১০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৬০৯ - উচ্চকণ্ঠে আজানের ফজিলত
আজানের আওয়াজ উচ্চ করা।
وَقَالَ عُمَرَ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَذِّنْ أَذَانًا سَمْحًا وَإِلَّا فَاعْتَزِلْنَا.‘উমার ইবন ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) (মুয়াজ্জিনকে) বলতেন, স্বাভাবিক কণ্ঠে সাদাসিধাভাবে আযান দাও, নতুবা এ পদ ছেড়ে দাও।"
মুয়াজ্জিনের ফজিলত: উচ্চকণ্ঠে আজান দেওয়ার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৬০৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৬০৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ الأَنْصَارِيِّ، ثُمَّ الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَ لَهُ «إِنِّي أَرَاكَ تُحِبُّ الْغَنَمَ وَالْبَادِيَةَ، فَإِذَا كُنْتَ فِي غَنَمِكَ أَوْ بَادِيَتِكَ فَأَذَّنْتَ بِالصَّلاَةِ فَارْفَعْ صَوْتَكَ بِالنِّدَاءِ، فَإِنَّهُ لاَ يَسْمَعُ مَدَى صَوْتِ الْمُؤَذِّنِ جِنٌّ وَلاَ إِنْسٌ وَلاَ شَىْءٌ إِلاَّ شَهِدَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ». قَالَ أَبُو سَعِيدٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ.
‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাকে তার পিতা সংবাদ দিয়েছেন যে, আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমি দেখছি তুমি বক্রী চরানো এবং বন-জঙ্গলকে ভালোবাসো। তাই তুমি যখন বক্রী নিয়ে থাকো, বা বন-জঙ্গলে থাকো এবং সালাতের জন্য আযান দাও, তখন উচ্চকণ্ঠে আযান দাও। কেননা, জিন্, ইনসান বা যে কোন বস্তুই যতদূর পর্যন্ত মুয়াজ্জিনের আওয়াজ শুনবে, সে কেয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। আবূ সা’ঈদ (রাঃ) বলেন, এ কথা আমি আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর নিকট শুনেছি।
সহীহ বুখারী হাদিস ৬০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু সাঈদ খুদরি (রাঃ) একজনকে বলেন, তুমি বকরী চরানো ও বন-জঙ্গল ভালোবাসো। তাই যখন তুমি বকরী নিয়ে থাকো বা জনমানবহীন এলাকায় থাকো এবং সালাতের জন্য আজান দাও, তখন উচ্চকণ্ঠে আজান দাও। কারণ মুয়াজ্জিনের আওয়াজ যতদূর পৌঁছায়, জিন, মানুষ বা যে কোনো বস্তু কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। আবু সাঈদ (রাঃ) জানান, তিনি এটি রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর কাছ থেকে শুনেছেন। হাদিসটি দেখায়, আজান শুধু শহর বা মসজিদের বিষয় নয়; একা অবস্থাতেও সালাতের আহ্বানের মর্যাদা আছে। মুয়াজ্জিনের ফজিলত এখানে সাক্ষ্যের মাধ্যমে সুন্দরভাবে বোঝানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আজান একা বা দূর এলাকায় থাকলেও গুরুত্ব রাখে।
- মুয়াজ্জিনের আওয়াজের সাক্ষ্য কিয়ামতের দিনে তার পক্ষে হবে।
- সালাতের আহ্বানকে সম্মান ও যত্নের সাথে দেওয়া উচিত।
