২৫/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬৬৬-[৩৯] - আগে সালাম ও অহংকারমুক্তি
সালাম - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
আগে সালাম দেওয়া অহংকার থেকে দূরে থাকার চিহ্ন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৬৬৬-[৩৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৬৬৬-[৩৯]
وَعَن عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْبَادِئُ بِالسَّلَامِ بَرِيءٌ مِنَ الْكِبْرِ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شعب الْإِيمَان»
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি (ﷺ) বলেছেন : প্রথমে সালাম প্রদানকারী অহংকার হতে মুক্ত।
[১] য‘ঈফ : শু‘আবুল ঈমান ৮৭৮৬, য‘ঈফুল জামি‘ ২৩৬৫। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে ‘‘আবূ ইসহাক’’ নামক বর্ণনাকারীর নাম ‘‘আস্ সাবীয়ী’’, যিনি একজন মুদাল্লিস রাবী। এখানে তিনি ‘‘আন’’ দ্বারা হাদীস বর্ণনা করেছেন। বিস্তারিত দেখুন- য‘ঈফাহ্ ১৭৫১। [ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ) হাদীসটি “শু‘আবুল ঈমানে” বর্ণনা করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬৬৬-[৩৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, প্রথমে সালাম প্রদানকারী অহংকার হতে মুক্ত। কথাটি খুব ছোট, কিন্তু মানুষের আচরণ ঠিক করার জন্য গভীর শিক্ষা দেয়। অনেক সময় মানুষ অপেক্ষা করে, অন্যজন আগে সালাম দিক। কেউ নিজের মর্যাদা, বয়স, অবস্থান বা পরিচয়ের কারণে আগে সালাম দিতে সংকোচ করে। এই হাদিস সেই মনোভাবকে ভেঙে দেয়। আগে সালাম দেওয়া মানে নিজেকে ছোট করা নয়; বরং এটি বিনয়, ভালোবাসা এবং ভালো সম্পর্কের সূচনা। সালামের মাধ্যমে মানুষকে নিরাপত্তা ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। তাই আগে সালাম দেওয়া অহংকার কমানোর একটি সুন্দর আমল হিসেবে হাদিসে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আগে সালাম দেওয়া বিনয়ী আচরণের প্রকাশ।
- সালাম শুরু করতে সামাজিক মর্যাদার হিসাব করা উচিত নয়।
- অহংকার কমাতে সহজ আমলগুলোর মধ্যে সালাম একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।
