৬৪/৩৩. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৩৮ - আজল, প্রশ্ন ও তাকদীরের শিক্ষা

বানু মুসতালিকের যুদ্ধ। বানু মুসতালিক খুযা‘আর একটি শাখা গোত্র। এ যুদ্ধকে মুরায়সীর যুদ্ধও বলা হয়

قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَذَلِكَ سَنَةَ سِتٍّ وَقَالَ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَقَالَ النُّعْمَانُ بْنُ رَاشِدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ كَانَ حَدِيثُ الْإِفْكِ فِي غَزْوَةِ الْمُرَيْسِيعِইবন ইসহাক (রহঃ) বলেছেন, এ যুদ্ধ ৬ষ্ঠ হিজরী সনে সংঘটিত হয়েছিল। মূসা ইবন ‘উকবা (রহঃ) বলেছেন, ৪র্থ হিজরী সনে। নুমান ইবন রাশিদ (রহঃ) যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুরাইসীর যুদ্ধে ইফকের ঘটনা ঘটেছিল।"

আজল ও তাকদীর: জন্ম সম্পর্কে নবী صلى الله عليه وسلم-এর সংক্ষিপ্ত শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১৩৮

قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيْلُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ رَبِيْعَةَ بْنِ أَبِيْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ ابْنِ مُحَيْرِيْزٍ أَنَّهُ قَالَ دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَرَأَيْتُ أَبَا سَعِيْدٍ الْخُدْرِيَّ فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ فَسَأَلْتُهُ عَنِ الْعَزْلِقَالَ أَبُوْ سَعِيْدٍ خَرَجْنَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فِيْ غَزْوَةِ بَنِي الْمُصْطَلِقِ فَأَصَبْنَا سَبْيًا مِنْ سَبْيِ الْعَرَبِ فَاشْتَهَيْنَا النِّسَاءَ وَاشْتَدَّتْ عَلَيْنَا الْعُزْبَةُ وَأَحْبَبْنَا الْعَزْلَ فَأَرَدْنَا أَنْ نَعْزِلَ وَقُلْنَا نَعْزِلُ وَرَسُوْلُ اللهِ ﷺ بَيْنَ أَظْهُرِنَا قَبْلَ أَنْ نَسْأَلَهُ فَسَأَلْنَاهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ مَا عَلَيْكُمْ أَنْ لَا تَفْعَلُوْا مَا مِنْ نَسَمَةٍ كَائِنَةٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلَّا وَهِيَ كَائِنَةٌ

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা আমি মসজিদে প্রবেশ করে আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)-কে দেখতে পেয়ে তাঁর কাছে গিয়ে বসলাম এবং আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আবু সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে বানূ মুসতালিকের যুদ্ধে যোগদান করেছিলাম। এ যুদ্ধে আরবের বহু বন্দী আমাদের হস্তগত হয়। মহিলাদের প্রতি আমাদের মনে আসক্তি জাগে এবং বিবাহ-শাদী ব্যতীত এবং স্ত্রীহীন অবস্থা আমাদের জন্য কষ্টকর অনুভূত হয়। তাই আমরা আযল করা পছন্দ করলাম এবং তা করতে মনস্থ করলাম।তখন আমরা পরস্পর বলাবলি করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে আছেন। এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস না করেই আমরা আযল করতে যাচ্ছি। আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এটা না করলে তোমাদের কী ক্ষতি? কেয়ামত পর্যন্ত যতগুলো প্রাণের আগমন ঘটবার আছে, ততগুলোর আগমন ঘটবেই।

সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৩৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আবু সাঈদ খুদরি (রাঃ)-এর কাছে আজল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বানু মুস্তালিক যুদ্ধের ঘটনার কথা বলেন। সাহাবীদের হাতে বন্দি আসে, স্ত্রীহীনতার কষ্ট অনুভূত হয়, এবং তারা আজল করতে চান। কিন্তু তারা ভাবলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আমাদের মধ্যে আছেন; তাঁকে না জিজ্ঞেস করে এমন কাজ করা ঠিক নয়। তাঁরা প্রশ্ন করলে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, এটা না করলে তোমাদের কী ক্ষতি? কেয়ামত পর্যন্ত যত প্রাণ আসার আছে, তা আসবেই। এই হাদিসের মূল বিষয় আজল ও তাকদীর। ব্যাখ্যার সময় সতর্ক থাকা দরকার—এখানে বিস্তারিত পারিবারিক বিধান নয়, বরং নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব এসেছে। মূল শিক্ষা হলো, সাহাবীরা ব্যক্তিগত বিষয়েও নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে জানতে চাইতেন, এবং জন্ম-মৃত্যুর ব্যাপারে আল্লাহর লিখন ও ইচ্ছার প্রতি বিশ্বাস রাখা মুসলিম আকীদার অংশ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সাহাবীরা ব্যক্তিগত বিষয়েও নবী صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করতেন।
  • জন্মের বিষয় আল্লাহর তাকদীরের সঙ্গে যুক্ত—এ শিক্ষা হাদিসে স্পষ্ট।
  • প্রশ্ন করার আগে নিজেরা সিদ্ধান্তে না যাওয়া একটি ভালো আদব।
  • হাদিসে আজল প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত জবাব এসেছে; অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক নয়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন