৫/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩০১ - মসজিদ নির্মাণ ও সাহাবীদের সহযোগিতা
মসজিদে নববী (ﷺ) নির্মাণ।
মসজিদ নির্মাণের ফজিলত: মদিনায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রথম মসজিদ গড়ার শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৩০১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৩০১
حديث أَنَسٍ قَالَ: قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ، فَنَزَلَ أَعْلَى الْمَدِينَةِ فِي حَيٍّ يُقَالُ لَهُمْ بَنُو عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ، فَأَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِمْ أَرْبَعَ عَشْرَةَ لَيْلَةَ، ثُمَّ أَرْسَلَ [ص: 105] إِلِى بَني النَّجَّارِ فَجَاءُوا مُتَقَلِّدِي السُّيُوفِ، فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى رَاحِلَته، وَأَبُو بَكْرٍ رِدْفُهُ، وَمَلأُ بَنِي النَّجَّارِ حَوْلَهُ، حَتَّى أَلْقَى بِفِنَاءِ أَبِي أَيُّوبَ، وَكَانَ يُحِبُّ أَنْ يُصَلِّي حَيْثُ أَدْرَكَتْهُ الصَّلاَةُ، وَيُصَلِّي فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ، وَأَنَّهُ أَمَرَ بِبِنَاءِ الْمَسْجِدِ، فَأَرْسَلَ إِلَى مَلإٍ مِنْ بَنِي النَّجَّارِ، فَقَالَ: يَا بَنِي النَّجَّارِ ثَامِنُونِي بِحَائِطِكُمْ هذَا قَالُوا: لاَ وَاللهِ لاَ نَطْلُبُ ثَمَنَهُ إِلاَّ إِلَى اللهقَالَ أَنَسٌ: فَكَانَ فِيهِ مَا أَقُولُ لَكُمْ، قُبُورُ الْمُشْرِكِينَ، وَفِيهِ خَرِبٌ، وَفِيهِ نَخْلٌ؛ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقُبُورِ الْمُشْرِكِينَ فَنُبِشَتْ، ثمَّ بِالْخَرِبِ فَسُوِّيَتْ، وَبِالنَّخْلِ فَقُطِعَ فَصَفُّوا النَّخْلَ قِبْلَةَ الْمَسْجِدِ، وَجَعَلوا عِضَادَتَيْهِ الْحِجَارَةَ، وَجَعَلُوا يَنْقُلُونَ الصَّخْرَ وَهُمْ يَرْتَجِزُونَ، وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَهُمْ وَهُوَ يَقُولُ:اللهُمَّ لاَ خَيْرَ إِلاَّ خَيْرُ الآخِرَهْفَاغْفِرْ لِلأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرَهْ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) মাদীনায় পৌঁছে প্রথমে মাদীনার উচ্চ এলাকার অবস্থিত বানূ ‘আমর ইব্নু ‘আওফ নামক গোত্রে উপনীত হন। তাদের সঙ্গে নবী (ﷺ) চৌদ্দ দিন (অপর বর্ণনায় চব্বিশ দিন) অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি বানূ নাজ্জারকে ডেকে পাঠালেন। তারা কাঁধে তলোয়ার ঝুলিয়ে উপস্থিত হলো। আমি যেন এখনো সে দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি যে, নবী (ﷺ) ছিলেন তাঁর বাহনের উপর, আবূ বকর (রাঃ) সে বাহনেই তাঁর পেছনে আর বানূ নাজ্জারের দল তাঁর আশেপাশে।অবশেষে তিনি আবূ আয়্যূব আনসারী (রাঃ)-র ঘরের সাহানে অবতরণ করলেন। নবী (ﷺ) যেখানেই সালাতের ওয়াক্ত হয় সেখানেই সালাত আদায় করতে পছন্দ করতেন এবং তিনি ছাগল-ভেড়ার খোঁয়াড়েও সালাত আদায় করতেন। এখন তিনি মসজিদ তৈরি করার নির্দেশ দেন। তিনি বানূ নাজ্জারকে ডেকে বললেনঃ হে বানূ নাজ্জার! তোমরা আমার কাছ হতে তোমাদের এই বাগিচার মূল্য নির্ধারণ কর। তারা বললোঃ না, আল্লাহ্র কসম, আমরা এর দাম নেব না। এর দাম আমরা একমাত্র আল্লাহ্র নিকটই আশা করি।আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমি তোমাদের বলছি, এখানে মুশরিকদের কবর এবং ভগ্নাবশেষ ছিল। আর ছিল খেজুর গাছ। নবী (ﷺ)-এর নির্দেশে মুশরিকদের কবর খুঁড়ে ফেলা হলো, অতঃপর ভগ্নাবশেষ সমতল করে দেয়া হলো, খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হলো, অতঃপর মসজিদের কেবলায় সারিবদ্ধ করে রাখা হলো এবং তার দুই পাশে পাথর বসানো হলো। সাহাবীগণ পাথর তুলতে তুলতে ছন্দোবদ্ধ কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। আর নবী (ﷺ)-ও তাঁদের সাথে ছিলেন। তিনি তখন বলছিলেনঃ “ইয়া আল্লাহ! আখিরাতের কল্যাণ ব্যতীত (প্রকৃত) আর কোন কল্যাণ নেই। তুমি আনসার ও মুহাজিরগণকে ক্ষমা কর।”
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮ : সালাত, অধ্যায় ৪৮, হাঃ ৪২৮; মুসলিম, পর্ব ৫ মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহের বর্ণনা, অধ্যায় ১, হাঃ ৫২৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মদিনায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর আগমন, বানূ আমর ইবনু আওফের কাছে অবস্থান, এরপর বানূ নাজ্জারের এলাকায় মসজিদ নির্মাণের ঘটনা এসেছে। মূল শিক্ষা হলো, মসজিদ নির্মাণ শুধু একটি ঘর বানানো নয়; এটি আল্লাহর ইবাদতের জায়গা তৈরি করার কাজ। বানূ নাজ্জার বাগানের দাম নিতে চাননি; তারা এর বদলা আল্লাহর কাছে আশা করেছেন। এতে দানের সুন্দর মনোভাব দেখা যায়। নবী صلى الله عليه وسلم নিজেও সাহাবীদের সঙ্গে ছিলেন, আর সাহাবীরা পাথর বহন করছিলেন। মসজিদের জায়গা পরিষ্কার করা, কবর সরানো, ভাঙা অংশ সমান করা এবং খেজুর গাছ কেটে কিবলার দিকে রাখা—সবকিছু পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। হাদিসের শেষে নবী صلى الله عليه وسلم আখিরাতের কল্যাণ এবং আনসার-মুহাজিরদের ক্ষমার দোয়া করেছেন। তাই এই হাদিস মসজিদ নির্মাণ, দান এবং আখিরাতমুখী কাজের গুরুত্ব বোঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মসজিদ নির্মাণ আল্লাহর ইবাদতের জন্য একটি বড় খিদমত।
- দান করার সময় আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিদান আশা করা সুন্দর মনোভাব।
- নবী صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের সঙ্গে কাজে অংশ নিয়েছেন, এতে একসঙ্গে দ্বীনি কাজে সহযোগিতার শিক্ষা আছে।
- আখিরাতের কল্যাণকে দুনিয়ার লাভের চেয়ে বড় মনে করা উচিত।
