৬৪/৫৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩০২ - কুরআন জানা ব্যক্তির ইমামত
পরিচ্ছেদ নেই
কুরআন জানা ব্যক্তির ইমামত: আমর ইবনু সালামা (রাঃ)-এর হাদিস
সহীহ বুখারী : ৪৩০২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩০২
سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوْبَ عَنْ أَبِيْ قِلَابَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ سَلَمَةَ قَالَ قَالَ لِيْ أَبُوْ قِلَابَةَ أَلَا تَلْقَاهُ فَتَسْأَلَهُ قَالَ فَلَقِيْتُهُ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ كُنَّا بِمَاءٍ مَمَرَّ النَّاسِ وَكَانَ يَمُرُّ بِنَا الرُّكْبَانُ فَنَسْأَلُهُمْ مَا لِلنَّاسِ مَا لِلنَّاسِ مَا هَذَا الرَّجُلُ فَيَقُوْلُوْنَ يَزْعُمُ أَنَّ اللهَ أَرْسَلَهُ أَوْحَى إِلَيْهِ أَوْ أَوْحَى اللهُ بِكَذَا فَكُنْتُ أَحْفَظُ ذَلِكَ الْكَلَامَ وَكَأَنَّمَا يُقَرُّ فِيْ صَدْرِيْ وَكَانَتْ الْعَرَبُ تَلَوَّمُ بِإِسْلَامِهِمْ الْفَتْحَ فَيَقُوْلُوْنَ اتْرُكُوْهُ وَقَوْمَهُ فَإِنَّهُ إِنْ ظَهَرَ عَلَيْهِمْ فَهُوَ نَبِيٌّ صَادِقٌ فَلَمَّا كَانَتْ وَقْعَةُ أَهْلِ الْفَتْحِ بَادَرَ كُلُّ قَوْمٍ بِإِسْلَامِهِمْ وَبَدَرَ أَبِيْ قَوْمِيْ بِإِسْلَامِهِمْ فَلَمَّا قَدِمَ قَالَ جِئْتُكُمْ وَاللهِ مِنْ عِنْدِ النَّبِيِّ ﷺ حَقًّا فَقَالَ صَلُّوْا صَلَاةَ كَذَا فِيْ حِيْنِ كَذَا وَصَلُّوْا صَلَاةَ كَذَا فِيْ حِيْنِ كَذَا فَإِذَا حَضَرَتْ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ أَحَدُكُمْ وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْثَرُكُمْ قُرْآنًافَنَظَرُوْا فَلَمْ يَكُنْ أَحَدٌ أَكْثَرَ قُرْآنًا مِنِّيْ لِمَا كُنْتُ أَتَلَقَّى مِنْ الرُّكْبَانِ فَقَدَّمُوْنِيْ بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَأَنَا ابْنُ سِتٍّ أَوْ سَبْعِ سِنِيْنَ وَكَانَتْ عَلَيَّ بُرْدَةٌ كُنْتُ إِذَا سَجَدْتُ تَقَلَّصَتْ عَنِّيْ فَقَالَتْ امْرَأَةٌ مِنَ الْحَيِّ أَلَا تُغَطُّوْا عَنَّا اسْتَ قَارِئِكُمْ فَاشْتَرَوْا فَقَطَعُوْا لِيْ قَمِيْصًا فَمَا فَرِحْتُ بِشَيْءٍ فَرَحِيْ بِذَلِكَ الْقَمِيْصِ.
