৯৬/২৯. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণী: তারা নিজেদের মাঝে পরামর্শের ভিত্তিতে নিজেদের কর্ম সম্পাদন করে। (সূরা আশ-শূরা ৪২/৩৮)
এবং পরামর্শ করো তাঁদের সঙ্গে (দীনী) কাজের ব্যাপারে। পরামর্শ হলো স্থির সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও লক্ষ্য নির্ধারণের পূর্বে। যেমন আল্লাহর বাণী: “অতঃপর যখন তুমি দৃঢ়সংকল্প হও, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করো”— (সূরা আল-ইমরান ৩/১৫৯)। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন কোনো বিষয়ে দৃঢ়সংকল্প হন, তখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মতের বিপক্ষে যাওয়ার কারো কোনো অধিকার থাকে না।উহুদের যুদ্ধের দিনে নবী (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে এ পরামর্শ করেন যে, যুদ্ধ কি মদীনায় থেকেই চালাবেন, না বাইরে গিয়ে? সাহাবাগণ মদীনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করার রায় দিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যুদ্ধের পোশাক পরলেন এবং যখন যুদ্ধের জন্য দৃঢ়সংকল্প হলেন, তখন সাহাবীগণ আবেদন জানালেন—মদীনাতেই অবস্থান করুন। কিন্তু তিনি দৃঢ়সংকল্প হবার পর তাঁদের এ মতামতের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করলেন না। তিনি মন্তব্য করলেন: “কোনো নবীর সামরিক পোশাক পরার পর আল্লাহর পক্ষ থেকে হুকুম না পাওয়া পর্যন্ত তা খুলে ফেলা উচিত নয়।”তিনি ‘আলী (রাঃ) ও উসামাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে ‘আয়িশা (রাঃ)-এর ওপর যিনার মিথ্যা অপবাদ লাগানো সম্পর্কে পরামর্শ করেন। তাঁদের কথা তিনি শোনেন। অতঃপর কুরআনের আয়াত নাযিল হয়। মিথ্যা অপবাদকারীদের তিনি বেত্রাঘাত করেন। তাঁদের পারস্পরিক মতপার্থক্যের প্রতি লক্ষ্য না করে আল্লাহর নির্দেশনা মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেন। নবী (ﷺ)-এর পরে ইমামগণ মুবাহ বিষয়ে বিশ্বস্ত আলেমদের কাছে পরামর্শ চান, যেন তুলনামূলক সহজ পথ তাঁরা গ্রহণ করতে পারেন। হ্যাঁ, যদি কিতাব কিংবা সুন্নাহতে আলোচ্য ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যেত, তখন তাঁরা নবী (ﷺ)-এর কথারই অনুসরণ করতেন, অন্য কারো কথার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করতেন না।যাকাত যারা বন্ধ করেছিল, আবূ বকর (রাঃ) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। ‘উমর (রাঃ) তখন বললেন, আপনি কীভাবে লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: “আমি ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা বলবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’।” তারা যখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে তখন তারা আমার নিকট হতে তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা লাভ করবে। তবে ইসলামের হকের ব্যাপার আলাদা। আর সে ব্যাপারে তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর ওপর। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অবশ্যই করব, যারা এমন বিষয় বিচ্ছিন্ন করে যা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সুসংহত করেছেন। অবশেষে উমর (রাঃ) তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নিলেন। আবূ বকর (রাঃ) এ ব্যাপারে কারো সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। কেননা যারা সলাত ও যাকাতের মধ্যে ফারাক সৃষ্টি করে এবং ইসলামের নির্দেশাবলী পরিবর্তন ও বিকৃত করার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সিদ্ধান্ত তাঁর সামনে বিদ্যমান ছিল। নবী (ﷺ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি নিজের দীনকে পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো।”‘উমর (রাঃ)-এর পরামর্শ সভার সদস্যগণ কুরআন বিশেষজ্ঞ ছিলেন—তাঁরা অধিক বয়স্কই হোন কিংবা যুবক। আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে ‘উমর (রাঃ) ছিলেন খুব ওয়াকিফহাল।
সহিহ বুখারী : ৭৩৭০
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৭৩৭০
وَقَالَ أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامٍ. مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي زَكَرِيَّاءَ الْغَسَّانِيُّ عَنْ هِشَامٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ النَّاسَ فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَقَالَ مَا تُشِيرُونَ عَلَيَّ فِي قَوْمٍ يَسُبُّونَ أَهْلِي مَا عَلِمْتُ عَلَيْهِمْ مِنْ سُوءٍ قَطُّ وَعَنْ عُرْوَةَ قَالَ لَمَّا أُخْبِرَتْ عَائِشَةُ بِالأَمْرِ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أَنْطَلِقَ إِلَى أَهْلِي فَأَذِنَ لَهَا وَأَرْسَلَ مَعَهَا الْغُلاَمَ وَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الأَنْصَارِ سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لَنَا أَنْ نَتَكَلَّمَ بِهَذَا سُبْحَانَكَ هَذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের সামনে খুতবা দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। এরপর তিনি বললেন: যারা আমার স্ত্রীর অপবাদ রটিয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের সম্পর্কে তোমরা আমাকে কী পরামর্শ দাও। আমি আমার পরিবারের কারো মধ্যে কখনো খারাপ কিছু দেখিনি।উরওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। আয়েশা (রাঃ)-কে সেই অপবাদ সম্পর্কে জানানো হলে তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে আমার পরিজনের (বাবা-মার) কাছে যাবার অনুমতি দিবেন কি? তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) অনুমতি দিলেন এবং তাঁর সঙ্গে একজন গোলামও পাঠালেন। এক আনসারী বললেন, সুবহানাল্লাহ! এ ধরনের কথা বলা আমাদের উচিত নয়। সুবহানাল্লাহ! এটা তো এক বিরাট অপবাদ, হে আল্লাহ!
আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬৭
