নামাজে দোয়াসমূহ

মোট হাদিস ১৪

নামাজে দোয়াসমূহ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সহিহ হাদিস

সালাত বা নামাজে দোয়া করার বিশেষ গুরুত্ব ও নিয়ম সম্পর্কে এই হাদিসগুলোতে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবিদের নামাজে আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা এবং সঠিক পদ্ধতিতে দোয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। হাদিস অনুযায়ী, নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহুদের পর আল্লাহর প্রশংসা, তাসবিহ এবং ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ দোয়া রয়েছে। ইসলামী পণ্ডিতদের মতে, তাশাহুদের শেষে আল্লাহর ইসমুল আজম বা মহান নামের ওসিলা দিয়ে এবং নিজের গুনাহ ক্ষমার জন্য আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাআলা সেই দোয়া কবুল করেন ও বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। এই সহিহ হাদিসগুলো আমাদের নামাজের মধ্যে সঠিক ও গ্রহণযোগ্য উপায়ে দোয়া করার দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمَّارٍ الْمَوْصِلِيُّ، عَنْ الْمُعَافَى، عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ، ح وَأَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ يُونُسَ، وَاللَّفْظُ لَهُ، عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا تَشَهَّدَ أَحَدُكُمْ فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْ أَرْبَعٍ: مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَعَذَابِ الْقَبْرِ، وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، ثُمَّ يَدْعُو لِنَفْسِهِ بِمَا بَدَا لَهُ»

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায়কালে তাশাহ্হুদ পড়বে, তখন চার জিনিস হতে আল্লাহর কাছে মুক্তি চাবে-১. জাহান্নামের আযাব থেকে।২. কবরের আযাব থেকে।৩. জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং৪. মাসীহে দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে। অতঃপর তার জন্যে যা (প্রয়োজনীয়) মনে আসে তার দোয়া করবে।

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، فَقَالَ: «نَعَمْ، عَذَابُ الْقَبْرِ حَقٌّ»، قَالَتْ عَائِشَةُ: فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي صَلَاةً بَعْدُ إِلَّا تَعَوَّذَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কবরের আযাব সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, হ্যাঁ! কবরের আযাব সত্য। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এমন কোন সালাত আদায় করতে দেখিনি যাতে তিনি কবরের আযাব হতে আশ্রয় না চেয়েছেন।

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو فِي الصَّلَاةِ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ»، فَقَالَ لَهُ قَائِلٌ: مَا أَكْثَرَ مَا تَسْتَعِيذُ مِنَ الْمَغْرَمِ، فَقَالَ: «إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا غَرِمَ حَدَّثَ فَكَذَبَ، وَوَعَدَ فَأَخْلَفَ»

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতে এ দোয়া পড়তেন- اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ "আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ'উযুবিকা মিন 'আযা-বিল কুন্দ্র, ওয়া আ'উযুবিকা মিন ফিত্নাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল, ওয়া আ'উযুবিকা মিন ফিত্নাতিল মাহইয়া-ইয়া ওয়াল মামা-ত। আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ'ঊযুবিকা মিনাল মা'সামি ওয়াল মাগ্রম" (হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট কবরের 'আযাব, দাজ্জালের ফিত্নাহ্ ও জীবন মরণের ফিত্নাহ্ হতে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আপনার নিকট পাপ ও ঋণ হতে মুক্তি কামনা করছি।)।তখন তাঁকে কেউ বলল, আপনি প্রায়ই ঋণগ্রস্ততা হতে পানাহ চেয়ে থাকেন কেন? তিনি (ﷺ) বললেন, কোন লোক যখন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তখন সে কথা বললে মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করে খেলাফ করে।

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي صَلَاتِهِ بَعْدَ التَّشَهُّدِ: «أَحْسَنُ الْكَلَامِ كَلَامُ اللَّهِ، وَأَحْسَنُ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতে তাশাহ্হুদের পর বলতেন- أَحْسَنُ الْكَلَامِ كَلَامُ اللَّهِ، وَأَحْسَنُ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ “আহসানুল কালা-মি কালা-মুল্ল-হি ওয়া আহসানুল হাদিয় হাদয়ু মুহাম্মাদ সল্লাল্ল-হু 'আলায়হি ওয়াসাল্লাম” (সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর বাণী আর সর্বোত্তম হিদায়াত [চলার পথ] হলো মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর হিদায়াত)।