‘আম্র ইবনু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আইয়ুব (রহঃ) বলেছেন, আবূ কিলাবাহ আমাকে বললেন, তুমি 'আম্র ইবনু সালামাহ'র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে (তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা কর না কেন? আইয়ুব (রহঃ) বলেন, অতঃপর আমি 'আম্র ইবনু সালামাহ্র সঙ্গে দেখা করে তাঁকে (তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম।তিনি বললেন, আমরা লোকজনের চলার পথের পাশে একটি ঝরণার কাছে বাস করতাম। আমাদের পাশ দিয়ে অনেক কাফেলা চলাচল করত। তখন আমরা তাদেরকে জিজ্ঞেস করতাম, (মক্কার) লোকজনের অবস্থা কী? মক্কার লোকজনের অবস্থা কী? আর ঐ লোকটির কী অবস্থা? তাঁরা বলত, ঐ ব্যক্তি তো দাবী করে যে, আল্লাহ তাঁকে রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন, তাঁর প্রতি ওহী অবতীর্ণ করেছেন। (কোরআনের কিছু অংশ পাঠ করে বলত) তাঁর কাছে আল্লাহ এ রকম ওহী অবতীর্ণ করেছেন। ('আম্র ইবনু সালামা'হ বলেন) তখন আমি সে বাণীগুলো মুখস্থ করে নিতাম যেন তা আমার হৃদয়ে গেঁথে থাকত।সমগ্র আরব ইসলাম গ্রহণের জন্য নবী (ﷺ)-এর বিজয়ের অপেক্ষা করছিল। তাঁরা বলত, তাঁকে তাঁর নিজ গোত্রের লোকেদের সঙ্গে (আগে) বোঝাপড়া করতে দাও। অতঃপর তিনি যদি তাদের উপর বিজয়ী হন তবে তিনি সত্য নবী। এরপর মাক্কাহ বিজয়ের ঘটনা ঘটল। এবার সব গোত্রই তাড়াহুড়া করে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল। আমাদের কাওমের ইসলাম গ্রহণ করার ব্যাপারে আমার পিতা বেশ তাড়াহুড়া করলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণের পর ফিরে এসে বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি সত্য নবীর নিকট থেকে তোমাদের কাছে এসেছি। তিনি বলে দিয়েছেন যে, অমুক সময়ে তোমরা অমুক সালাত এবং অমুক সময় অমুক সালাত আদায় করবে। এভাবে সালাতের সময় হলে তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে কোরআন অধিক জানে সে সালাতের ইমামাত করবে।সবাই এ রকম একজন লোক খুঁজলেন। কিন্তু আমার চেয়ে অধিক কোরআন জানা একজনকেও পাওয়া গেল না। কেননা আমি কাফেলার লোকদের থেকে কোরআন শিখেছিলাম। কাজেই সকলে আমাকেই তাদের সামনে এগিয়ে দিল। অথচ তখনো আমি ছয় কিংবা সাত বছরের বালক। আমার একটি চাদর ছিল, যখন আমি সাজদাহ্য় যেতাম তখন চাদরটি আমার গায়ের সঙ্গে জড়িয়ে উপরের দিকে উঠে যেত। তখন গোত্রের জনৈকা মহিলা বলল, তোমরা আমাদের দৃষ্টি থেকে তোমাদের ক্বারীর নিতম্ব আবৃত করে দাও না কেন? তাঁরা কাপড় খরিদ করে আমাকে একটি জামা তৈরি করে দিল। এ জামা পেয়ে আমি এত খুশি হয়েছিলাম যে, আর কিছুতে এত খুশি হইনি।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কুরআন শেখা, সালাতের নিয়ম মানা এবং ইমাম নির্বাচনে কুরআন জ্ঞানের গুরুত্ব। আমর ইবনু সালামা (রাঃ) কাফেলার লোকদের কাছ থেকে কুরআনের বাণী শুনে মুখস্থ করতেন। মক্কা বিজয়ের পর যখন তাঁর কওম ইসলাম গ্রহণ করল, তাঁর পিতা নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছ থেকে ফিরে এসে সালাতের সময়, আজান এবং ইমামতির নিয়ম জানালেন। বলা হলো, সালাতের সময় হলে একজন আজান দেবে এবং যে বেশি কুরআন জানে সে ইমাম হবে। লোকেরা খুঁজে দেখল, ছোট বয়স হওয়া সত্ত্বেও আমর (রাঃ)-এর চেয়ে বেশি কুরআন কেউ জানে না। তাই তাঁকেই ইমাম করা হলো। এই “ইমামতির হাদিস” আমাদের শেখায়, বয়স বা বাহ্যিক মর্যাদার আগে কুরআন জানা একটি বড় যোগ্যতা। তবে হাদিসে পোশাক ঢাকার বিষয়টিও এসেছে, তাই সালাতে শালীন পোশাকের দিকেও নজর রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে ইমাম নির্বাচনে কুরআন জানার গুরুত্ব আছে।
- শিশু বয়সেও কুরআন শেখা ও মুখস্থ করা মূল্যবান হতে পারে।
- আজান ও সালাতের সময় মেনে জামাতে ইবাদত করার শিক্ষা পাওয়া যায়।
- সালাতে পোশাক ঢাকার বিষয়েও সতর্ক থাকা উচিত।
