৭২/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪৯৪ - জায়শুল খাবত ও আম্বর মাছের ঘটনা
মহান আল্লাহর ইরশাদ: তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার হালাল করা হয়েছে... (সূরা আল-মায়িদা ৫/৯৬)
وَقَالَ عُمَرُ صَيْدُهُ مَا اصْطِيدَ وَطَعَامُهُ مَا رَمَى بِهِ وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ الطَّافِي حَلَالٌ.وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ طَعَامُهُ مَيْتَتُهُ إِلَّا مَا قَذِرْتَ مِنْهَا وَالْجِرِّيُّ لَا تَأْكُلُهُ الْيَهُودُ وَنَحْنُ نَأْكُلُهُ.وَقَالَ شُرَيْحٌ صَاحِبُ النَّبِيِّ ﷺ كُلُّ شَيْءٍ فِي الْبَحْرِ مَذْبُوحٌ وَقَالَ عَطَاءٌ أَمَّا الطَّيْرُ فَأَرَى أَنْ يَذْبَحَهُ وَقَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ قُلْتُ لِعَطَاءٍ صَيْدُ الْأَنْهَارِ وَقِلَاتِ السَّيْلِ أَصَيْدُ بَحْرٍ هُوَ قَالَ نَعَمْ ثُمَّ تَلَا ﴾هَذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ سَائِغٌ شَرَابُهُ وَهَذَا مِلْحٌ أُجَاجٌ وَمِنْ كُلٍّ تَأْكُلُونَ لَحْمًا طَرِيًّا﴿ وَرَكِبَ الْحَسَنُ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَلَى سَرْجٍ مِنْ جُلُودِ كِلَابِ الْمَاءِ وَقَالَ الشَّعْبِيُّ لَوْ أَنَّ أَهْلِي أَكَلُوا الضَّفَادِعَ لَأَطْعَمْتُهُمْ وَلَمْ يَرَ الْحَسَنُ بِالسُّلَحْفَاةِ بَأْسًا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كُلْ مِنْ صَيْدِ الْبَحْرِ نَصْرَانِيٌّ أَوْ يَهُودِيٌّ أَوْ مَجُوسِيٌّ وَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ فِي الْمُرِيِّ ذَبْحُ الْخَمْرِ النِّينَانُ وَالشَّمْسُ.‘উমার (রাঃ) বলেছেন, صَيْدُهُ যা শিকার করা হয়, আর طَعَامُهُ সমুদ্র যাকে নিক্ষেপ করে। আবূ বকর (রাঃ) বলেছেন: মরে যা ভেসে উঠে তা হালাল।ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন: طَعَامُهُ সমুদ্রে প্রাপ্ত মৃত জানোয়ার খাদ্য, তবে তন্মধ্যে যেটি ঘৃণিত সেটি ব্যতীত। বাইন জাতীয় মাছ ইয়াহূদীরা খায় না, আমরা খাই।আবূ শুরাইহ (রাঃ) যিনি নবী (ﷺ)-এর সাহাবী তিনি বলেছেন: সমুদ্রের সব জিনিসই যবেহকৃত বলে গণ্য। ‘আত্বা (রহঃ) বলেছেন: (সমুদ্রের) পাখি সম্পর্কে আমার মত সেটিকে যবেহ করতে হবে। ইবন জুরাইজ (রহঃ) বলেন, আমি ‘আত্বা (রহঃ)-কে খাল, বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ের শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম: এগুলো কি সমুদ্রের শিকারের অন্তর্ভুক্ত? তিনি উত্তর দিলেন: হাঁ।তারপর তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন: “একটি সুমিষ্ট, সুস্বাদু, সুপেয়; অন্যটি লবণাক্ত, বিস্বাদ। তথাপি তোমরা সকল (প্রকার পানি) থেকে তাজা গোশত আহার কর।” (সূরা ফাতির ৩৫/১২) হাসান ভোঁদড়ের চামড়ায় নির্মিত ঘোড়ার গদির উপর আরোহণ করেছেন। শা‘বী (রহঃ) বলেছেন: আমার পরিবারের লোকেরা যদি ব্যাঙ খেত, তাহলে আমি তাদের তা খাওয়াতাম। হাসান (রহঃ) কচ্ছপ খাওয়াকে দোষের মনে করতেন না। ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন: সমুদ্রের সব ধরনের শিকার খেতে পার, যদিও তা কোনো ইয়াহূদী কিংবা খৃস্টান কিংবা অগ্নিপূজক শিকার করে থাকে। আবূদ দারদা (রাঃ) বলেন: মাছ ও সূর্যের তাপ শরাবকে পাক করে।"
