২২/৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৩৪ - সালাতে ভুল হলে সুবহানাল্লাহ বলা
সালাতের মধ্যে ইঙ্গিত করা।
قَالَهُ كُرَيْبٌ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ.কুরাইব (রহঃ) উম্মু সালামা (রাঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে এ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।"
সালাতে ভুল হলে সুবহানাল্লাহ বলার নিয়ম
সহীহ বুখারী : ১২৩৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১২৩৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ بَلَغَهُ أَنَّ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ كَانَ بَيْنَهُمْ شَىْءٌ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُصْلِحُ بَيْنَهُمْ فِي أُنَاسٍ مَعَهُ، فَحُبِسَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَحَانَتِ الصَّلاَةُ فَجَاءَ بِلاَلٌ إِلَى أَبِي بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ فَقَالَ يَا أَبَا بَكْرٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَدْ حُبِسَ وَقَدْ حَانَتِ الصَّلاَةُ فَهَلْ لَكَ أَنْ تَؤُمَّ النَّاسَ قَالَ نَعَمْ إِنْ شِئْتَ.فَأَقَامَ بِلاَلٌ وَتَقَدَّمَ أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ فَكَبَّرَ لِلنَّاسِ وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَمْشِي فِي الصُّفُوفِ حَتَّى قَامَ فِي الصَّفِّ، فَأَخَذَ النَّاسُ فِي التَّصْفِيقِ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ لاَ يَلْتَفِتُ فِي صَلاَتِهِ، فَلَمَّا أَكْثَرَ النَّاسُ الْتَفَتَ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَأْمُرُهُ أَنْ يُصَلِّيَ، فَرَفَعَ أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ يَدَيْهِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَرَجَعَ الْقَهْقَرَى وَرَاءَهُ حَتَّى قَامَ فِي الصَّفِّ، فَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَصَلَّى لِلنَّاسِ فَلَمَّا فَرَغَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ «يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَا لَكُمْ حِينَ نَابَكُمْ شَىْءٌ فِي الصَّلاَةِ أَخَذْتُمْ فِي التَّصْفِيقِ، إِنَّمَا التَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ، مَنْ نَابَهُ شَىْءٌ فِي صَلاَتِهِ فَلْيَقُلْ سُبْحَانَ اللَّهِ. فَإِنَّهُ لاَ يَسْمَعُهُ أَحَدٌ حِينَ يَقُولُ سُبْحَانَ اللَّهِ إِلاَّ الْتَفَتَ، يَا أَبَا بَكْرٍ مَا مَنَعَكَ أَنْ تُصَلِّيَ لِلنَّاسِ حِينَ أَشَرْتُ إِلَيْكَ». فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ مَا كَانَ يَنْبَغِي لاِبْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يُصَلِّيَ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ.
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এর নিকট সংবাদ পৌঁছে যে, বানূ আমর ইব্নু আওফ-এ কিছু ঘটেছে। তাদের মধ্যে আপোষ করে দেয়ার উদ্দেশে তিনি কয়েকজন সাহাবীসহ বেরিয়ে গেলেন। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) সেখানে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েন। ইতোমধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেল। বিলাল (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট এসে বললেন, হে আবূ বকর! আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এদিকে সালাতের সময় হয়ে গেছে, আপনি কি সালাতে লোকদের ইমামাত করতে প্রস্তুত আছেন? তিনি বললেন, হাঁ, যদি তুমি চাও। তখন বিলাল (রাঃ) ইক্বামাত বললেন এবং আবূ বকর (রাঃ) সামনে এগিয়ে গিয়ে লোকদের জন্য তাকবির বললেন।এদিকে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) আসলেন এবং কাতারের ভিতর দিয়ে হেঁটে (প্রথম) কাতারে এসে দাঁড়িয়ে গেলেন। মুসল্লীগণ তখন হাততালি দিতে লাগলেন। আবূ বকর (রাঃ)-এর অভ্যাস ছিল যে, সালাতে এদিক সেদিক তাকাতেন না। মুসল্লীগণ যখন অধিক পরিমাণে হাততালি দিতে লাগলেন, তখন তিনি সেদিকে তাকালেন এবং আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) -কে দেখতে পেলেন। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) তাঁকে ইঙ্গিত করে সালাত আদায় করতে থাকার নির্দেশ দিলেন। আবূ বকর (রাঃ) দু’হাত তুলে আল্লাহ্র হাম্দ বর্ণনা করলেন এবং পিছনের দিকে সরে গিয়ে কাতারে দাঁড়ালেন। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) সামনে এগিয়ে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন।সালাত শেষ করে মুসল্লীগণের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, হে লোক সকল! তোমাদের কি হয়েছে, সালাতে কোন ব্যাপার ঘটলে তোমরা হাততালি দিতে থাক কেন? হাততালি তো মেয়েদের জন্য। কারো সালাতের মধ্যে কোন সমস্যা দেখা দিলে সে যেন ‘সুবহানাল্লাহ্’ বলে। কারণ, কেউ অন্যকে সুবহানাল্লাহ্ বলতে শুনলে অবশ্যই সেদিকে লক্ষ্য করবে।অতঃপর তিনি বললেন, হে আবূ বকর! তোমাকে আমি ইঙ্গিত করা সত্ত্বেও কিসে তোমাকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বাধা দিল? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, কুহাফার ছেলের জন্য এ সমীচীন নয় যে, সে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) -এর সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়ে সালাত আদায় করবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, তবে মূল বিষয় সালাতে কিছু ঘটলে কীভাবে সতর্ক করা হবে। নবী صلى الله عليه وسلم বানু আমর ইবন আওফের মধ্যে মীমাংসার জন্য গিয়েছিলেন। সালাতের সময় হলে বিলাল (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-কে ইমাম হতে বলেন। পরে রাসূল صلى الله عليه وسلم এসে কাতারে দাঁড়ালে মানুষ হাততালি দিতে থাকে। আবু বকর (রাঃ) ফিরে দেখে নবী صلى الله عليه وسلم-কে পান। নবী صلى الله عليه وسلم ইঙ্গিত করলেও তিনি পিছিয়ে যান, আর রাসূল صلى الله عليه وسلم সামনে গিয়ে সালাত পড়ান। সালাত শেষে তিনি বলেন, সালাতে কিছু ঘটলে সুবহানাল্লাহ বলতে হবে; হাততালি নারীদের জন্য। এই হাদিসে সালাতের আদব, ইমামের অনুসরণ, ভদ্রভাবে ভুল জানানো এবং আবু বকর (রাঃ)-এর নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রতি সম্মানের দিক একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে কোনো বিষয় ঘটলে সুবহানাল্লাহ বলার নির্দেশ আছে।
- হাততালির প্রসঙ্গে নারীদের কথা আলাদা করে বলা হয়েছে।
- ইমাম উপস্থিত না থাকলে অন্য কেউ ইমামত করতে পারে—ঘটনায় তা দেখা যায়।
- আবু বকর (রাঃ) রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সামনে ইমামত করতে সংকোচ করেছেন।
