২২/৩৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২০০ - তারাবির সালাত ও ক্ষমার সুসংবাদ
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রমাযান মাসে রাতের সলাত আদায় করে এবং সওম পালন করে তার সাওয়াব - এ বিষয়ে যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে রিওয়ায়াত বর্ণনায় ইখতিলাফ
তারাবির সালাত ও ক্ষমা: আন্তরিক ঈমান নিয়ে রমজানের কিয়াম
সুনানে আন-নাসায়ী : ২২০০
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২২০০
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় তারাবীহর সালাত আদায় করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم রমজানের রাতের সালাত সম্পর্কে একটি সরাসরি সুসংবাদ দিয়েছেন। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং আল্লাহর সওয়াবের আশায় তারাবির সালাত আদায় করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। এখানে আমল ও নিয়তকে আলাদা করা হয়নি। সালাতে দাঁড়ানো যেমন দরকার, তেমনি বিশ্বাস ও প্রতিদানের আশা নিয়েও দাঁড়াতে হবে। এই কারণে তারাবির নামাজকে শুধু সামাজিক রীতি, দ্রুত শেষ করার কাজ বা লোক দেখানোর বিষয় বানানো হাদিসের মূল ভাবের সঙ্গে যায় না। তবে বর্ণনায় রাকাতের সংখ্যা, সময়ের দৈর্ঘ্য বা জামাতের বিস্তারিত নেই; তাই এই হাদিস থেকে সেসব বিষয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না। মূল বার্তা হলো কিয়ামুল রমজান, ঈমান এবং ইহতিসাব—এই তিনটি একসঙ্গে থাকলে ক্ষমার সুসংবাদ প্রযোজ্য হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের রাতে তারাবির সালাত আদায় করা এই হাদিসের মূল আমল।
- সালাতের সঙ্গে ঈমানের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
- আল্লাহর সওয়াবের আশা নিয়ে ইবাদত করতে হবে।
- বর্ণনায় না থাকা রাকাত বা পদ্ধতি এই হাদিসের নামে যোগ করা যাবে না।