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ بْنُ وَكِيعِ بْنِ الْجَرَّاحِ، أَخُو سُفْيَانَ بْنِ وَكِيعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: جَاءَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، عَلِّمْنِي كَلِمَاتٍ أَدْعُو بِهِنَّ فِي صَلَاتِي؟ قَالَ: " سَبِّحِي اللَّهَ عَشْرًا، وَاحْمَدِيهِ عَشْرًا، وَكَبِّرِيهِ عَشْرًا، ثُمَّ سَلِيهِ حَاجَتَكِ يَقُلْ: نَعَمْ، نَعَمْ»---[حكم الألباني] حسن صحيح

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

উম্মু সুলায়ম (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছু বাক্য শিক্ষা দিন যা আমি আমার সালাতে পাঠ করবো। তিনি বললেন, তুমি 'সুবহানাল্লাহ' দশবার, 'আলহামদুলিল্লাহ' দশবার এবং 'আল্লাহু আকবার' দশবার বলে আল্লাহর নিকট তোমার যা প্রয়োজন হয় তা চাইবে। তিনি বলবেন- হ্যাঁ, হ্যাঁ, অর্থাৎ নিশ্চয় তিনি তোমার দোয়া গ্রহণ করবেন।

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ حَفْصِ بْنِ أَخِي أَنَسٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسًا ـ يَعْنِي ـ وَرَجُلٌ قَائِمٌ يُصَلِّي، فَلَمَّا رَكَعَ وَسَجَدَ وَتَشَهَّدَ دَعَا، فَقَالَ فِي دُعَائِهِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ، إِنِّي أَسْأَلُكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَصْحَابِهِ: «تَدْرُونَ بِمَا دَعَا؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَقَدْ دَعَا اللَّهَ بِاسْمِهِ الْعَظِيمِ، الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ، وَإِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى»

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে বসা ছিলাম, অর্থাৎ তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিল। যখন সে রুকূ' সিজদা এবং তাশাহ্হুদ পড়ে দোয়া করতে শুরু করল তখন সে তাঁর দোয়ায় বলল- "আল্ল-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদা লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতাল মান্না-নু বাদী' উস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি ইয়া- যাল জালা-লি ওয়াল ইকর-ম ইয়া- হাইয়্যু ইয়া- কুইয়্যূম ইন্নী আসআলুকা।” (হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি এই ওয়াসীলায় যে, সমস্ত প্রশংসা তোমারই, তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। তুমি পরম অনুগ্রহদাতা, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। হে মহিমাময় এবং মহানুভব, হে চিরঞ্জীব অবিনশ্বর! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি।)।তখন নবী (ﷺ) তাঁর সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা কি জান সে কিসের দ্বারা দোয়া করল? তাঁরা বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! সে আল্লাহর ঐ মহান নাম দ্বারা দোয়া করেছে যা দ্বারা দোয়া করা হলে তিনি তা গ্রহণ করেন, আর যা দ্বারা কোন কিছু চাওয়া হলে তা তিনি দান করেন।

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، وَعَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَاللَّفْظُ لَهُ، قَالَا: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الْأَعْمَشُ، قَالَ: حَدَّثَنِي شَقِيقٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: كُنَّا إِذَا جَلَسْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّلَاةِ، قُلْنَا: السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ مِنْ عِبَادِهِ، السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ وَفُلَانٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُولُوا السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ، فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلَامُ، وَلَكِنْ إِذَا جَلَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، فَإِنَّكُمْ إِذَا قُلْتُمْ ذَلِكَ أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، ثُمَّ لِيَتَخَيَّرْ مِنَ الدُّعَاءِ بَعْدُ أَعْجَبَهُ إِلَيْهِ يَدْعُو بِهِ»

