মিথ্যা সাক্ষ্য ও শপথ
মোট হাদিস ৩০
মিথ্যা সাক্ষ্য ও শপথ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ হাদিস ও ইসলামের বিধান
ইসলামে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান এবং মিথ্যা শপথ করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদিস থেকে জানা যায় যে, কোনো মুসলিমের অধিকার নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা কসম বা শপথ করলে আল্লাহ তাআলা তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব এবং জান্নাত হারাম করে দেন, এমনকি সেই বস্তুটি যদি সামান্য পিলুগাছের ডালও হয়। সমাজে বিশৃঙ্খলা ও একে অপরের জানমাল জোরপূর্বক দাবি করা থেকে বিরত রাখতে ইসলামের বিধান হলো, বিবাদীকে সত্য প্রমাণে শপথ করতে হবে। তবে ইসলামে উত্তম সাক্ষীর প্রশংসাও করা হয়েছে; যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় বা বিরোধের ক্ষেত্রে কারো পক্ষ থেকে আহবানের আগেই সততার সাথে সঠিক সাক্ষ্য প্রদান করে, তাকে সর্বোত্তম সাক্ষী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ইসলামী আইন ও চিন্তাবিদদের মতে, সত্য প্রতিষ্ঠা ও মিথ্যা পরিহার করাই ঈমানের মূল দাবি।
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْقَاسِمِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ خَرَجَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَهْمٍ مَعَ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ وَعَدِيِّ بْنِ بَدَّاءَ فَمَاتَ السَّهْمِيُّ بِأَرْضٍ لَيْسَ بِهَا مُسْلِمٌ فَلَمَّا قَدِمَا بِتَرِكَتِهِ فَقَدُوا جَامَ فِضَّةٍ مُخَوَّصًا بِالذَّهَبِ فَأَحْلَفَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ وُجِدَ الْجَامُ بِمَكَّةَ فَقَالُوا اشْتَرَيْنَاهُ مِنْ تَمِيمٍ وَعَدِيٍّ فَقَامَ رَجُلاَنِ مِنْ أَوْلِيَاءِ السَّهْمِيِّ فَحَلَفَا لَشَهَادَتُنَا أَحَقُّ مِنْ شَهَادَتِهِمَا وَإِنَّ الْجَامَ لِصَاحِبِهِمْ .قَالَ فَنَزَلَتْ فِيهِمْ ﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ ﴿ الآيَةَ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সাহ্ম গোত্রের এক লোক তামীম আদ-দারী ও ‘আদী ইবনু বাদ্দার সাথে বের হলো। সাহম গোত্রের লোকটি এমন স্থানে মারা গেলো যেখানে কোন মুসলিমের বসতি ছিলো না। তার সঙ্গীদ্বয় যখন তার পরিত্যক্ত মালামাল নিয়ে ফিরে আসলো, দেখা গেলো স্বর্ণের কারুকার্য খচিত একটি রূপার পেয়ালা হারিয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের উভয়কে শপথ করালেন। পাত্রটি পরে মাক্কাহ্তে পাওয়া গেলো। তারা (পাত্রের প্রাপক) বললো, আমরা এটা তামীম ও ‘আদীর কাছ হতে কিনেছি। অতঃপর মৃত সাহমীর দু’জন উত্তরাধিকারী দাঁড়িয়ে শপথ করে বললো, আমাদের সাক্ষ্য তাদের সাক্ষ্যের চেয়ে অধিক সত্য। আমাদের সাথী এ পাত্রটির মালিক ছিলো।ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তাদের প্রসঙ্গে এ আয়াত অবতীর্ণ হলো: "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে ..." (সূরা আল-মায়িদাহ: ১০৬-৮)।
حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «لَوْ يُعْطَى النَّاسُ بِدَعْوَاهُمُ ادَّعَى نَاسٌ دِمَاءَ رِجَالٍ وَأَمْوَالَهُمْ وَلَكِنِ الْيَمِينُ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ» .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ লোকেদেরকে তাদের দাবি মোতাবেক ফয়সালা দেয়া হলে অবশ্যই কতক লোক অন্য লোকের জীবন (মৃত্যুদণ্ড) ও সম্পদ দাবি করে বসতো। কিন্তু বিবাদীকেই শপথ করতে হবে।