জায়শুল খাবত: ক্ষুধা, আম্বর মাছ ও রিযিকের বিস্ময়কর ঘটনা
সহীহ বুখারী : ৫৪৯৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৪৯৪
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو قَالَ سَمِعْتُ جَابِرًا يَقُوْلُ بَعَثَنَا النَّبِيُّ ﷺ ثَلاَثَ مِائَةِ رَاكِبٍ وَأَمِيرُنَا أَبُو عُبَيْدَةَ نَرْصُدُ عِيرًا لِقُرَيْشٍ فَأَصَابَنَا جُوعٌ شَدِيدٌ حَتّٰى أَكَلْنَا الْخَبَطَ فَسُمِّيَ جَيْشَ الْخَبَطِ وَأَلْقَى الْبَحْرُ حُوتًا يُقَالُ لَهُ الْعَنْبَرُ فَأَكَلْنَا نِصْفَ شَهْرٍ وَادَّهَنَّا بِوَدَكِه„ حَتّٰى صَلَحَتْ أَجْسَامُنَا قَالَ فَأَخَذَ أَبُو عُبَيْدَةَ ضِلَعًا مِنْ أَضْلاَعِه„ فَنَصَبَه“ فَمَرَّ الرَّاكِبُ تَحْتَه“ وَكَانَ فِينَا رَجُلٌ فَلَمَّا اشْتَدَّ الْجُوعُ نَحَرَ ثَلاَثَ جَزَائِرَ ثُمَّ ثَلاَثَ جَزَائِرَ ثُمَّ نَهَاه“ أَبُو عُبَيْدَةَ.
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) আমাদের তিনশ’ সাওয়ার পাঠালেন- আমাদের সেনাপতি ছিলেন আবূ ‘উবাদাহ (রাঃ)। উদ্দেশ্য ছিল আমরা যেন কুরাইশদের একটি কাফেলার অপেক্ষা করি। তখন আমাদের অত্যন্ত ক্ষিধে পেল। এমন কি আমরা الْخَبَطَ (গাছের পাতা) খেতে আরম্ভ করলাম। ফলে এ বাহিনীর নামকরণ করা হয় “জায়শুল খাবত”।তখন সমুদ্র আম্বর নামক একটি মাছ পাড়ে নিক্ষেপ করে। আমরা এটি অর্ধমাস আহার করলাম। আমরা এর চর্বি তেল রূপে গায়ে মাখতাম। ফলে আমাদের শরীর সতেজ হতে উঠে। আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) মাছটির পাঁজরের কাঁটাগুলোর একটি খাড়া করে ধরলেন, তখন একজন অশ্বারোহী তার নিচ দিয়ে অতিক্রম করে গেল। আমাদের মধ্যে (কায়েস ইবনু না’দ) এক ব্যক্তি ছিলেন, খাদ্যাভাব তখন ভীষণ আকার ধারণ করেছিল। তখন তিনি তিনটি উট যবাহ করেন। তারপর আরো তিনটি যবহ করেন। এরপর আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) তাঁকে নিষেধ করলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জায়শুল খাবত অভিযানের বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তিনশ সাওয়ার পাঠিয়েছিলেন এবং তাদের আমীর ছিলেন আবু উবাইদা (রাঃ)। তীব্র ক্ষুধায় তারা খাবত বা গাছের পাতা খেতে শুরু করেন। পরে সমুদ্র আম্বর নামের একটি বড় মাছ তীরে ফেলে। তারা অর্ধমাস তা খান এবং তার চর্বি গায়ে মাখেন, ফলে শরীর সতেজ হতে থাকে। মাছের পাঁজরের কাঁটার নিচ দিয়ে অশ্বারোহী চলে যাওয়ার কথাও এসেছে। খাদ্যাভাবের সময় একজন ব্যক্তি উট জবাই করছিলেন, পরে আবু উবাইদা (রাঃ) তাকে নিষেধ করেন। এটি ক্ষুধা, শৃঙ্খলা ও আল্লাহর রিযিকের ঘটনা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন খাদ্যসংকটে সাহাবীরা ধৈর্য ধরেছিলেন।
- সমুদ্রের আম্বর মাছ তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা হয়েছিল।
- অভিযানে খাদ্য ব্যবহারে নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলার বিষয় দেখা যায়।
- হাদিসে মাছের চর্বি ব্যবহারের কথাও এসেছে।
