২২/৮. অধ্যায়ঃ
সালাতে থাকা অবস্থায় কেউ তার সঙ্গে কথা বললে এবং তা শুনে যদি সে হাত দিয়ে ইশারা করে।
সহিহ বুখারী : ১২৩৩
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ১২৩৩
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَزْهَرَ ـ رضى الله عنهم ـ أَرْسَلُوهُ إِلَى عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ فَقَالُوا اقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلاَمَ مِنَّا جَمِيعًا وَسَلْهَا عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ صَلاَةِ الْعَصْرِ وَقُلْ لَهَا إِنَّا أُخْبِرْنَا أَنَّكِ تُصَلِّينَهُمَا وَقَدْ بَلَغَنَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهَا. وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَكُنْتُ أَضْرِبُ النَّاسَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْهُمَا. فَقَالَ كُرَيْبٌ فَدَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ فَبَلَّغْتُهَا مَا أَرْسَلُونِي. فَقَالَتْ سَلْ أُمَّ سَلَمَةَ. فَخَرَجْتُ إِلَيْهِمْ فَأَخْبَرْتُهُمْ بِقَوْلِهَا فَرَدُّونِي إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ بِمِثْلِ مَا أَرْسَلُونِي بِهِ إِلَى عَائِشَةَ. فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ ـ رضى الله عنها ـ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنْهَا ثُمَّ رَأَيْتُهُ يُصَلِّيهِمَا حِينَ صَلَّى الْعَصْرَ، ثُمَّ دَخَلَ عَلَىَّ وَعِنْدِي نِسْوَةٌ مِنْ بَنِي حَرَامٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ الْجَارِيَةَ فَقُلْتُ قُومِي بِجَنْبِهِ قُولِي لَهُ تَقُولُ لَكَ أُمُّ سَلَمَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ سَمِعْتُكَ تَنْهَى عَنْ هَاتَيْنِ وَأَرَاكَ تُصَلِّيهِمَا. فَإِنْ أَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخِرِي عَنْهُ. فَفَعَلَتِ الْجَارِيَةُ فَأَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخَرَتْ عَنْهُ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " يَا بِنْتَ أَبِي أُمَيَّةَ سَأَلْتِ عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ وَإِنَّهُ أَتَانِي نَاسٌ مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ فَشَغَلُونِي عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ فَهُمَا هَاتَانِ ".
কুরায়ব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু আব্বাস, মিসওয়ার ইবনু মাখরামা এবং আবদুর রহমান ইবনু আযহার (রাঃ) তাঁকে আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন এবং বলে দিলেন, “তাঁকে আমাদের সকলের তরফ হতে সালাম পৌঁছিয়ে আসরের পরের দুই রাকাত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে। তাঁকে একথাও বলবে যে, আমরা খবর পেয়েছি যে, আপনি সে দুই রাকাত আদায় করেন, অথচ আমাদের নিকট পৌঁছেছে যে, নবী (ﷺ) সে দুই রাকাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।”ইবনু আব্বাস (রাঃ) সংবাদে আরও বললেন যে, “আমি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর সাথে এ সালাতের কারণে লোকদের মারধোর করতাম।”কুরাইব (রহঃ) বলেন, “আমি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে তাঁকে তাঁদের পয়গাম পৌঁছিয়ে দিলাম।”তিনি বললেন, “উম্মু সালামা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস কর।”[কুরাইব (রহঃ) বলেন] “আমি সেখান থেকে বের হয়ে তাঁদের নিকট গেলাম এবং তাঁদেরকে আয়েশা (রাঃ)-এর কথা জানালাম। তখন তাঁরা আমাকে আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট যে বিষয় নিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তা নিয়ে পুনরায় উম্মু সালামা (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন।”উম্মু সালামা (রাঃ) বললেন, "আমিও নবী (ﷺ)-কে তা নিষেধ করতে শুনেছি। অথচ অতঃপর তাঁকে আসরের সালাতের পর তা আদায় করতেও দেখেছি। একদা তিনি আসরের সালাতের পর আমার ঘরে আসলেন। তখন আমার নিকট বানু হারাম গোত্রের আনসারী কয়েকজন মহিলা উপস্থিত ছিলেন। আমি দাসীকে এ বলে তাঁর নিকট পাঠালাম যে, তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে তাঁকে বলবে, 'উম্মু সালামা (রাঃ) আপনার নিকট জানতে চেয়েছেন, আপনাকে (আসরের পর সালাতের) দুই রাকাত নিষেধ করতে শুনেছি; অথচ দেখছি, আপনি তা আদায় করছেন?' যদি তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করেন, তাহলে পিছনে সরে থাকবে, দাসী তা-ই করল। তিনি ইঙ্গিত করলেন, সে পিছনে সরে থাকল।সালাত শেষ করে তিনি বললেন, 'হে আবু উমাইয়ার কন্যা! আসরের পরের দুই রাকাত সালাত সম্পর্কে তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করেছ। আবদুল কায়স গোত্রের কিছু লোক আমার নিকট এসেছিল। তাদের কারণে জোহরের পরের দুই রাকাত আদায় করতে না পেরে (তাদেরকে নিয়ে) ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। এ দুই রাকাত সে দুই রাকাত।'"
[১] ঘটনাটি একবারের হলেও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর বৈশিষ্ট্যের কারনে তা নিয়মিত সালাতে পরিণত হয়। কারণ, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন ‘আমাল একবার শুরু করলে তা নিয়মিত করতেন।
