২৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৪২-[২৯] - মাথা ও কাঁধে শিঙ্গার শিক্ষা
চিকিৎসা ও মন্ত্র - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
হিজামা: মাথা ও কাঁধে শিঙ্গার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৫৪২-[২৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫৪২-[২৯]
وَعَن أبي كَبْشَة الْأَنْمَارِيِّ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يحتجم على هامته وَبَين كفيه وَهُوَ يَقُولُ: «مَنْ أَهْرَاقَ مِنْ هَذِهِ الدِّمَاءِ فَلَا يَضُرُّهُ أَنْ لَا يَتَدَاوَى بِشَيْءٍ لِشَيْءٍ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه
আবূ কাবশা আল-আনমারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের মাথায় এবং দু' বাহুর মধ্যখানে শিঙ্গা লাগাতেন এবং বলতেন, যে ব্যক্তি এসব স্থান হতে দূষিত রক্ত বের করে দেয়, তার জন্য অন্য কিছু দ্বারা কোন রোগের ঔষধ না করলেও কোন ক্ষতি হবে না।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩৮৫৯, ইবনু মাজাহ ৩৭৮৪, আল জামি‘উস্ সগীর ৯০৫৭, সহীহুল জামি‘ ৪৯২৬, ‘বায়হাক্বী’র কুবরা ২০০১৭, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৯৩৬, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৭২৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৪২-[২৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নিজের মাথায় এবং দু বাহুর মাঝখানে শিঙ্গা লাগাতেন। তিনি আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি এসব স্থান থেকে দূষিত রক্ত বের করে দেয়, তার জন্য অন্য কিছু দিয়ে কোনো রোগের ওষুধ না করলেও ক্ষতি হবে না। হাদিসটির মূল বিষয় হলো হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো। এখানে মাথা ও দু বাহুর মাঝের জায়গার কথা নির্দিষ্টভাবে এসেছে। তাই ব্যাখ্যার সময় এই স্থানগুলোকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে বোঝা উচিত। হিজামার উপকারিতা সম্পর্কে এই বর্ণনায় শক্ত ভাষা আছে, তবে নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। হাদিসটি আমাদের শেখায়, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم চিকিৎসার বাস্তব উপায় গ্রহণ করতেন এবং উম্মতকেও উপকারী চিকিৎসার দিকে দিকনির্দেশ করতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর আমলের মধ্যে এসেছে।
- এই বর্ণনায় মাথা ও দু বাহুর মাঝখানের স্থান উল্লেখ করা হয়েছে।
- শরীরের ক্ষতিকর রক্ত বের করার বিষয়টি চিকিৎসার একটি উপায় হিসেবে এসেছে।
- চিকিৎসা গ্রহণ করা তাওয়াক্কুলের বিপরীত নয়।
