২২/৭০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩৭০ - আশুরার রোজার বিশেষ গুরুত্ব
"নাবী (ﷺ)-এর সওম” (তাঁর জন্য আমার মাতা-পিতা উৎসর্গিত হোক)- এ সম্পর্কিত হাদীসের বর্ণনা রাবীদের বৈপরীত্য
আশুরার রোজার গুরুত্ব: রমজানের পর বিশেষভাবে যত্ন নেওয়া সাওম
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৩৭০
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৩৭০
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، وَسُئِلَ عَنْ صِيَامِ عَاشُورَاءَ، قَالَ: «مَا عَلِمْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَامَ يَوْمًا يَتَحَرَّى فَضْلَهُ عَلَى الْأَيَّامِ، إِلَّا هَذَا الْيَوْمَ» يَعْنِي شَهْرَ رَمَضَانَ، وَيَوْمَ عَاشُورَاءَ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
'উবায়দুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)-কে 'আশূরার সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন, নাবী (ﷺ) রমজান ও 'আশূরার সাওম ব্যতীত কোনো এক সাওমকে অন্য কোনো দিনের সাওমের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৩৭০-এর সারসংক্ষেপ
ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে আশুরার সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক জানান। তাঁর জানা অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) রমজান মাসের সাওম এবং আশুরার দিনের সাওমকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। এই হাদিসে আশুরার রোজার গুরুত্ব সরাসরি নবীজির যত্নের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। তবে এখানে আশুরার তারিখ, সঙ্গে আরেক দিন যোগ করা, বা বিশেষ কোনো পুরস্কারের বিস্তারিত নেই। তাই এই নির্দিষ্ট বর্ণনা থেকে মূল শিক্ষা হলো—আশুরার সাওম নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে গুরুত্ব পাওয়া একটি সাওম ছিল, আর রমজান ছিল আলাদা মর্যাদার মাস। পাঠককে এই দুই বিষয় গুলিয়ে না ফেলে বুঝতে হবে। হাদিসটি আশুরার রোজার প্রতি আগ্রহ তৈরি করে, কিন্তু বর্ণনায় নেই এমন নিয়ম নিজে থেকে যোগ করার সুযোগ দেয় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) আশুরার দিনের সাওমকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।
- রমজানের সাওমের মর্যাদা আলাদাভাবে উল্লেখ হয়েছে।
- হাদিসে নেই এমন অতিরিক্ত নিয়ম বা ফজিলত এই বর্ণনার নামে বলা উচিত নয়।