[২৩২১] সহীহুল বুখারী ২৫১৪, ২৬৬৮, ৪৫৫২, মুসলিম ১৭১১, তিরমিযী ১৩৪২, নাসায়ী ৫৪২৫, আবূ দাউদ ৩৬১৯, আহমাদ ৩১৭৮, ৩২৮২, ৩৪১৭, ইরওয়া ২৬৪১, আত-তালীকু আলাত তানকীল ১/৪০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَنَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تَجُوزُ شَهَادَةُ بَدَوِيٍّ عَلَى صَاحِبِ قَرْيَةٍ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন: শহরে বসবাসকারী লোকের জন্য জঙ্গলে, গ্রামে বা মরুভূমিতে বসবাসকারী লোকের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، وَزَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ فَرُّوخَ، - قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى وَهُوَ أَبُو يُونُسَ الْقَوِيُّ - قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لاَ يَحْلِفُ عِنْدَ هَذَا الْمِنْبَرِ عَبْدٌ وَلاَ أَمَةٌ عَلَى يَمِينٍ آثِمَةٍ وَلَوْ عَلَى سِوَاكٍ رَطْبٍ إِلاَّ وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এই মিম্বারের নিকট কোন পুরুষ অথবা নারী মিথ্যা শপথ করলে সে যেন জাহান্নামে তার আবাস নির্ধারণ করলো, তা একটি কাঁচা দাঁতনের জন্য হলেও।
[২৩২৬] আহমাদ ১০৩৩৩, বায়হাকী ফিস সুনান ৬/৬৮, ইরওয়া ৮/৩১৩, মিশকাত ৩৭৭৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «لاَ تَجُوزُ شَهَادَةُ بَدَوِيٍّ عَلَى صَاحِبِ قَرْيَةٍ» .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেনঃ নগরবাসীর পক্ষে গ্রামবাসীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
[২৩৬৭] আবূ দাউদ ৩৬০২, ইরওয়া ২৬৭৪, মিশকাত ৩৭৮৩। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ - قَالاَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «الْيَمِينُ عَلَى مَا يُصَدِّقُكَ بِهِ صَاحِبُكَ» . وَقَالَ قُتَيْبَةُ «عَلَى مَا صَدَّقَكَ عَلَيْهِ صَاحِبُكَ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ هُشَيْمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ . وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي صَالِحٍ هُوَ أَخُو سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَرُوِيَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ أَنَّهُ قَالَ إِذَا كَانَ الْمُسْتَحْلِفُ ظَالِمًا فَالنِّيَّةُ نِيَّةُ الْحَالِفِ وَإِذَا كَانَ الْمُسْتَحْلِفُ مَظْلُومًا فَالنِّيَّةُ نِيَّةُ الَّذِي اسْتَحْلَفَ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এরকমভাবে শপথ করতে হবে যাতে করে তোমার সাথী (প্রতিপক্ষ) তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা (রহঃ) হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এটিকে শুধু উপরোক্ত (হুশাইম-আবদুল্লাহ) সূত্রেই জেনেছি। আব্দুল্লাহ ইবনু আবী সালিহ, সুহাইল ইবনু আবী সালিহের ভাই। এ হাদীস অনুযায়ী একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। একই কথা বলেছেন ইমাম আহ্মাদ ও ইসহাকও। ইবরাহীম নাখঈ বলেন, যে লোক শপথ করতে বাধ্য করে সে যদি অত্যাচারী হয় তাহলে এক্ষেত্রে শপথকারীর নিয়্যাতই নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। অপরদিকে যে লোক শপথ করায় সে লোক যদি অত্যাচারিত হয় তবে তার নিয়্যাতই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ الْعُمَرِيُّ، حَدَّثَنِي الْمُثَنَّى بْنُ يَزِيدَ، عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ بِمَعْنَاهُ قَالَ «وَمَنْ أَعَانَ عَلَى خُصُومَةٍ بِظُلْمٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন: ... অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি কোন বিবাদে অন্যায়মূলক সাহায্য করলো সে আল্লাহর গযবে পতিত হলো।
[১] ইবনু মাজাহ, বায়হাক্বী। সানাদে মাত্বার সম্পর্কে হাফিয আত-তাক্বরীব গ্রন্থে বলেনঃ সত্যবাদী, ভুল প্রচুর।
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُرَاتِ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لَنْ تَزُولَ قَدَمُ شَاهِدِ الزُّورِ حَتَّى يُوجِبَ اللَّهُ لَهُ النَّارَ».
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, (কিয়ামতের দিন) মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা জাহান্নামের ফয়সালা না দেয়া পর্যন্ত সে তার পদদ্বয় একটুও নাড়াতে পারবে না।
[২৩৭৩] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। যইফাহ ১২৫৯। তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদীসের রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল ফুরাত সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে অভিযুক্ত। আবু বাকর বিন আবু শায়বাহ বলেন, তিনি মিথ্যুক। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় দুর্বল। আবু মুহাম্মাদ বিন হাযম বলেন, তিনি সকলের ঐক্যমতে দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪০, ২৬/২৬৯ নং পৃষ্ঠা)
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ ثَابِتٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ هَاشِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نِسْطَاسٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ حَلَفَ بِيَمِينٍ آثِمَةٍ عِنْدَ مِنْبَرِي هَذَا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ وَلَوْ عَلَى سِوَاكٍ أَخْضَرَ».
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার এই মিম্বারের নিকট দাঁড়িয়ে মিথ্যা শপথ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়, যদিও তা একটি সবুজ মিসওয়াকের জন্যও হয়।
[২৩২৫] আবূ দাউদ ৩২৪৬, আহমাদ ১৪২৯৬, ১৪৬০৬, মুয়াত্তা মালেক ১৪৩৪, রাওদুন নাদীর ২৪০, আত-তালীকুর রাগীব ৩/৪৮, ইরওয়া ২৬৯৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مُجَالِدٍ، أَنْبَأَنَا عَامِرٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ لِيَهُودِيَّيْنِ «نَشَدْتُكُمَا بِاللَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ ".
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু' ইহূদীকে বলেনঃ " আমি তোমাদের দু'জনকে সেই আল্লাহর শপথ দিচ্ছি যিনি মূসা (আঃ) -এর উপর তাওরাত কিতাব নাযিল করেছেন"
[২৩২৮] আবূ দাউদ ৪৪৫২, আত-তালীকু আলা ইবনু মাজাহ। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুজালিদ বিন সাঈদ সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন, তিনি যইফ বা দুর্বল। ইবনু মাঈন বলেন, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যাবে না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৭৮০, ২৭/২১৯ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু মুজালিদ বিন সাঈদ এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৪৭৫ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ৭ টি জাল, ১০৭ টি খুবই দুর্বল, ১৩২ টি দুর্বল, ১০৯ টি হাসান, ১২০ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ১৩২৯, ৩৬৩৫, ৪৫৫৬, ৬৮১৯, ৬৮৩০, ৬৮৪০, ৬৮৪১, ৭৩৩২, ৭৫৪৩, মুসলিম ১৬৯২, ১৭০২, ১৭০৩, ১৭০৪, তিরমিযি ১৪৩১, ১৪৩২, ১৪৩৬, ১৪৩৭, আবু দাউদ ৪৮৮, ৩৬২৪, ৪৪১৮, ৪৪৪৬, ৪৪৪৭, ৪৪৪৮, ৪৪৪৯, ৪৪৫০, ৪৪৫১, ৪৪৫২, ৪৪৫৫, দারিমী ২৩২১, ২৩২৩, আহমাদ ১৫৪, ১৯৯, ২৭২, ৩০৪, ৩২১, ৩৫৪, ৩৯৩, ৯৫১, ১১৬৮, ২৩৬৪, ৪৪৮৪, ৪৬৫২, ৫২৫৪, ৫২৭৮, ৫৪৩৬, ৬০৫৮।
