১৬/১৭. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮০৯ - তানঈম থেকে উমরার বিধান

ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু‘ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে

তানঈম থেকে উমরা: আয়িশা (রাঃ)-এর হজের ঘটনা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮০৯

حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ أَبُو أَيُّوبَ الْغَيْلاَنِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ عَبْدُ الْمَلِكِ، بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ الْمَاجِشُونُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْخَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ لاَ نَذْكُرُ إِلاَّ الْحَجَّ حَتَّى جِئْنَا سَرِفَ فَطَمِثْتُ فَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَأَنَا أَبْكِي فَقَالَ «مَا يُبْكِيكِ» . فَقُلْتُ وَاللَّهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي لَمْ أَكُنْ خَرَجْتُ الْعَامَ قَالَ «مَا لَكِ لَعَلَّكِ نَفِسْتِ» . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ «هَذَا شَىْءٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ افْعَلِي مَا يَفْعَلُ الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ حَتَّى تَطْهُرِي» . قَالَتْ فَلَمَّا قَدِمْتُ مَكَّةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لأَصْحَابِهِ «اجْعَلُوهَا عُمْرَةً» . فَأَحَلَّ النَّاسُ إِلاَّ مَنْ كَانَ مَعَهُ الْهَدْىُ - قَالَتْ - فَكَانَ الْهَدْىُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَذَوِي الْيَسَارَةِ ثُمَّ أَهَلُّوا حِينَ رَاحُوا - قَالَتْ - فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ طَهَرْتُ فَأَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَأَفَضْتُ - قَالَتْ - فَأُتِينَا بِلَحْمِ بَقَرٍ . فَقُلْتُ مَا هَذَا فَقَالُوا أَهْدَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ نِسَائِهِ الْبَقَرَ . فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ الْحَصْبَةِ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَرْجِعُ النَّاسُ بِحَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ وَأَرْجِعُ بِحَجَّةٍ قَالَتْ فَأَمَرَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ فَأَرْدَفَنِي عَلَى جَمَلِهِ - قَالَتْ - فَإِنِّي لأَذْكُرُ وَأَنَا جَارِيَةٌ حَدِيثَةُ السِّنِّ أَنْعُسُ فَتُصِيبُ وَجْهِي مُؤْخِرَةُ الرَّحْلِ حَتَّى جِئْنَا إِلَى التَّنْعِيمِ فَأَهْلَلْتُ مِنْهَا بِعُمْرَةٍ جَزَاءً بِعُمْرَةِ النَّاسِ الَّتِي اعْتَمَرُوا .

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা কেবল হজের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছলাম, আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট এলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যদি এ বছর হজ করতে না আসতাম! তিনি বললেন, কী হয়েছে তোমার? সম্ভবতঃ তুমি ঋতুবতী হয়েছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ তা‘আলা এটি আদাম (আঃ)-এর কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তুমি হজ পালনকারীগণ যা করে, তাই কর কিন্তু পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করো না।‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি যখন মাক্কায় পৌঁছলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-তাঁর সাহাবীগণদের বললেন, তোমরা উমরার জন্য ইহরাম বাঁধ। যাদের সাথে হাদী বা কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত সকলে উমরার ইহরাম বাঁধল। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আবূ বকর (রাঃ), ‘উমর (রাঃ) ও অন্যান্য স্বচ্ছল লোকদের সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) ছিল, তারা (ইতোপূর্বে যারা ইহরাম খুলে ফেলেছিল, মিনার দিকে) অগ্রসর হবার প্রাক্কালে পুনরায় (হজের) ইহরাম বাঁধল।তিনি বলেন, আমি কুরবানীর দিন পবিত্র হলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশে তাওয়াফে ইফাযাহ্ [১৮] করলাম। আমাদের জন্য গরুর গোশ্ত পাঠানো হ’ল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এগুলো কী? তারা বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছেন। যখন হাসবার রাত এলো, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! লোকেরা হজ ও উমরাহ পালন করে প্রত্যাবর্তন করছে, আর আমি শুধু হজ করে প্রত্যাবর্তন করছি।রাবী বলেন, তিনি বলেন, তিনি ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন এবং তদনুযায়ী তিনি আমাকে তার উটের পেছন দিকে বসিয়ে রওনা হলেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা এবং আমার মনে আছে যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে আমার মাথা বারবার পালানের খুঁটির সাথে আঘাত খাচ্ছিল। এভাবে আমরা তান’ঈম পৌঁছলাম। সেখান থেকে আমি আবার উমরার ইহরাম বাঁধলাম- যা লোকেরা ইতোপূর্বে আদায় করেছে।

[১৮] তাওয়াফে যিয়ারাত, যা ১০ই অন্যথায় ১১ ও ১২ তারিখে আদায় করতে হয়। এটি ফরজ ও হজের একটি রুকন।ই.ফা. ২৭৮৬, ই.সে. ২৭৮৪

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮০৯-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ হাদিসে আয়িশা (রাঃ)-এর হজের সফরের কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে। তিনি সারিফে ঋতুমতী হন এবং দুঃখে কাঁদেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বলেন, হায়জ আল্লাহর নির্ধারিত বিষয়; তাই হাজিরা যা করে তা করতে, কিন্তু পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল্লাহ তাওয়াফ না করতে। পরে মক্কায় এসে যাদের হাদী ছিল না, তারা উমরার ইহরাম করে ইহরাম খুলে ফেলে। কুরবানির দিনে আয়িশা (রাঃ) পবিত্র হলে তাওয়াফে ইফাযা করেন। পরে তিনি বলেন, অন্যরা হজ ও উমরা নিয়ে ফিরছে, আর তিনি শুধু হজ নিয়ে ফিরবেন। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে তানঈম থেকে উমরা করার ব্যবস্থা করে দেন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • হায়জ হলে হজ বাতিল হয় না; তাওয়াফ পবিত্র হওয়ার পর করতে হয়।
  • হাদী সঙ্গে থাকা বা না থাকা ইহরামের বিধানে প্রভাব ফেলে।
  • তানঈম থেকে উমরা করার ঘটনা আয়িশা (রাঃ)-এর ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে এসেছে।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের অবস্থাভেদে সহজ পথ দেখাতেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন