২২/৬৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩১৮ - ঋতুবতীর রোজা কাযা, সালাত নয়
ঋতুবতী মহিলার জন্য সওম মূলতবি করা
ঋতুবতী নারীর রোজা কাযা ও সালাত কাযার বিধান
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৩১৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৩১৮
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَلِيٌّ يَعْنِي ابْنَ مُسْهِرٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ، أَنَّ امْرَأَةً سَأَلَتْ عَائِشَةَ: أَتَقْضِي الْحَائِضُ الصَّلَاةَ إِذَا طَهُرَتْ؟ قَالَتْ: «أَحَرُورِيَّةٌ أَنْتِ، كُنَّا نَحِيضُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ نَطْهُرُ فَيَأْمُرُنَا بِقَضَاءِ الصَّوْمِ، وَلَا يَأْمُرُنَا بِقَضَاءِ الصَّلَاةِ»
মু'আযাহ্ আল 'আদাভিয়্যাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
জনৈকা মহিলা 'আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে জিজ্ঞেস করল, ঋতুবতী মহিলা যখন ঋতু থেকে পবিত্র হবে তখন কি সে সালাত ক্বাযা করবে? তিনি বললেন, তুমি কি হারুরী গোত্রের মহিলা? আমরা তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে ঋতুবতী হতাম এবং যখন পবিত্র হতাম তখন আমাদেরকে (ফার্য) সাওম ক্বাযা করার নির্দেশ দেয়া হত কিন্তু সালাত ক্বাযা করার নির্দেশ দেয়া হত না।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩১৮-এর সারসংক্ষেপ
এক নারী আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, ঋতুবতী নারী পবিত্র হওয়ার পর ঋতুকালের সালাত কাযা করবে কি না। আয়িশা (রাঃ) উত্তর দেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর যুগে তাঁরা ঋতুবতী হতেন। পবিত্র হওয়ার পর তাঁদের ফরজ সাওম কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হতো, কিন্তু সালাত কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হতো না। ঋতুবতী নারীর রোজা কাযা নিয়ে এই হাদিসের বক্তব্য খুব স্পষ্ট। ঋতুর কারণে বাদ যাওয়া ফরজ সাওম পরে আদায় করতে হবে। অন্যদিকে ওই সময়ের সালাত পরে কাযা করার নির্দেশ নেই। হাদিসে এই দুই ইবাদতের করণীয় আলাদা করে বলা হয়েছে। কেন এই পার্থক্য, তার ব্যাখ্যা এখানে দেওয়া হয়নি। তাই মূল নির্দেশই অনুসরণযোগ্য: ফরজ সাওম কাযা করা হবে, সালাত কাযা করা হবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋতুর কারণে বাদ যাওয়া ফরজ সাওম পরে কাযা করতে হয়।
- ঋতুকালে বাদ যাওয়া সালাত কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
- রোজা ও সালাতের কাযার বিধান এখানে আলাদা।
- হাদিসে না থাকা কারণ নিজের পক্ষ থেকে যোগ করা উচিত নয়।
