৩২/১৬. অধ্যায়ঃ
নবী (ﷺ)-এর বাণী (আমাদের সম্পদের কেউ উত্তরাধিকারী হবে না, আমরা যা ছেড়ে যাই তা হচ্ছে সদকা)।
আল লু'লু ওয়াল মারজান : ১১৫০
আল লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১৫০
حديث عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّ فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلاَمُ، ابْنَةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، سَأَلَتْ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ، بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنْ يَقْسِمَ لَهَا مِيرَاثَهَا مَا تَرَكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مِمَّا أَفَاءَ اللهُ عَلَيْهِ فَقَالَ لَهَا أَبُو بَكْرٍ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لاَ نُورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ فَغَضِبَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَهَجَرَتْ أَبَا بَكْرٍ، فَلَمْ تَزَلْ مُهَاجِرَتَهُ حَتَّى تُوُفِّيَتْ وَعَاشَتْ بَعْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سِتَّةَ أَشْهُرٍ [ص: 212] قَالَتْ: وَكَانَتْ فَاطِمَةُ تَسْأَلُ أَبَا بَكْرٍ نَصِيبَهَا مِمَّا تَرَكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ خَيْبَرَ وَفَدَكٍ، وَصَدَقَتِهِ ُ بَالْمَدِينَةِ فَأَبى أَبُو بَكْرٍ عَلَيْهَا ذَلِكَ وَقَالَ: لَسْتُ تَارِكًا شَيْئًا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْمَلُ بِهِ إِلاَّ عَمِلْتُ بِهِ، فَإِنِّي أَخْشى، إِنْ تَرَكْتُ شَيْئًا مِنْ أَمْرِهِ، أَنْ أَزِيغَ فَأَمَّا صَدَقَتُهُ بِالْمَدِينَةِ فَدَفَعَهَا عُمَرُ إِلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ فَأَمَّا خَيْبَرُ وَفَدَكٌ فَأَمْسَكَهَا عُمَرُ، وَقَالَ: هُمَا صَدَقَةُ رَسُولِ اللهِ كَانتَا لِحُقُوقِهِ الَّتِي تَعْرُوهُ وَنَوَائِبِهِ، وَأَمْرُهُمَا إِلَى مَنْ وَلِيَ الأَمْرَ فَهُمَا عَلَى ذلِكَ إِلَى الْيَوْمِ
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ফাতিমাহ বিনতে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) এর ইন্তিকালের পর তাঁর মিরাস বন্টনের দাবী করেন। যা আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) ফায় হিসেবে আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক তাঁকে প্রদত্ত সম্পদ রেখে গেছেন। অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘আমাদের পরিত্যক্ত সম্পদ বণ্টিত হবে না, আমরা যা ছেড়ে যাই তা সদাকাহ রূপে গণ্য হয়।’ এতে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর কন্যা ফাতিমাহ (রাঃ) অসন্তুষ্ট হলেন এবং আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর সঙ্গে কথাবার্তা বলা ছেড়ে দিলেন। এ অবস্থা তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত বহাল ছিল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর ওফাতের পর ফাতিমাহ (রাঃ) ছয়মাস জীবিত ছিলেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, ফাতিমাহ (রাঃ) আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর নিকট আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কর্তৃক ত্যাজ্য খায়বার ও ফাদাকের ভূমি এবং মাদীনাহ্র সাদ্কাতে তাঁর অংশ দাবী করেছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানান এবং তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যা আমল করতেন, আমি তাই আমল করব। আমি তার কোন কিছুই ছেড়ে দিতে পারি না। কেননা আমি আশংকা করি যে, তাঁর কোন কথা ছেড়ে দিয়ে আমি পথভ্রষ্ট হয়ে না যাই। অবশ্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর মাদীনাহ্র সদাকাহ্কে ‘উমার (রাঃ) ‘আলী ও ‘আব্বাস (রাঃ) -এর নিকট হস্তান্তর করেন। আর খায়বার ও ফাদাকের ভূমিকে আগের মত রেখে দেন। ‘উমার (রাঃ) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ সম্পত্তি দুইটিকে রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) জরুরী প্রয়োজন পূরণ ও বিপদকালীন সময়ে ব্যয়ের জন্য রেখেছিলেন। সুতরাং এ সম্পত্তি দুইটি তাঁরই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে, যিনি মুসলিমদের শাসক খলীফা হবেন।’ যুহরী (রহ.) বলেন, এ সম্পত্তি দুইটির ব্যবস্থাপনা আজ পর্যন্ত ও রকমই আছে।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৫৭ : খুমুস (এক পঞ্চমাংশ), অধ্যায় ১, হাঃ ৩০৯৩; মুসলিম, পর্ব ৩২: জিহাদ, অধ্যায় ১৬, হাঃ ১৭৫৯
