১৫/৮২. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮৬১ - মক্কার হারাম সীমা ও মক্কা বিজয়ের শিক্ষা
মক্কা হারাম হওয়া, সেখানে শিকার করা, সেখানকার লতা ও বৃক্ষ কাটা নিষিদ্ধ এবং প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়া ছাড়া সেখানকার পড়ে থাকা জিনিস উঠানো নিষিদ্ধ।
মক্কার হারাম এলাকা: মক্কা বিজয়ের ভাষণে নবী صلى الله عليه وسلم-এর শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৮৬১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৮৬১
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: لَمَّا فَتَحَ اللهُ عَلَى رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ، قَامَ فِي النَّاسِ فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ اللهَ حَبَسَ عَنْ مَكَّةَ الْفِيلَ، وَسَلَّطَ عَلَيْهَا رَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِينَ فَإِنَّهَا لاَ تَحِلُّ َلأحَدٍ كَانَ قَبْلِي، وَإِنَّهَا أُحِلَّتْ لِي سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، [ص: 80] وَإِنَّهَا لاَ تَحِلُّ َلأحَدٍ بَعْدِي، فَلاَ يُنَفَّرُ صَيْدُهَا، وَلاَ يُخْتَلَى شَوْكُهَا، وَلاَ تَحِلُّ سَاقِطَتُهَا إِلاَّ لِمُنْشِدٍ، وَمَنْ قُتِلَ لَهُ قَتِيلٌ فَهُوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ: إِمَّا أَنْ يُفْدَى وَإِمَّا أَنْ يُقِيدَ فَقَالَ الْعَبَّاسُ: إِلاَّ الإِذْخِرَ، فَإِنَّا نَجْعَلُهُ لِقُبُورِنَا وَبُيُوتِنَا؛ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِلاَّ الإِذْخِرَ فَقَامَ أَبُو شَاهٍ، رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ؛ فَقَالَ: اكْتُبُوا لِي يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اكْتُبُوا َلأبِي شَاهٍ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ তা‘আলা যখন তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে মাক্কাহ বিজয় দান করলেন, তখন তিনি (ﷺ) লোকদের মাঝে দাঁড়িয়ে আল্লাহর হাম্দ ও সানা (প্রশংসা) বর্ণনা করলেন। এরপর বললেন, আল্লাহ তা‘আলা মাক্কায় (আবরাহার) হস্তি বাহিনীকে প্রবেশ করতে দেননি এবং তিনি তাঁর রাসূল ও মুমিন বান্দাদেরকে মাক্কাহ্র উপর আধিপত্য দান করেছেন।আমার আগে অন্য কারোর জন্য মাক্কায় যুদ্ধ করা বৈধ ছিল না, তবে আমার পক্ষে দিনের সামান্য সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছিল, আর তা আমার পরেও কারোর জন্য বৈধ হবে না। কাজেই এখানকার শিকার তাড়ানো যাবে না, এখানকার গাছ কাটা ও উপড়ানো যাবে না, ঘোষণাকারী ব্যক্তি ব্যতীত এখানকার পড়ে থাকা জিনিস তুলে নেয়া যাবে না। যার কোন লোক এখানে নিহত হয় তবে দুইটির মধ্যে তার কাছে যা ভাল বলে বিবেচিত হয়, তা গ্রহণ করবে। ফিদ্ইয়া গ্রহণ অথবা কিসাস।‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ইযখিরের অনুমতি দিন। কেননা, আমরা এগুলো আমাদের কবরের উপর এবং ঘরের কাজে ব্যবহার করে থাকি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, ইযখির ব্যতীত (অর্থাৎ তা কাটা ও ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হল)। তখন ইয়ামানবাসী আবূ শাহ (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে লিখে দিন। তিনি (ﷺ) বললেন, তোমরা আবূ শাহকে লিখে দাও। (ওয়ালিদ ইবনু মুসলিম বলেন) আমি আওযায়ীকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে লিখে দিন তাঁর এ উক্তির অর্থ কী? তিনি বলেন, এ ভাষণ যা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছ হতে তিনি শুনেছেন, তা লিখে দিন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪৫: পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া, অধ্যায় ৭, হাঃ ২৪৩৪; মুসলিম, পর্ব ১৫; হাজ্জ, অধ্যায় ৮২, হাঃ ১৩৫৫
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মক্কা বিজয়ের পর নবী صلى الله عليه وسلم-এর এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ এসেছে। মূল বিষয় হলো মক্কার হারাম মর্যাদা। তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করেন, তারপর জানান যে আল্লাহ মক্কা থেকে হস্তি বাহিনীকে আটকে রেখেছিলেন এবং রাসূল صلى الله عليه وسلم ও মুমিনদের মক্কার উপর আধিপত্য দিয়েছেন। তবে এই আধিপত্য সাধারণ যুদ্ধের অনুমতি নয়; তাঁর জন্য দিনের সামান্য সময় বৈধ করা হয়েছিল, এরপর আবার মক্কা আগের মতো সম্মানিত রইল। তাই মক্কার শিকার তাড়ানো যাবে না, গাছ কাটা যাবে না, আর হারানো জিনিস শুধু ঘোষণা করার নিয়তে তোলা যাবে। এখানে কিসাস ও ফিদইয়ার কথাও এসেছে। ইযখির ঘাসের প্রয়োজনের কারণে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আবূ শাহ (রাঃ)-এর জন্য ভাষণ লিখে দেওয়ার নির্দেশ জ্ঞান সংরক্ষণের গুরুত্বও দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মক্কা হারাম এলাকা; এর শিকার, গাছ ও হারানো জিনিসের ব্যাপারে সতর্কতা দরকার।
- কোনো বিজয় বা ক্ষমতা আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত, তাই আগে আল্লাহর প্রশংসা করা উচিত।
- মানুষের প্রয়োজন বিবেচনা করে ইযখিরের মতো নির্দিষ্ট ছাড় দেওয়া হতে পারে।
- শোনা জ্ঞান লিখে রাখা ও সংরক্ষণ করা উপকারী কাজ।