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে সালাত আদায়কালে বসতাম, তখন বলতাম, আল্লাহর ওপর সালাম আল্লাহর বান্দাদের পক্ষ হতে আর অমুক অমুকের ওপর সালাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা আল্লাহর ওপর সালাম বলিও না, কারণ আল্লাহই স্বয়ং সালাম।তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায়কালে বসে তখন সে যেন বলে- التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ লিল্লা-হি ওয়াস্ সলাওয়া-তু ওয়াত্ব ত্বইয়িবা-তু, আস্সালা-মু 'আলায়কা আইয়ুহান্ নাবিয়্যু, ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকা-তুহ। আস্সালা-মু 'আলায়না- ওয়া 'আলা- 'ইবা-দিল্লা-হিস্ স-লিহীন” (সকল প্রকার মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক 'ইবাদাত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর আল্লাহর সালাম, রহমাত ও বারাকাত বর্ষিত হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক।)।কেননা তোমরা যখন এ তাশাহ্হুদ পড়বে তা আসমান এবং জমিনের সকল নেক বান্দার নিকট পৌঁছবে।أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান 'আবদুহু ওয়া রাসূলুহ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা'বুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল)।এরপর যে দোয়া ইচ্ছা হয় সে দোয়া পাঠ করবে।

أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ حَيْوَةَ يُحَدِّثُ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ الصُّنَابِحِيّ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: أَخَذَ بِيَدِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «إِنِّي لَأُحِبُّكَ يَا مُعَاذُ»، فَقُلْتُ: وَأَنَا أُحِبُّكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَلَا تَدَعْ أَنْ تَقُولَ فِي كُلِّ صَلَاةٍ: رَبِّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ»

মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার হাত ধরে বললেন, হে মু'আয! আমি তোমাকে ভালোবাসি। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমিও আপনাকে ভালোবাসি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি প্রত্যেক সালাতে বলতে বাদ দিবে না- "রব্বি আ'ইন্নী 'আলা- যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি 'ইবা-দাতিক।” (আল্লাহ তোমার যিকির, শোকর এবং সুন্দর ইবাদতের জন্য আমাকে সহযোগিতা করো)।

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَلِّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلَاتِي، قَالَ: «قُلْ: اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ "

আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললেন, আমাকে এমন একটা দোয়া শিখিয়ে দিন যা দ্বারা আমি সালাতে দোয়া করব।তিনি বললেন, তুমি বলবে- اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكِ وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ইন্নী যলামতু নাক্সী যুলমান কাসীরও ওয়ালা- ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা- আন্তা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম্ মিন 'ইনদিকা ওয়ার হামনী ইন্নাকা আন্তাল গফুরুর রহীম” (হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের নাক্সের উপর খুব বেশী অত্যাচার করেছি। তুমি ছাড়া পাপ মোচনকারী আর কেউ নেই। অতএব হে আল্লাহ! অনুগ্রহ করে আমাকে ক্ষমা কর এবং আমার প্রতি দয়া কর। নিশ্চয় তুমি দয়াবান ও ক্ষমাশীল।)।

أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: صَلَّى بِنَا عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ صَلَاةً، فَأَوْجَزَ فِيهَا، فَقَالَ لَهُ بَعْضُ الْقَوْمِ: لَقَدْ خَفَّفْتَ أَوْ أَوْجَزْتَ الصَّلَاةَ، فَقَالَ: أَمَّا عَلَى ذَلِكَ، فَقَدْ دَعَوْتُ فِيهَا بِدَعَوَاتٍ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا قَامَ تَبِعَهُ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ هُوَ أُبَيٌّ غَيْرَ أَنَّهُ كَنَى عَنْ نَفْسِهِ، فَسَأَلَهُ عَنِ الدُّعَاءِ، ثُمَّ جَاءَ فَأَخْبَرَ بِهِ الْقَوْمَ: «اللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ، وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ، أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِي، اللَّهُمَّ وَأَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، وَأَسْأَلُكَ كَلِمَةَ الْحَقِّ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ، وَأَسْأَلُكَ الْقَصْدَ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى، وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَا يَنْفَدُ، وَأَسْأَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْقَطِعُ، وَأَسْأَلُكَ الرِّضَاءَ بَعْدَ الْقَضَاءِ، وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ، وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ فِي غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ، وَلَا فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ، اللَّهُمَّ زَيِّنَّا بِزِينَةِ الْإِيمَانِ، وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ»

