৪/২২. অধ্যায়ঃ
সালাত নিষিদ্ধ সময়ের বিবরণ - প্রথম অনুচ্ছেদ
যে সকল সময়ে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) নিষিদ্ধ তার বর্ণনা। নিষিদ্ধ সময় পাঁচটিঃ১. সূর্যোদয়ের সময়২. সূর্যাস্তের সময়৩. ফজরের (ফজরের) সালাতের পর৪. ’আসরের সালাতের পর৫. সূর্য ঠিক মাথার উপরে থাকার সময়।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ১০৪২-[৪]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১০৪২-[৪]
وَعَن عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ قَالَ: قَدِمَ النَّبِيُّ ﷺ الْمَدِينَةَ فَقَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ: أَخْبِرْنِي عَنِ الصَّلَاةِ فَقَالَ: «صَلِّ صَلَاةَ الصُّبْحِ ثُمَّ أقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ حِيْنَ تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَتّى تَرْتَفِعَ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ حِينَ تَطْلَعُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ ثُمَّ صَلِّ فَإِنَّ الصَّلَاةَ مَشْهُوْدَةٌ مَحْضُوْرَةٌ حَتّى يَسْتَقِلَّ الظِّلُّ بِالرُّمْحِ ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ فَإِنَّ حِينَئِذٍ تُسْجَرُ جَهَنَّمُ فَإِذَا أَقْبَلَ الْفَيْءُ فَصَلِّ فَإِنَّ الصَّلَاةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتّى تُصَلِّيَ الْعَصْرَ ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ حَتّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكفَّار» قَالَ فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللّهِ فَالْوُضُوءُ حَدِّثْنِي عَنْهُ قَالَ: «مَا مِنْكُم رَجُلٌ يُقَرِّبُ وَضُوْءَهٌ فَيَتَمَضْمَضُ وَيَسْتَنْشِقُ فَيَنْتَثِرُ إِلَّا خَرَّتْ خَطَايَا وَجْهِه وَفِيهِ وَخَيَاشِيمِه ثُمَّ إِذَا غَسَلَ وَجْهَه كَمَا أَمَرَهُ اللّهُ إِلَّا خَرَّتْ خَطَايَا وَجْهِه مِنْ أَطْرَافِ لِحْيَتِه مَعَ الْمَاءِ ثُمَّ يَغْسِلُ يَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ إِلَّا خَرَّتْ خَطَايَا يَدَيْهِ مِنْ أَنَامِلِه مَعَ الْمَاءِ ثُمَّ يَمْسَحُ رَأْسَه إِلَّا خَرَّتْ خَطَايَا رَأْسِه مِنْ أَطْرَافِ شَعْرِه مَعَ الْمَاءِ ثُمَّ يَغْسِلُ قَدَمَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ إِلَّا خَرَّتْ خَطَايَا رِجْلَيِهِ مِنْ أَنَامِلِه مَعَ الْمَاءِ فَإِنْ هُوَ قَامَ فَصَلّى فَحَمِدَ اللّهَ وَأَثْنى عَلَيْهِ وَمَجَّدَه بِالَّذِىْ هُوَ لَه أَهْلٌ وَفَرَّغَ قَلْبَه لِلّهِ إِلَّا انْصَرَفَ مِنْ خَطِيْئَتِه كَهَيْئَتِه يَوْمَ وَلَدَتْهُ أُمُّه» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আমর ইবনু ‘আবাসাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) মাদীনায় তাশরীফ আনলে আমিও মাদীনায় চলে আসলাম। তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম। অতঃপর আমি বললাম, আমাকে সালাত সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন, ফাজ্রের সালাত আদায় করো। এরপর সালাত হতে বিরত থাকো যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য উঠে উপরে না আসে। কেননা, সূর্য উদয় হয় শায়ত্বনের দুই শিং-এর মাঝখান দিয়ে। আর এ সময় কাফিরগণ (সূর্য পূজারীরা) একে সিজদাহ করে।তারপর সালাত পড়ো। কেননা এ সময়ে (আল্লাহর কাছে বন্দার) সালাতের উপস্থিতির সাক্ষ্য দেয়া হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ছায়া বর্শার উপর উঠে না আসে ও জমিনের উপর না পড়ে (আর্থাৎ ঠিক দুপুরের সময়), এ সময়ও সালাত হতে বিরত থাকো। এজন্য যে এ সময় জাহান্নমকে গরম করা হয়। তারপর ছায়া যখন সামান্য ঢলে যাবে তখন সালাত আদায় করো। সালাতের সময়টা মালায়িকাহ্'র (ফেরেশ্তাদের) উপস্থিতি ও সাক্ষ্য দেয়ার সময় যে পর্যন্ত তুমি 'আস্রের সালাত আদায় না করবে। তারপর আবার সালাত হতে বিরত থাকবে সূর্য ডুবা পর্যন্ত। কারণ সূর্য শায়ত্বনের দুই শিং-এর মাঝখান দিয়ে অস্ত যায়। এ মুহূর্তে সূর্য পূজক কাফিররা সূর্যকে সাজদাহ্ করে।'আম্র ইবনু 'আবাসাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি আবার আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! ওজুর ব্যাপারে কিছু বয়ান করুন। তিনি বললেন, তোমাদের যে লোক ওজুর পানি তুলে নিবে, কুলি করবে, নাকে পানি দিয়ে ঝেড়ে নেবে। তাতে তার চেহারার, মুখের ও নাকের ছিদ্রের পাপরাশি ঝরে যায়। সে যখন তার চেহারাকে আল্লাহর নির্দেশ মতো ধুয়ে নেয় তখন তার চেহারার পাপরাশি তার দাঁড়ির পাশ দিয়ে পানির সঙ্গে পড়ে যায়। আর সে যখন তার দুইটি হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নেয় তখন দুইহাতের পাপ তার আঙ্গুলের মাথা দিয়ে বের হয়ে পানির ফোটার সঙ্গে পড়ে যায়। তারপর সে যখন তার মাথা মাসেহ করে তখন তার মাথার পাপরাশি চুলের পাশ দিয়ে পানির সঙ্গে পড়ে যায়। আর যখন সে তার দুই পা গোছাদ্বয়সহ ধৌত করে তখন তার দুই পায়ের পাপ তার আঙ্গুলের পাশ দিয়ে পানির সঙ্গে পড়ে যায়।তারপর সে ওজু সমাপ্ত করে যখন দাঁড়ায় ও সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর উপযুক্ত প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করে, আল্লাহর জন্যে নিজের মনকে নিবেদিত করে, তাহলে সালাতের শেষে তার অবস্থা তেমন (নিষ্পাপ) হয়ে যায় যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল। (মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৮৩২।
