২৫/২১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫১২৭-[৫] - প্রকৃত গরীব বা মুফলিস
অত্যাচার - প্রথম অনুচ্ছেদ
প্রকৃত গরীব কে? মুফলিসের হাদিস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫১২৭-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫১২৭-[৫]
وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الْمُفْلِسُ؟». قَالُوا: الْمُفْلِسُ فِينَا مَنْ لَا دِرْهَمَ لَهُ وَلَا مَتَاعَ. فَقَالَ: «إِنَّ الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ يَأْتِي يَوْم الْقِيَامَة بِصَلَاة وَصِيَام وَزَكَاة وَيَأْتِي وَقَدْ شَتَمَ هَذَا وَقَذَفَ هَذَا. وَأَكَلَ مَالَ هَذَا. وَسَفَكَ دَمَ هَذَا وَضَرَبَ هَذَا فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يَقْضِيَ مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ ثُمَّ طُرح فِي النَّار». رَوَاهُ مُسلم
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমরা কি জানো, (প্রকৃত) গরীব কে? সাহাবায়ে কিরাম বললেন : আমরা তো মনে করি, আমাদের মধ্যে যার টাকা-পয়সা, ধনদৌলত নেই, সে-ই গরীব। তিনি (ﷺ) বললেন : কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি গরীব হবে, যে ব্যক্তি দুনিয়া থেকে সালাত, সিয়াম ও যাকাত আদায় করে আসবে; কিন্তু সাথে সাথে সেসব লোকেদেরকেও নিয়ে আসবে যে, সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারো অপবাদ রটিয়েছে, কারো সম্পদ খেয়েছে, কাউকে হত্যা করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে; এমন ব্যক্তিদেরকে তার নেকিগুলো দিয়ে দেয়া হবে।অতঃপর যখন তার পুণ্য শেষ হয়ে যাবে অথচ পাওনাদারদের পাওনা তখনো বাকি, তখন পাওনাদারদের গুনাহ তথা পাপ তার ওপর ঢেলে দেয়া হবে, আর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
[১] সহীহ : মুসলিম ৫৯-(২৫৮১), তিরমিযী ২৪১৮, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৮৪৫, সহীহুল জামি‘ ৮৭, সহীহ আত্ তারগীব ২২২৩, শু‘আবুল ঈমান ৩৩, আহমাদ ৮০২৯, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৬৪১৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৪১১, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ৫৬১, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ২৭৭৮, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১১৮৩৮।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫১২৭-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন, প্রকৃত গরীব কে? সাহাবীরা দুনিয়ার হিসাবে বললেন, যার টাকা-পয়সা ও সম্পদ নেই। নবী صلى الله عليه وسلم জানালেন, কিয়ামতের দিন প্রকৃত গরীব হবে সে ব্যক্তি, যে সালাত, সিয়াম ও যাকাত নিয়ে আসবে, কিন্তু মানুষের হক নষ্ট করে আসবে। সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারও অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ খেয়েছে, কাউকে হত্যা করেছে বা প্রহার করেছে। তখন তার নেক আমল হকদারদের দেওয়া হবে। নেকি শেষ হলে তাদের পাপ তার ওপর চাপানো হবে এবং শেষে তাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। হাদিসটি ইবাদতের সাথে মানুষের অধিকার রক্ষার গুরুত্ব শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শুধু ইবাদত করলেই চলবে না; মানুষের হকও রক্ষা করতে হবে।
- গালি, অপবাদ ও সম্পদ অন্যায়ভাবে নেওয়া বড় ক্ষতির কারণ।
- কিয়ামতে নেক আমল দিয়ে পাওনা আদায় হতে পারে।
- প্রকৃত গরিব সে, যার নেকি মানুষের হকে শেষ হয়ে যায়।
