৯৭/২২. অধ্যায়ঃ

আল্লাহর বাণী: তখন তাঁর আরশ পানির ওপর ছিল- (সূরা হূদ ১১/৭)। তিনি আরশে আজীমের প্রতিপালক- (সূরা আত-তাওবা ৯/১২৯)।

আবুল ‘আলীয়া (রহ.) বলেন, اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ এর অর্থ হচ্ছে আসমানকে উড্ডীন করেছেন (সূরা আল-আ‘রাফ ৭/৫৪)। فَسَوَّاهُنَّ এর অর্থ হচ্ছে, তিনি আসমানরাজিকে সৃষ্টি করেছেন। মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন, اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ এর অর্থ হলো আরশের ওপর সমুন্নত হলেন (সূরা আল-আ‘রাফ ৭/৫৪)। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, مَجِيد অর্থ সম্মানিত, الْوَدُودُ অর্থ প্রিয়। বলা হয়ে থাকে, حَمِيدٌ مَجِيدٌ মূলত প্রশংসনীয় ও পবিত্র। বস্তুত এটি مَاجِدٌ থেকে فَعِيلٌ এর ওযনে এসেছে। আর مَحْمُودٌ (প্রশংসনীয়) এসেছে حَمِدَ থেকে।

সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৭৪২০

أَحْمَدُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ جَاءَ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ يَشْكُو فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ اتَّقِ اللهَ وَأَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ قَالَ أَنَسٌ لَوْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَاتِمًا شَيْئًا لَكَتَمَ هَذِهِ قَالَ فَكَانَتْ زَيْنَبُ تَفْخَرُ عَلَى أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَقُولُ زَوَّجَكُنَّ أَهَالِيكُنَّ وَزَوَّجَنِي اللهُ تَعَالَى مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سَمَوَاتٍ وَعَنْ ثَابِتٍ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ نَزَلَتْ فِي شَأْنِ زَيْنَبَ وَزَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ

আনাস (রা:) হতে বর্ণিতঃ

যায়দ বিন হারিসা (রাঃ) অভিযোগ নিয়ে আসলেন। তখন নবী (ﷺ) তাঁকে বলতে লাগলেন, “তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছে রেখে দাও।” আনাস (রাঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যদি কোন জিনিস গোপন করতেন, তাহলে এ আয়াতটি অবশ্যই গোপন করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, যায়নাব (রাঃ) অন্যান্য নবীর স্ত্রীদের কাছে এ বলে গর্ব করতেন যে, “তোমাদেরকে বিয়ে দিয়েছে তোমাদের পরিবার-পরিজন, আর আমাকে স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা সাত আসমানের ওপরে বিয়ে দিয়েছেন।”বর্ণনাকারী সাবিত (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর বাণীঃ আপনি আপনার অন্তরে যা গোপন করতেন আল্লাহ তা প্রকাশ করে দিচ্ছেন, আপনি লোকদের ভয় করছিলেন। এ আয়াতটি যায়নাব ও যায়দ বিন হারিসা (রাঃ) সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল।

(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৫)[২১২] অতি সম্ভ্রান্ত কোরাইশ কুল রমণী যয়নব বিনত্ জাহাসের সঙ্গে নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় পালকপুত্র যায়েদ বিন হারেসা (রাঃ) -এর বিবাহ দেন। কিন্তু তাদের দাম্পত্য জীবনে মনোমালিন্য দেখা দেয়। এ সময় আল্লাহ তা‘আলা নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ওয়াহী যোগে জানিয়ে দেন যে , যায়দ যয়নবকে তালাক দিয়ে দিবে এবং তুমি যয়নাবকে বিয়ে করবে। আর রাসূল (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন যে, যয়নব তালাক প্রাপ্তা হলে তিনি তাকে বিয়ে করবেন। ওয়াহী যোগে এই একথা জানার পরেও নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যায়দকে বুঝালেন যেন সে স্ত্রীকে তালাক না দেয়। কারণ তখনকার আরবে পালক পুত্রের তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করার রেওয়াজ ছিল না। আল্লাহর অভিপ্রায় জেনে নেয়ার পরেও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যায়দকে নাসীহাত করলেন যা বিশ্ব নবীর মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন