৪৯/১৩. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ২৫৪২ - তাকদীর ও জন্ম নির্ধারণের শিক্ষা

কোন আরব যদি কোন দাস-দাসীর মালিক হয় এবং তাকে দান করে, বিক্রয় করে, সহবাস করে এবং ফিদিয়া হিসাবে দেয় অথবা শিশুদেরকে বন্দী করে রাখে তবে এর বিধান কী?

وَقَوْلِهِ تَعَالَى ﴾ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا عَبْدًا مَمْلُوكًا لَا يَقْدِرُ عَلَى شَيْءٍ وَمَنْ رَزَقْنَاهُ مِنَّا رِزْقًا حَسَنًا فَهُوَ يُنْفِقُ مِنْهُ سِرًّا وَجَهْرًا هَلْ يَسْتَوُونَ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ﴿আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন: আল্লাহ উপমা দিচ্ছেন অপরের অধিকারভুক্ত এক গোলামের, যে কোনো কিছুর উপর শক্তি রাখে না এবং এমন এক ব্যক্তির, যাকে তিনি নিজ হতে উত্তম রিযিক দান করেছেন এবং সে তা হতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে। তারা কি একে অপরের সমান? সকল প্রশংসা আল্লাহর প্রাপ্য, অথচ তাদের অধিকাংশই তা জানে না। (নাহল ৭৫)"

তাকদীর ও আজল হাদিস: জন্ম নির্ধারণের বিষয়ে নবীজির শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৫৪২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ، قَالَ رَأَيْتُ أَبَا سَعِيدٍ ـ رضى الله عنه ـ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي غَزْوَةِ بَنِي الْمُصْطَلِقِ فَأَصَبْنَا سَبْيًا مِنْ سَبْىِ الْعَرَبِ، فَاشْتَهَيْنَا النِّسَاءَ فَاشْتَدَّتْ عَلَيْنَا الْعُزْبَةُ وَأَحْبَبْنَا الْعَزْلَ، فَسَأَلْنَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ «مَا عَلَيْكُمْ أَنْ لاَ تَفْعَلُوا، مَا مِنْ نَسَمَةٍ كَائِنَةٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلاَّ وَهْىَ كَائِنَةٌ».

আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি আবূ সাঈদ (রাঃ) -কে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, নবী (ﷺ) -এর সাথে আমরা বনী মুস্তালিক যুদ্ধে কিছু আরব যুদ্ধবন্দী আমাদের হস্তগত হল। তখন আমাদের স্ত্রীদের কথা মনে পড়ে (কেননা) দূর-নিঃসঙ্গ জীবন আমাদের জন্য পীড়াদায়ক হয়ে পড়েছিলো। (সে সময়) আমরা আযল করতে চাইলাম (বাঁদী ব্যবহার করে)। এ সম্পর্কে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এরূপ না করলে তোমাদের কোন ক্ষতি হবে না। কেননা, কিয়ামত পর্যন্ত যাদের জন্ম নির্ধারিত রয়েছে, তাদের আগমন ঘটবেই।

সহীহ বুখারী হাদিস ২৫৪২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বনী মুস্তালিক যুদ্ধের সময় সাহাবিদের একটি প্রশ্নের কথা এসেছে। তারা যুদ্ধবন্দীদের বিষয়ে আজল করতে চেয়েছিলেন এবং এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, এমন না করলে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না; কারণ কিয়ামত পর্যন্ত যাদের জন্ম হওয়ার কথা নির্ধারিত আছে, তারা আসবেই। এখানে মূল শিক্ষা হলো তাকদীরের ওপর ঈমান এবং মানুষের চেষ্টার সীমা। হাদিসটি আজল সম্পর্কিত হলেও এর বড় বার্তা হলো জন্ম-মৃত্যুর মতো বিষয় আল্লাহর নির্ধারণের বাইরে নয়। তাই এই হাদিস ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত কথা না বাড়িয়ে বলা যায়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবিদের প্রশ্নের জবাবে তাকদীরের দিকটি পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আল্লাহ যাদের জন্ম নির্ধারণ করেছেন, তাদের আগমন ঘটবেই।
  • জটিল বিষয়ে সাহাবিরা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে জিজ্ঞেস করতেন।
  • মানুষের পরিকল্পনা থাকলেও তাকদীর আল্লাহর হাতে।
  • হাদিসের বক্তব্য বুঝতে প্রশ্ন ও জবাব—দুই অংশই খেয়াল করা জরুরি।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন