১২/৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৯৪৫ - খন্দকের দিনে আসর সালাত আদায়ের শিক্ষা

দুর্গ অবরোধ ও শত্রুর মুখোমুখী অবস্থায় সালাত।

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيُّ إِنْ كَانَ تَهَيَّأَ الْفَتْحُ وَلَمْ يَقْدِرُوا عَلَى الصَّلَاةِ صَلُّوا إِيمَاءً كُلُّ امْرِئٍ لِنَفْسِهِ فَإِنْ لَمْ يَقْدِرُوا عَلَى الْإِيمَاءِ أَخَّرُوا الصَّلَاةَ حَتَّى يَنْكَشِفَ الْقِتَالُ أَوْ يَأْمَنُوا فَيُصَلُّوا رَكْعَتَيْنِ فَإِنْ لَمْ يَقْدِرُوا صَلُّوا رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْنِ فَإِنْ لَمْ يَقْدِرُوا لَا يُجْزِئُهُمُ التَّكْبِيرُ وَيُؤَخِّرُوهَا حَتَّى يَأْمَنُوا وَبِهِ قَالَ مَكْحُولٌ وَقَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ حَضَرْتُ عِنْدَ مُنَاهَضَةِ حِصْنِ تُسْتَرَ عِنْدَ إِضَاءَةِ الْفَجْرِ وَاشْتَدَّ اشْتِعَالُ الْقِتَالِ فَلَمْ يَقْدِرُوا عَلَى الصَّلَاةِ فَلَمْ نُصَلِّ إِلَّا بَعْدَ ارْتِفَاعِ النَّهَارِ فَصَلَّيْنَاهَا وَنَحْنُ مَعَ أَبِي مُوسَى فَفَتَحَ لَنَا وَقَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ وَمَا يَسُرُّنِي بِتِلْكَ الصَّلَاةِ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا.ইমাম আওযা‘য়ী (রহঃ) বলেন, যদি অবস্থা এমন হয় যে, বিজয় আসন্ন কিন্তু শত্রুদের ভয়ে সৈন্যদের (জামা‘আতে) সালাত আদায় করা সম্ভব নয়, তাহলে সবাই একাকী ইঙ্গিতে সালাত আদায় করবে। আর যদি ইঙ্গিতে আদায় করতে না পার তবে সালাত বিলম্বিত করবে। যে পর্যন্ত না যুদ্ধ শেষ হয় বা তারা নিরাপদ হয়। অতঃপর দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করবে। যদি (দু’ রাক‘আত) আদায় করতে সক্ষম না হয় তাহলে একটি রুকু ও দু’টি সিজদা (এক রাক‘আত) আদায় করবে।তাও সম্ভব না হলে শুধু তাকবীর বলে সালাত শেষ করা জায়েয হবে না বরং নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত সালাত বিলম্ব করবে। মাকহূল (রহঃ) ও এ মত পোষণ করতেন। আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, (একটি যুদ্ধে) ভোরবেলা তুস্তার দুর্গের উপর আক্রমণ চলছিলো এবং যুদ্ধ প্রচণ্ডরূপ ধারণ করে, ফলে সৈন্যদের সালাত আদায় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। সূর্য উঠার বেশ পরে আমরা সালাত আদায় করেছিলাম। আর আমরা তখন আবূ মূসা (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম, পরে সে দুর্গ আমরা জয় করেছিলাম। আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন, সে সালাতের বিনিময়ে দুনিয়া ও তার সব কিছুতেও আমাকে খুশী করতে পারবে না।"

খন্দকের দিনে আসর সালাত: বিলম্ব হলে সালাত আদায়ের শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯৪৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُبَارَكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَ عُمَرُ يَوْمَ الْخَنْدَقِ، فَجَعَلَ يَسُبُّ كُفَّارَ قُرَيْشٍ وَيَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا صَلَّيْتُ الْعَصْرَ حَتَّى كَادَتِ الشَّمْسُ أَنْ تَغِيبَ. فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ «وَأَنَا وَاللَّهِ مَا صَلَّيْتُهَا بَعْدُ». قَالَ فَنَزَلَ إِلَى بُطْحَانَ فَتَوَضَّأَ، وَصَلَّى الْعَصْرَ بَعْدَ مَا غَابَتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ بَعْدَهَا.

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

খন্দক যুদ্ধের দিন ‘উমর (রাঃ) কুরাইশ গোত্রের কাফিরদের মন্দ বলতে বলতে আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সূর্য প্রায় ডুবে যাচ্ছে, অথচ ‘আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ্‌র কসম! আমিও তা এখনও আদায় করতে পারিনি। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি মদীনার বুতহান উপত্যকায় নেমে ওজু করলেন এবং সূর্যাস্তের পর ‘আসর সালাত আদায় করলেন, অতঃপর মাগরিবের সালাত আদায় করলেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ৯৪৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে খন্দক যুদ্ধের দিনের একটি ঘটনা এসেছে। উমর (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এসে বলেন, সূর্য প্রায় ডুবে যাচ্ছে, অথচ তিনি আসর সালাত আদায় করতে পারেননি। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, আল্লাহর কসম, তিনিও তখনো আসর সালাত আদায় করেননি। এরপর তিনি বুতহান উপত্যকায় নেমে ওজু করেন। সূর্যাস্তের পর আসর সালাত আদায় করেন, তারপর মাগরিবের সালাত আদায় করেন। এখানে মূল বিষয় হলো, কঠিন অবস্থার কারণে সালাত সময়মতো আদায় করা না গেলে তা অবহেলায় ফেলে রাখা হয়নি; বরং সুযোগ পেয়ে আদায় করা হয়েছে। এই হাদিসকে কেন্দ্র করে কাযা সালাত, আসর সালাত এবং খন্দক যুদ্ধের দিনের সালাত নিয়ে মানুষ বেশি খোঁজ করে। তবে ব্যাখ্যাটি শুধু এই বর্ণনার ঘটনার মধ্যেই সীমিত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • খন্দক যুদ্ধের দিনে আসর সালাত বিলম্বিত হয়েছিল বলে বর্ণনায় এসেছে।
  • নবী صلى الله عليه وسلم ওজু করে সূর্যাস্তের পর আসর সালাত আদায় করেন।
  • আসর আদায়ের পর মাগরিব সালাত আদায় করা হয়।
  • কঠিন পরিস্থিতিতেও সালাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন