নামাজে দোয়া

মোট হাদিস ৬৩

নামাজে দোয়া: সালাত শুরুর সুন্নাত সানা ও গুরুত্বপূর্ণ হাদিস

নামাজে দোয়া বা সানা পাঠ করা সালাতের অন্যতম সুন্নাত আমল। বর্ণিত সহীহ হাদিসসমূহ থেকে জানা যায় যে, আল্লাহর নবী (ﷺ) যখন সালাত শুরু করতেন তখন তাকবীর ও কিরাআতের মাঝখানে কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দোয়া পাঠ করতেন। সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) এর প্রশ্নের উত্তরে নবীজী (ﷺ) গুনাহ থেকে মুক্তি ও পবিত্রতা অর্জনের বিশেষ দোয়ার কথা জানান। এছাড়া সালাত শুরুর পর 'আল্লাহু আকবার কাবীরা' সম্বলিত নির্দিষ্ট একটি দোয়ার বাণী এক ব্যক্তি পাঠ করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জানান যে, এর মাধ্যমে আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং বারোজন ফেরেশতা তা দ্রুত তুলে নেন। হযরত জাবির (রাঃ) বর্ণিত অন্য হাদিসে সালাত শুরুর পর জীবন, মরণ ও কুরবানি আল্লাহর উদ্দেশ্যে সমর্পণের পাশাপাশি উত্তম চরিত্র ও নেক আমল লাভের দোয়ার কথা উল্লেখ আছে। ইসলামিক স্কলারদের মতে, সালাতের শুরুতে এই সুন্নাত দোয়াগুলো পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، وَقَتَادَةَ، وَحُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي بِنَا إِذْ جَاءَ رَجُلٌ فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ وَقَدْ حَفَزَهُ النَّفَسُ فَقَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ. الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ، فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاتَهُ قَالَ: " أَيُّكُمِ الَّذِي تَكَلَّمَ بِكَلِمَاتٍ؟ فَأَرَمَّ الْقَوْمُ. قَالَ: «إِنَّهُ لَمْ يَقُلْ بَأْسًا». قَالَ: أَنَا يَا رَسُولُ اللَّهِ جِئْتُ وَقَدْ حَفَزَنِي النَّفَسُ فَقُلْتُهَا، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقَدْ رَأَيْتُ اثْنَيْ عَشَرَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَرْفَعُهَا»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে মসজিদে প্রবেশ করল, সালাতের জন্যে দ্রুত আসার কারণে তার শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হচ্ছিল। সে বলল- “আল্ল-হু আকবার আলহাম্দু লিল্লা-হি হামদান কাসীরান ত্বইয়িবাম্ মুবা-রকান ফীহি” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে ও তাঁর জন্যে উত্তম ও প্রচুর প্রশংসা, তাঁর প্রশংসার মধ্যে বারাকাত আছে)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত সমাপ্ত করে বললেন- তোমাদের মাঝে কে এ বাক্যগুলো উচ্চারণ করল? এতে উপস্থিত সকলে চুপ হয়ে গেল। তিনি (ﷺ) বললেন, সে কোন ক্ষতিকর কথা বলেনি। সে ব্যক্তি বলল- হে আল্লাহর রাসূল! আমি বলেছি। আমি এসে পড়লাম আর আমার তখন শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল তখন আমি তা বলেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন- আমি বারোজন মালাক (ফেরেশতা)-কে দেখলাম, তাঁরা প্রতিযোগিতা করছে, কে তা তুলে নিবে।

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ ابْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَقَطَ مِنْ فَرَسٍ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ، فَدَخَلُوا عَلَيْهِ يَعُودُونَهُ، فَحَضَرَتِ الصَّلَاةُ، فَلَمَّا قَضَى الصَّلَاةَ قَالَ: " إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، فَقُولُوا: رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নাবী (ﷺ) ঘোড়া হতে ডান কাতে পড়ে গেলেন। তখন লোকজন তাঁকে দেখবার জন্যে আসলেন। এমতাবস্থায় সালাতের সময় উপস্থিত হলো। তিনি (ﷺ) সালাত শেষ করে বললেন, ইমাম নিযুক্ত করা হয় এজন্য যে, তার অনুসরণ করা হবে। যখন সে রুকূ' করবে তখন তোমরাও রুকূ' করবে। আর যখন সে উঠবে তখন তোমরাও উঠবে। আর যখন ইমাম "সামি' আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” (যে বান্দা আল্লাহর হাম্দ বা প্রশংসা করে আল্লাহ তার হাম্দ শ্রবণ করেন) বলবে তখন তোমরা “রব্বানা- ওয়ালাকাল হাম্দ” (হে আমাদের পালনকর্তা! আর প্রশংসা তোমারই জন্যে) বলবে।

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، ح وَهِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَنَتَ شَهْرًا ـ قَالَ شُعْبَةُ: لَعَنَ رِجَالًا، وَقَالَ هِشَامٌ: يَدْعُو عَلَى أَحْيَاءٍ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ، ثُمَّ تَرَكَهُ بَعْدَ الرُّكُوعِ، هَذَا قَوْلُ هِشَامٍ ـ وَقَالَ شُعْبَةُ: عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَنَتَ شَهْرًا يَلْعَنُ رِعْلًا، وَذَكْوَانَ، وَلِحْيَانَ»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একমাস পর্যন্ত কুনূত পাঠ করেন। শু'বাহ্ বলেন, এতে তিনি কয়েকজন লোকের প্রতি অভিসম্পাত করেন। আর হিশাম বলেন, এতে তিনি 'আরবের কতিপয় সম্প্রদায়ের ওপর বদ্‌দোয়া করেন। আর তিনি এ কুনূত রুকূ'র পরে পাঠ করেন। অতঃপর তা ত্যাগ করেন। আর অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, নাবী (ﷺ) এক মাস যাবৎ কুনূত পাঠ করেন যাতে তিনি রি'ল, যাকওয়ান ও লিহইয়ান সম্প্রদায়ের ওপরে অভিসম্পাত করেন।

أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَنَتَ شَهْرًا يَدْعُو عَلَى حَيٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ ثُمَّ تَرَكَهُ»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুনূত পড়েছেন একমাস, যাতে তিনি 'আরবের সম্প্রদায়গুলো হতে কোন সম্প্রদায়ের ওপর বদদোয়া করেছিলেন। অতঃপর তা পরিত্যাগ করেন।

أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ سَيْفٍ الْحَرَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا قَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ»، قَالَ: «اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ، وَمِلْءَ الْأَرْضِ، وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ»

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নাবী (ﷺ) যখন "সামি' আল্ল-হু লিমান হামিদাহ" বলতেন, তখন তিনি বলতেন- "আল্ল-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হাম্দু। মিলআস্ সামা-ওয়া-তি ওয়া মিআল আরযি ওয়া মিল্ক মা- শি'তা মিন শাইয়িন বা'দু' (হে আমাদের রব আল্লাহ, তোমারই জন্য সকল প্রশংসা। আসমান ভর্তি, জমিন ভর্তি এবং তদুপরি তুমি আরো যা চাও তাও ভর্তি তোমার প্রশংসা)।

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مِينَاسٍ الْعَدَنِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ السُّجُودَ بَعْدَ الرَّكْعَةِ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ»

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নাবী (ﷺ) রুকূ'র পরে যখন সিজদাহ্ করতে ইচ্ছা করতেন তখন বলতেন- “আল্ল-হুম্মা রব্বানা- ওয়ালাকাল হাম্দু মিলআস্ সামা-ওয়া-তি ওয়া মিআল আরযি ওয়া মিত্র মা- শি'তা মিন শাইয়িন বা'দু” (হে আমাদের রব আল্লাহ, আর তোমারই জন্য সকল প্রশংসা। আসমান ভর্তি, জমিন ভর্তি এবং তদুপরি তুমি আরো যা চাও তাও ভর্তি তোমার প্রশংসা)।

