২৬/২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩২০২ - ইখতিয়ার মানেই তালাক নয়
মহান ও মহীয়ান আল্লাহ তাঁর রাসূলের ওপর যা ফার্য করেছেন এবং অন্যদের জন্য যা হারাম করেছেন- আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর নৈকট্য বৃদ্ধির উদ্দেশে
ইখতিয়ার ও তালাক: স্ত্রীকে পছন্দের সুযোগ দেওয়ার হাদিস
সুনানে আন-নাসায়ী : ৩২০২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩২০২
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ الْعَسْكَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: «قَدْ خَيَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِسَاءَهُ، أَوْكَانَ طَلَاقًا»
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদেরকে তাঁর নিকট থাকবে কি থাকবে না- সে ব্যাপারে ইখতিয়ার দিলেও তাতে তাঁরা তালাক হননি।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩২০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ইখতিয়ার ও তালাকের পার্থক্য। আয়েশা (রাঃ) জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর স্ত্রীদেরকে তাঁর সঙ্গে থাকা বা না থাকার ব্যাপারে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন। কিন্তু শুধু ইখতিয়ার দেওয়ার কারণে তাঁরা তালাকপ্রাপ্তা হননি। তাই এই হাদিস থেকে সরাসরি বোঝা যায়, কোনো কথা বা সুযোগের আসল ফল বুঝতে হলে সেই কথার উদ্দেশ্য ও গ্রহণ করা সিদ্ধান্ত দেখা জরুরি। এখানে স্ত্রীদের সামনে পছন্দের সুযোগ রাখা হয়েছিল, কিন্তু তাঁরা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কেই বেছে নেন। ফলে সেটি তালাক হিসেবে গণ্য হয়নি। হাদিসটি দাম্পত্য জীবনে স্পষ্টতা, শান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কথার অর্থ বুঝে বিচার করার শিক্ষা দেয়। এতে অতিরঞ্জন বা ভয় ছড়ানোর জায়গা নেই; বরং বিষয়টি সরাসরি বর্ণিত নিয়মের আলোকে বুঝতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইখতিয়ার দেওয়া আর তালাক দেওয়া একই বিষয় নয়।
- দাম্পত্য বিষয়ে কথার উদ্দেশ্য ও সিদ্ধান্ত বুঝে বিচার করা দরকার।
- স্ত্রীকে সিদ্ধান্তের সুযোগ দেওয়া সম্মানজনক আচরণের অংশ হতে পারে।
- ধর্মীয় বিষয়ে অনুমান নয়, বর্ণিত কথার উপর নির্ভর করা উচিত।