সায়িব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

'আত্মা ইবনু সায়িব সূত্রে তাঁর পিতা সায়িব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) একবার আমাদের সাথে সালাত আদায় করলেন এবং সালাত সংক্ষিপ্ত করে ফেললেন। তখন কেউ কেউ তাঁকে বললেন, আপনি সালাত সংক্ষিপ্ত করে ফেলেছেন। তিনি বললেন, কিন্তু এতদসত্ত্বেও তো আমি ঐ সকল দোয়া পাঠ করেছি যা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শুনেছি।এরপর যখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন, লোকেদের মধ্য হতে একজন তাঁর অনুসরণ করতে লাগলেন। ['আত্বা (রহঃ) বলেন] তিনি ছিলেন উবাই তিনি তাঁর নাম বলেননি। তিনি তাঁকে ঐ দোয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন এবং এসে সবাইকে ঐ দোয়ার খবর দিলেন- "আল্ল-হুম্মা বি'ইলমিকাল গয়বা ওয়া কুদ্রতিকা 'আলাল খলক্বি আহয়িনী মা- 'আলিমতাল হায়া-তা খয়রল্লী ওয়াতা ওয়াফ্ফানী ইযা- 'আলিমতাল ওয়াফা-তা খয়রল্লী আল্ল-হুম্মা ওয়া আআলুকা খইয়াতাকা ফিল গয়বি ওয়াশ্ শাহা-দাতি ওয়া আলুকা কালিমাতাল হাক্কি ফির্ রিযা- ওয়াল গযাবি ওয়া আলুকাল কুসদা ফিল ফাকুরি ওয়াল গিনা- ওয়া আলুকা না'ঈমাল লা- ইয়ানফাদু ওয়া আলুকা কুরতা 'আয়নিল লা- তাক্বত্বি'উ ওয়া আলুকার রিযা-আ বা'দাল কযা-য়ি ওয়া আলুকা বারদাল 'আয়শি বা'দাল মাওতি ওয়া আলুকা লায্যাতান্ নাযারি ইলা- ওয়াজহিকা ওয়াশ্ শাওক্বা ইলা- লিকা- য়িকা ফী গয়রি যন্ত্রা-আ মুযিরাতিন্ ওয়ালা- ফিতনাতিন্ মুযিল্লাতিন আল্ল-হুম্মা যাইয়িন্না- বিযীনাতিল ঈমা- নি ওয়াজ' আলনা- হুদা-তাম্ মুহতাদীন।"(হে আল্লাহ! তোমার নিকটেই আছে গায়েবের জ্ঞান, তুমি সকল সৃষ্টি ওপর ক্ষমতাবান, তুমি যদি জান [মনে করো] আমার বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর তবে আমাকে বাঁচিয়ে রাখ। আর তুমি যদি মনে করো মৃত্যু আমার কল্যাণকর তাহলে আমার মৃত্যু ঘটাও। আমি প্রকাশ্যে ও গোপনে তোমাকে ভয় করার তাওফীক চাই, আমি খুশি ও রাগের সময়ে সত্য কথা বলার তাওফীক চাই, আমি মধ্যপন্থা তথা অভাবী ও ধনীর মাঝামাঝি জীবন যাপন করতে চাই।আমি তোমার কাছে এমন নিয়ামত (অনুগ্রহ) চাই যা শেষ হয়ে যাবে না। আমি তোমার কাছে চাই এমন চক্ষু শীতলকারী [বস্তু] যা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে না। মৃত্যুর পর আমি তোমার সন্তুষ্টি চাই। আমি তোমার নিকটে মৃত্যুর পরে আরাম-আয়েশের শীতলতা চাই। আমি তোমার চেহারার দিকে দৃষ্টির প্রশান্তি স্বরূপ চেয়ে থাকতে চাই। তোমার সাথে সাক্ষাতের বাসনা কোন ভ্রান্তিকর ফিতনা যেন বিনষ্ট না করতে পারে আমি সেই প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে ঈমানের সাজে সজ্জিত করো আর আমাদেরকে হিদায়াতপ্রাপ্তদের পথের পথিক করো।)।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন