয় যে, لاَ تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا অর্থ হল- ‘ইদ্দত পূর্ণ হওয়া।

সহীহ বুখারী হাদিস ৫১২৪-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় ইদ্দত পালনকারী নারীর সঙ্গে বিয়ের ইচ্ছা প্রকাশের ভাষা নিয়ে আলোচনা এসেছে। বলা হয়েছে, সরাসরি স্পষ্ট প্রস্তাব না দিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলা যেতে পারে। যেমন কেউ বলতে পারে, আমার বিয়ে করার ইচ্ছে আছে, বা আমি নেককার নারী চাই। কাসিম রহঃ ও আতা রহঃ এমন কিছু ভদ্র কথার উদাহরণ দিয়েছেন, যাতে প্রতিশ্রুতি নেই এবং চাপও নেই। বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, নারী শুধু শুনেছে বলতে পারে, কিন্তু ওয়াদা করা ঠিক নয়। তার অভিভাবকও তার অজান্তে ওয়াদা দেবে না। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ইদ্দতের সময় বিয়ের আলোচনা হলেও তা শালীনতা, অপেক্ষা এবং সীমা মেনে হবে। বর্ণনায় ব্যবহৃত উদাহরণগুলোও কোমল ভাষার, যাতে নারীর ওপর চাপ না পড়ে এবং ইদ্দতের সীমাও ভাঙা না হয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইদ্দতের সময় সরাসরি বিয়ের ওয়াদা করা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা আছে।
  • ভদ্র ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলা যেতে পারে, তবে চাপ দেওয়া যাবে না।
  • নারীর অজান্তে অভিভাবকের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ঠিক নয়।
  • ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন