৬৮/৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৬০ - তিন তালাকের পর ফিরে যাওয়ার শর্ত

যারা তিন তালাককে জায়েয মনে করেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণী:

﴾الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ﴿“এই তালাক দু’বার, এরপর হয় সে বিধিমত রেখে দিবে অথবা সদয়ভাবে মুক্তি দিবে।” (সূরা আল-বাকারা ২/২২৯)وَقَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ فِي مَرِيضٍ طَلَّقَ لَا أَرَى أَنْ تَرِثَ مَبْتُوتَتُهُ وَقَالَ الشَّعْبِيُّ تَرِثُهُ وَقَالَ ابْنُ شُبْرُمَةَ تَزَوَّجُ إِذَا انْقَضَتِ الْعِدَّةُ؟ قَالَ نَعَمْ قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ مَاتَ الزَّوْجُ الْآخَرُ فَرَجَعَ عَنْ ذَلِكَ.ইবন যুবাইর (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় তালাক দেয় তার তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী ওয়ারিস হবে বলে আমি মনে করি না। শা‘বী (রহঃ) বলেন, ওয়ারিস হবে। ইবন শুবরুমা জিজ্ঞেস করলেন: ইদ্দত শেষ হওয়ার পর সে মহিলা অন্যত্র বিবাহ করতে পারবে কি? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। ইবন শুবরুমা আবার প্রশ্ন করলেন: যদি দ্বিতীয় স্বামীও মৃত্যু বরণ করে তবে? (অর্থাৎ আপনার মতানুযায়ী উক্ত স্ত্রীর উভয় স্বামীর ওয়ারিস হওয়া জরুরী হয়। এরপর শা‘বী তাঁর ঐ কথা ফিরিয়ে নেন।"

তিন তালাকের পর প্রথম স্বামীর কাছে ফেরার বিধান

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২৬০

سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْه“ أَنَّ امْرَأَةَ رِفَاعَةَ الْقُرَظِيِّ جَاءَتْ إِلٰى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ رِفَاعَةَ طَلَّقَنِي فَبَتَّ طَلاَقِي وَإِنِّي نَكَحْتُ بَعْدَه“ عَبْدَ الرَّحْمٰنِ بْنَ الزُّبَيْرِ الْقُرَظِيَّ وَإِنَّمَا مَعَه“ مِثْلُ الْهُدْبَةِ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَعَلَّكِ تُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلٰى رِفَاعَةَ لاَ حَتّٰى يَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ وَتَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ.

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রিফা‘আ কুরাযীর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)- এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! রিফা‘আ আমাকে পূর্ণ সম্পর্কচ্ছেদের তালাক (তিন তালাক) দিয়েছে। পরে আমি ‘আবদুর রহমান ইব্‌ন যুবায়র কুরাযীকে বিয়ে করি। কিন্তু তার কাছে আছে কাপড়ের পুঁটলির মত একটি জিনিস। রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেনঃ সম্ভবতঃ তুমি রিফা‘আর নিকট ফিরে যেতে ইচ্ছে করছ। কিন্তু তা তো সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সে (অর্থাৎ দ্বিতীয় স্বামী) তোমার স্বাদ গ্রহণ করে এবং তুমি তার স্বাদ গ্রহণ কর।

[২৬] যথা নিয়মে তিন তালাক দত্তা স্ত্রীকে আবার ফিরিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে অন্য কোন পুরুষের সঙ্গে এমন শর্তে বিবাহ দেয়া যে স্ত্রীর সঙ্গে মিলনের পর পুরুষটি তাকে তালাক দিয়ে দেবে যাতে প্রথম পুরুষটি তার তিন তালাক দত্তা স্ত্রীকে আবার বিয়ে কতে পারে। এরকম শর্তাধীন বিয়ের ব্যবস্থাকে হালালা বলা হয় যা অত্যন্ত ঘৃণিত হারাম কাজ। রসুল (ﷺ) হিলাকারী পুরুষ ও যার জন্য হিলা করা হয় উভয়কে ভাড়াটিয়া ষাঁড় নামে আখ্যায়িত করে উভয়ের প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করেছেন। (দ্রষ্টব্য ইব্‌নু মাজাহ‘র হাদীস) আমাদের সমাজের কিছু কিছু আলেম আছেন যারা তিন তালাক হয়ে যাবে এ ফতোওয়া দিয়ে বলে থাকেন যে, একমাত্র উপায় তালাক প্রাপ্তা মহিলাকে হালালা করতে হবে। আর তার পদ্ধতি হচ্ছে তাকে আর একজন পুরুষের সাথে বিবাহ দিয়ে একরাত্রি যাপন করিয়ে তাকে দিয়ে তালাক দেয়াতে হবে। না‘উযুবিল্লাহি মিন যালিক। আমার মনে হয় সেই সব তথাকথিত আলেমগণ নিজেরাই ভাড়াটিয়া ষাঁড় সাজার খাহেশে এরূপ ফতোওয়া দিয়ে থাকেন। অথচ রাসূল (ﷺ) এরূপ ব্যক্তিকে ভাড়াটিয়া ষাঁড় বলে তার উপর অভিশাপের বদ দু'আ করেছেন।(আরবী) আবদুল্লাহ ইব্‌নু মাস‘উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) অভিশাপ দিয়েছেন হালালকারীকে আর যার জন্য হালাল করা হচ্ছে তাকে। হাদীসটি উল্লেখ করেছেন ইমাম তিরমিযী ৪/২২১, ২২২ (তোহফাতুল আহওয়াজী সহ), ইব্‌নু মাজাহ (১/৬২৩) ও নাসাঈ।(আরবী) ‘উকবাহ ইব্‌নু ‘আমির বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদেরকে কি সংবাদ দিবনা ভাড়া করা ষাঁড় (পাঁঠা) সম্পর্কে? তারা (উপস্থিত সহাবীগণ) বললেনঃ জি হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল। (রাসূল) বললেনঃ সে হচ্ছে হালালকারী। আল্লাহর অভিশাপ হালালকারীর উপর আর যার জন্য হালাল করা হয় তার উপর। হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইব্‌নু মাজাহ (১/৬২৩) বইরুত ছাপা।অতএব তথাকথিত আলিমদের খপ্পরে না পড়ে আপনারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে যদি এরূপ সমস্যায় জড়িয়ে পড়ে থাকেন তাহলে একত্রে দেয়া তিন তালাককে সুন্নাতের উপর আমল করার স্বার্থে এক তালাক গণ্য করে পুনরায় সংসারে ফিরে সংসার করা আরম্ভ করুন। ইনশাআল্লাহ নবীর সুন্নাতের উপর আমল করার কারণে আপনারা সাওয়াবের ভাগীদার হবেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৬০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে তিন তালাকের পর প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এসেছে। রিফা‘আ কুরাযীর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে জানান, রিফা‘আ তাকে পূর্ণ সম্পর্কচ্ছেদের তালাক দিয়েছেন। এরপর তিনি আবদুর রহমান ইবন যুবায়রকে বিয়ে করেছেন, কিন্তু তার সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কের সমস্যা রয়েছে। তিনি বুঝতে চাইছিলেন, এ অবস্থায় কি প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়া যাবে? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্ট করে বলেন, তা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামী তার স্বাদ গ্রহণ করে এবং সেও দ্বিতীয় স্বামীর স্বাদ গ্রহণ করে। তাই এই হাদিসের মূল কথা হলো, তিন তালাকের পর শুধু নতুন বিয়ে করলেই আগের স্বামীর কাছে ফেরা বৈধ হয় না; বাস্তব দাম্পত্য সম্পর্কের বিষয়টিও এখানে শর্ত হিসেবে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তিন তালাকের পর প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে।
  • শুধু ইচ্ছা বা আবেগের ভিত্তিতে বৈবাহিক বিধান বদলে যায় না।
  • দাম্পত্য জীবনের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত চাওয়া সাহাবীদের নিয়ম ছিল।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন