১৫/২৬. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭৭২ - ফিতনার সময় হজ্জের নিয়ত
বাধা প্রাপ্ত ব্যক্তি ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যাবে এবং হজ্জে কিরানের বৈধতা।
ফিতনার সময় হজ্জ: নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আদর্শ অনুসরণের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৭৭২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৭৭২
حديث ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ أَرَادَ الْحَجَّ عَامَ نَزَلَ الْحَجَّاجُ بِابْنِ الزُّبَيْرِ، فَقِيلَ لَهُ: إِنَّ النَّاسَ كَائِنٌ بَيْنَهُمْ قِتَالٌ وَإِنَّا نَخَافُ أَنْ يَصُدُّوكَ، فَقَالَ: ﴾لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ﴿ إِذًا أَصْنَعُ كَمَا صَنَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِنِّي أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ عُمْرَةً ثُمَّ خَرَجَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِظَاهِرِ الْبَيْدَاءِ،قَالَ: مَا شَأْنُ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ إِلاَّ وَاحِدٌ، أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ حَجًّا مَعَ عُمْرَتِي وَأَهْدَى هَدْيًا اشْتَرَاهُ بِقُدَيْدٍ، وَلَمْ يَزِدْ عَلَى ذلِكِ، فَلَمْ يَنْحَرْ وَلَمْ يَحِلَّ مِنْ شَيْءٍ حَرُمَ مِنْهُ، وَلَمْ يَحْلِقْ وَلَمْ يُقَصِّرْ حَتَّى كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ فَنَحَرَ وَحَلَقَ، وَرَأَى أَنْ قَدْ قَضى طَوافَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ بِطَوَافِهِ الأَوَّلِ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: كَذلِكَ فَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে বছর হজাজ ইব্নু ইউসুফ ‘আবদুল্লাহ ইব্নু যুবাইর (রাঃ)-এর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য মাক্কায় আসেন, ঐ বছর ইব্নু ‘উমার (রাঃ) হজের এরাদা করেন। তখন তাঁকে বলা হলো, (বিবাদমান দুই দল) মানুষের মধ্যে যুদ্ধ হতে পারে। আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে যে, আপনাকে তারা বাধা দিবে।তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে”- (আহযাব ২১)।কাজেই এমন কিছু হলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যা করেছিলেন আমিও তাই করব। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি উমরাহ’র সঙ্কল্প করলাম।এরপর তিনি বের হলেন এবং বায়দার উঁচু অঞ্চলে পৌঁছার পর তিনি বললেন, হজ ও উমরাহ’র বিধান একই, আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, আমি উমরাহ’র সঙ্গে হজেরও নিয়্যাত করলাম এবং তিনি কুদায়দ হতে ক্রয় করা একটি হাদী পাঠালেন, এর অতিরিক্ত কিছু করেননি। এরপর তিনি কুরবানী করেননি এবং ইহরামও ত্যাগ করেন নি এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা কোনটাই করেননি।অবশেষে কুরবানীর দিন এলে তিনি কুরবানী করলেন, মাথা মুণ্ডালেন। তাঁর অভিমত হলো, প্রথম তাওয়াফ-এর মাধ্যমেই তিনি হজ ও উমরাহ উভয়ের তাওয়াফ সেরে নিয়েছেন। ইব্নু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এমনই করেছেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৫ : হজ, অধ্যায় ৭৭, হাঃ ১৬৪০; মুসলিম, পর্ব ১৫ : হজ, অধ্যায় ২৬, হাঃ ১২৩০
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় ফিতনার সময় হজ্জ ও উমরাহর নিয়ত। হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ মাক্কায় এলে ইবনু উমার (রাঃ) হজ্জ করতে চাইলেন। তাঁকে বলা হলো, মানুষের মধ্যে যুদ্ধ হতে পারে এবং তাঁকে বাধা দেওয়া হতে পারে। তিনি তখন কুরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। তাই এমন হলে তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মতো করবেন। তিনি প্রথমে উমরাহর সংকল্প করেন, পরে বায়দার উঁচু অঞ্চলে গিয়ে বলেন, হজ্জ ও উমরাহর বিধান একই, এবং উমরাহর সঙ্গে হজ্জের নিয়ত করেন। তিনি হাদী পাঠান, ইহরাম ত্যাগ করেননি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটেননি, কুরবানীর দিন কুরবানী করে মাথা মুণ্ডান।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন অবস্থায় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আদর্শকে সামনে রাখা সাহাবীদের পদ্ধতি ছিল।
- ইবনু উমার (রাঃ) বাধার আশঙ্কাতেও ইবাদতের নিয়ত স্পষ্ট করেন।
- হাদী থাকায় তিনি কুরবানীর দিন পর্যন্ত ইহরাম ছাড়েননি।
- হজ্জ ও উমরাহ একসঙ্গে করার ক্ষেত্রে তাওয়াফের বিষয়টি বর্ণনায় এসেছে।
