১২/১৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫৮২ - প্রিয় সম্পদ আল্লাহর পথে দানের শিক্ষা
নিকটাত্মীয়, পরিবার, সন্তান-সন্ততির উপর খরচ করা ও সদকা করার মর্যাদা যদিও তারা মুশরিক হয়।
প্রিয় সম্পদ দান: বায়রুহা বাগানের হাদিসের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৫৮২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৫৮২
حديث أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ أَبُو طَلْحَةَ أَكْثَرَ الأَنْصَارِ بِالْمَدِينَةِ مَالاً مِنْ نَخْلٍ، وَكَانَ أَحَبَّ أَمْوَالِهِ إِلَيْهِ بَيْرُحَاءَ، وَكَانَتْ مُسْتَقْبِلَةَ الْمَسْجِدِ، وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُهَا وَيَشْرَبُ مِنْ مَاءٍ فِيهَا طَيِّبٍ؛قَالَ أَنَسٌ: فَلَمَّا أُنْزِلَتْ هذِهِ الآيَة (لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ) قَامَ أَبُو طَلْحَةَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ (لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ) وَإِنَّ أَحَبَّ أَمْوَالِي إِلَيَّ بَيْرُحَاءُ، وَإِنَّهَا صَدَقَةٌ للهِ؛ أَرْجُو بِرَّهَا وَذُخْرَهَا عِنْدَ اللهِ؛ فَضَعْهَا [ص: 205] يَا رَسُولَ اللهِ حَيْثُ أَرَاكَ اللهُقَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بَخْ ذلِكَ مَالٌ رَابِحٌ، ذلِكَ مَالٌ رَابِحٌ، وَقَدْ سَمِعْتُ مَا قُلْتَ، وَإِنِّي أَرَى أَنْ تَجْعَلَهَا فِي الأَقْرَبِينَ فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ: أَفْعَلُ يَا رَسُولَ اللهِ فَقَسَمَهَا أَبُو طَلْحَةَ فِي أَقَارِبِهِ وَبَنِي عَمِّهِ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মাদীনার আনসারীগণের মধ্যে আবূ তালহা (রাঃ) সবচাইতে বেশী খেজুর বাগানের মালিক ছিলেন। মসজিদে নাববীর নিকটবর্তী বায়রুহা নামক বাগানটি তাঁর কাছে অধিক প্রিয় ছিল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর বাগানে প্রবেশ করে এর সুপেয় পানি পান করতেন।আনাস (রাঃ) বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করবে না”- (আল ইমরানঃ ৯২) তখন আবূ তালহা (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ বলেছেনঃ “তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করবে না”- (আলু ইমরানঃ ৯২) আর বায়রুহা বাগানটি আমার কাছে অধিক প্রিয়। এটি আল্লাহর নামে সদাকাহ করা হলো, আমি এর কল্যাণ কামনা করি এবং তা আল্লাহর নিকট আমার জন্য সঞ্চয়রূপে থাকবে। কাজেই আপনি যাকে দান করা ভাল মনে করেন তাকে দান করুন।তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমাকে ধন্যবাদ, এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ, এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ। তুমি যা বলেছ তা শুনলাম। আমি মনে করি, তোমার আপন জনদের মধ্যে তা বণ্টন করে দাও। আবূ তালহা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাই করব। অতঃপর তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজন, আপন চাচার বংশধরের মধ্যে তা বণ্টন করে দিলেন।রাবী রাওহ (রহ.) . . . . . শব্দে ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ইউসুফ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। আর রাবী ইয়াহইয়া ইব্নু ইয়াহইয়া (রহ.) ও ইসমা‘ঈল (রহ.) মালিক (রহ.) হতে .. . . . শব্দ বলেছেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৪: যাকাত, অধ্যায় ৪৪, হাঃ ১৪৬১; মুসলিম, পর্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ১৪, হাঃ ৯৯৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ তালহা রাঃ-এর এক সুন্দর দানের ঘটনা এসেছে। তাঁর অনেক খেজুর বাগান ছিল, কিন্তু বায়রুহা বাগানটি ছিল তাঁর কাছে বেশি প্রিয়। যখন আয়াত নাযিল হলো যে, ভালোবাসার বস্তু থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত পুণ্য লাভ করা যায় না, তখন তিনি নিজের প্রিয় বাগানটি আল্লাহর নামে সদাকাহ করতে চাইলেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর দানকে লাভজনক সম্পদ বললেন এবং তা নিকট আত্মীয়দের মাঝে বণ্টন করতে বললেন। এই হাদিসের মূল কথা হলো, সদাকাহ শুধু অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস দেওয়ার নাম নয়। মানুষের প্রিয় সম্পদ থেকেও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশা করা যায়। একই সঙ্গে আত্মীয়দের প্রয়োজন দেখাও গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রিয় সম্পদ দান করা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে বড় কাজ।
- সদাকাহ আত্মীয়দের মাঝে দিলে পারিবারিক উপকারও হতে পারে।
- দান করার আগে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর পরামর্শ নেওয়ার মতো নেক দৃষ্টিভঙ্গি সাহাবীদের মধ্যে ছিল।
