২৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৪১-[২৮] - মেহেদী দিয়ে জখমের যত্ন
চিকিৎসা ও মন্ত্র - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মেহেদী দিয়ে জখমের চিকিৎসার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৫৪১-[২৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫৪১-[২৮]
وعنها قَالَت: مَا كَانَ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُرْحَةٌ وَلَا نَكْبَةٌ إِلَّا أَمَرَنِي أَنْ أَضَعَ عَلَيْهَا الْحِنَّاء. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
উক্ত রাবী (নাবী (ﷺ)-এর খাদীমাহ্ সালমা (রাঃ)) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শরীরে যখনই কোন আঘাত লাগত অথবা জখম হত, তখন তিনি আমাকে ঐ স্থানে মেহেদী লাগাতে নির্দেশ দিতেন।
[১] সহীহ : তিরমিযী ২০৫৪, ইবনু মাজাহ ৩৫০২, আল জামি‘উস্ সগীর ৮৯৯১, সহীহুল জামি‘ ৪৮৬০, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২০৫৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৪১-[২৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর শরীরে আঘাত লাগলে বা জখম হলে তিনি ঐ স্থানে মেহেদী লাগাতে নির্দেশ দিতেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, অসুস্থতা বা আঘাত হলে বসে থাকা নয়; বরং সহজ ও উপকারী চিকিৎসা গ্রহণ করা। মেহেদী দিয়ে জখমের যত্ন নেওয়ার এই বর্ণনা চিকিৎসা বিষয়ে সুন্নাহর একটি সহজ দিক সামনে আনে। হাদিসটি থেকে আমরা বুঝি, শরীরের ক্ষত, আঘাত বা ব্যথাকে অবহেলা করা ঠিক নয়। যে উপায় উপকারী এবং শরীরের জন্য নিরাপদ, তা ব্যবহার করা যায়। তবে এই বর্ণনার বাইরে গিয়ে সব ধরনের রোগে মেহেদীকে একমাত্র চিকিৎসা বলা ঠিক হবে না। হাদিসের ভাষা নির্দিষ্টভাবে আঘাত ও জখমের জায়গায় মেহেদী লাগানোর কথা বলেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আঘাত বা জখম হলে চিকিৎসার উপায় গ্রহণ করা সুন্নাহসম্মত।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সহজ ও উপকারী চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতেন।
- মেহেদী দিয়ে জখমের যত্ন নেওয়ার কথা এই বর্ণনায় এসেছে।
- কোনো চিকিৎসা বিষয়ে হাদিসের নির্দিষ্ট কথাকে তার সীমার মধ্যে বোঝা দরকার।
