২২/৩৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২১৭৮ - শাবানে রমজানের কাজা ও অধিক সাওম
এ প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম (রহিমাহুল্লাহ) সূত্রে হাদীস বর্ণনায় পার্থক্য
শাবানে কাজা রোজা ও নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর অধিক নফল সাওম
সুনানে আন-নাসায়ী : ২১৭৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২১৭৮
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعْدِ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ: حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، أَنَّ ابْنَ الْهَادِ، حَدَّثَهُ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: لَقَدْ كَانَتْ إِحْدَانَا تُفْطِرُ فِي رَمَضَانَ فَمَا تَقْدِرُ عَلَى أَنْ تَقْضِيَ حَتَّى يَدْخُلَ شَعْبَانُ، «وَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ فِي شَهْرٍ مَا يَصُومُ فِي شَعْبَانَ، كَانَ يَصُومُهُ كُلَّهُ إِلَّا قَلِيلًا بَلْ كَانَ يَصُومُهُ كُلَّهُ»
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাদের কেউ [ঋতু ইত্যাদির কারণে] রমাযান মাসের সাওম পালন করতে না পারলে এবং তার ক্বাযা আদায় করতে পারত না যতক্ষণ না শা'বান মাস আসত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শা'বান মাস ব্যতীত অন্য কোনো মাসে এত অধিক সিয়াম পালন করতেন না। তিনি (ﷺ) অল্প কয়েক দিন ছাড়া পুরো মাসই সিয়াম পালন করতেন বরং বলা যায় যে, পুরো মাসই।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২১৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি আলাদা কিন্তু সম্পর্কিত বিষয় এসেছে। প্রথমত, আয়িশা (রাঃ) বলেন, কোনো কারণে রমজানের রোজা ছুটে গেলে তাঁরা শাবান মাস না আসা পর্যন্ত কাজা আদায় করতে পারতেন না। দ্বিতীয়ত, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) অন্য কোনো মাসে শাবানের মতো এত বেশি সাওম পালন করতেন না। তিনি অল্প কিছু দিন ছাড়া প্রায় পুরো মাসই রোজা রাখতেন; বর্ণনার ভাষায় কখনো পুরো মাসও বলা হয়েছে। তাই হাদিসটি শাবানে কাজা রোজা আদায় এবং নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর অধিক নফল সাওম—দুই বিষয়কে একসঙ্গে তুলে ধরে। তবে কোন কারণে কাজা দেরি হতো বা সব মানুষের জন্য একই পরিস্থিতি কি না, তা এই পাঠে বিস্তারিত বলা হয়নি। ব্যাখ্যায় সেই সীমা মানা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ছুটে যাওয়া রমজানের রোজা শাবানে কাজা করার বর্ণনা রয়েছে।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শাবানে অন্য মাসের তুলনায় বেশি সাওম রাখতেন।
- কাজা ও নফল সাওম—দুটি বিষয়কে গুলিয়ে না ফেলে আলাদাভাবে বুঝতে হবে।
- হাদিসে না থাকা কারণ বা সবার জন্য একই পরিস্থিতি ধরে নেওয়া উচিত নয়।