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ أَبِي رِشْدِينَ وَهُوَ كُرَيْبٌ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: بِتُّ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ وَبَاتَ رَسُولُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَهَا، فَرَأَيْتُهُ قَامَ لِحَاجَتِهِ فَأَتَى الْقِرْبَةَ فَحَلَّ شِنَاقَهَا، ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءًا بَيْنَ الْوُضُوءَيْنِ، ثُمَّ أَتَى فِرَاشَهُ فَنَامَ، ثُمَّ قَامَ قَوْمَةً أُخْرَى فَأَتَى الْقِرْبَةَ فَحَلَّ شِنَاقَهَا، ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءًا هُوَ الْوُضُوءُ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي وَكَانَ يَقُولُ فِي سُجُودِهِ: «اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي سَمْعِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي بَصَرِي نُورًا، وَاجْعَلْ مِنْ تَحْتِي نُورًا، وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِي نُورًا، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا، وَعَنْ يَسَارِي نُورًا، وَاجْعَلْ أَمَامِي نُورًا، وَاجْعَلْ خَلْفِي نُورًا، وَأَعْظِمْ لِي نُورًا»، ثُمَّ نَامَ حَتَّى نَفَخَ، فَأَتَاهُ بِلَالٌ فَأَيْقَظَهُ لِلصَّلَاةِ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি আমার খালা মায়মূনাহ্ বিনতু হারিস (রাঃ)-এর নিকট রাত যাপন করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও তাঁর নিকট রাত যাপন করলেন। আমি তাঁকে দেখলাম, তিনি (ﷺ) তাঁর প্রয়োজনে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি পানির পাত্রের নিকট এসে তার ঢাকনা খুললেন। এরপর তিনি ওজুর মাঝে আবার ওজু করলেন। পরে তিনি তাঁর বিছানায় এসে নিদ্রা গেলেন। এরপর তিনি আবার ঘুম হতে জাগ্রত হলেন এবং পানির পাত্রের কাছে এসে তার ঢাকনা খুলে পূর্ণ ওজু করলেন (সালাতের ওজুর ন্যায়)।অতঃপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন এবং তিনি তাঁর সিজদায় বলেছিলেন- اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي سَمْعِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي بَصَرِي نُورًا، وَاجْعَلْ مِنْ تَحْتِي نُورًا، وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِي نُورًا، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا، وَعَنْ يَسَارِي نُورًا، وَاجْعَلْ أَمَامِي نُورًا، وَاجْعَلْ خَلْفِي نُورًا، وَأَعْظِمْ لِي نُورًا "আল্ল-হুম্মাজ' আল ফী কূলবী নূরন ওয়াজ' আল ফী সাম্'ঈ নূরন ওয়াজ আল ফী বাসারী নূরন ওয়াজ' আল মিন তাহতী নূরন ওয়াজ' আল মিন ফাওক্বী নূরন ওয়া' আন ইয়ামীনী নূরন ওয়া' আন ইয়াসা-রী নূরন ওয়াজ' আল আমা-মী নূরন ওয়াজ' আল খলফী নূরন ওয়া আ'যিম লী নূরন" (হে আল্লাহ! আমার হৃদয়ে, আমার কর্ণে, আমার চক্ষুতে, আমার ঊর্ধ্বে ও নিম্নে, আমার ডানে ও বামে, আমার সামনে ও পিছনে জ্যোতি প্রদান কর, আর আমাকে অধিক অধিক নূর (জ্যোতি) দান কর।)। অতঃপর তিনি (ﷺ) নিদ্রা গেলেন, এমন কি তিনি নাকের শব্দ করলেন। পরে বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে সালাতের জন্যে জাগালেন।

أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُمَارَةَ بْنُ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَتْ لَهُ سَكْتَةٌ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ»

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সালাত শুরু করতেন তখন কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন (এ সময় দোয়া পড়তেন)।

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ: أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنُ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٌ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ صَلَّى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ سَكَتَ هُنَيْهَةً فَقُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ مَا تَقُولُ فِي سُكُوتِكَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ؟ قَالَ: " أَقُولُ: اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ "

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সালাত শুরু করতেন তখন কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাতা-পিতা আপনার প্রতি কুরবান হোক, আপনি তাকবির ও ক্বিরাআতের মাঝখানে চুপ থেকে কি বলেন? তিনি বললেন, আমি বলি- “আল্ল-হুম্মা বা-'ইদ বাইনী ওয়া বাইনা খত্না-ইয়া-ইয়া কামা- বা'আস্তা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিব, আল্ল-হুম্মা নাক্কিনী মিনাল খত্বা-ইয়া- কামা- ইউনাক্কস্ সাওবুল আইয়াযু মিনাদ্ দানাস, আল্ল-হুম্মাসিল খত্না-ইয়া-ইয়া বিল্যা-য়ি ওয়াস্ সালজি ওয়াল বারদ।”(হে আল্লাহ! আমার ও আমার পাপরাশির মাঝে ব্যবধান সৃষ্টি করে দাও যেমন পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে ব্যবধান সৃষ্টি করেছ। হে আল্লাহ! আমাকে আমার পাপরাশি হতে পবিত্র করে দাও যেমন সাদা কাপড় ময়লা হতে পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। হে আল্লাহ! আমাকে পানি, বরফ, শিলা বৃষ্টির সাহায্যে ধৌত কর।)।

মহানবী (ﷺ) আপন উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এরূপ দোয়া করেছিলেন।

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ الزُّبَيْدِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَمَّنَ الْقَارِئُ فَأَمِّنُوا؛ فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تُؤَمِّنُ، فَمَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلَائِكَةَ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তিলাওয়াতকারী যখন 'আ-মীন' বলেন তখন তোমরাও 'আ-মীন' বলবে। কারণ মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ)-ও আ-মীন বলে থাকেন। সুতরাং যার 'আ-মীন' বলা মালায়িকাহ্'র 'আ-মীন' বলার সাথে মিলে যাবে, আল্লাহ তা'আলা তার পূর্বের পাপ মার্জনা করবেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন