৪/২৩. অধ্যায়ঃ
জামাত ও তার ফজিলত সম্পর্কে - প্রথম অনুচ্ছেদ
জেনে রাখা দরকার যে, জামা’আতে সালাতের বিধান কখন থেকে শুরু হয়েছে তা নিয়ে ’আলিমদের মতানৈক্য রয়েছে। ইবনু হাজার মাক্কী দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, জামা’আতে সালাতের বিধান মদীনাতে শুরু হয়েছে।শায়খ রিয্ওয়ান বলেনঃ জামা’আতে সালাতের বিধান মক্কাতেই শুরু হয়েছে। প্রমাণ স্বরূপ তিনি বলেন যে, মি’রাজের ঘটনার রাতের সকালে তথা ফজরে জিবরীল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এবং সাহাবীগণের নিয়ে জামা’আতে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করেছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজাহ্ (রাঃ) ও ’আলী (রাঃ)-কে নিয়ে মক্কাতে জামা’আতে সালাত আদায় করেছেন। তবে তা প্রকাশ পায়নি এবং নিয়মিতভাবে মদীনাতেই জামা’আতে সালাত আদায় করেছেন, তার আগে নয়। এজন্যই বলা হয় যে, মদীনাতে জামা’আতের বিধান শুরু হয়েছে।জামা’আতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব নাকি সুন্নাত এ নিয়েও ’আলিমদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে।হাফিয ইবনু হাজার ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন যে, ’আত্বা, আওযা’ঈ, আহমাদ, আবূ সাওর, ইবনু খুযায়মাহ্ এবং ইবনুল মুনযির-এর মতে জামা’আতে সালাত আদায় করা ফারযে ’আইন।দাঊদ জাহিরী এবং তার অনুসারীদের মতে সালাত বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য জামা’আত শর্ত।ইমাম শাফি’ঈর মতে জামা’আতে সালাত আদায় করা ফারযে কিফায়াহ্। এ মত গ্রহণ করেছেন শাফি’ঈ মাযহাবের পূর্বসুরী ’আলিমগণ এবং অনেক হানাফী ও মালিকী ’আলিমগণ।অন্যান্য ’আলিমদের মতে জামা’আতে সালাত আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্।ইমাম বুখারী জামা’আতে সালাত আদায় করাকে ফারযে আইন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি অত্র অধ্যায়ে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত ২নং হাদীসের অধ্যায় রচনা করেছেন এভাবে (باب وجوب صلاة الجماعة) ’জামা’আতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গ’। অতঃপর তিনি হাসান বসরী (রহঃ)-এর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যে, তার মা তাকে করুণার বশবর্তী হয়ে ’ইশার সালাতে জামা’আতে উপস্থিত হতে বারণ করেন, কিন্তু তিনি তার মায়ের আনুগত্য করেননি। এ থেকে বুঝা যায় যে, জামা’আতে সালাত আদায় করা ফারযে আইন।আমি (মুবারকপূরী) মনে করি যে, জামা’আতে সালাত আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ হলেও তা ওয়াজিবের কাছাকাছি। যাতে উভয় প্রকারের হাদীসের মধ্যে সমন্বয় হয়।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ১০৫৪-[৩]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১০৫৪-[৩]
وَعَنْهُ قَالَ: أَتَى النَّبِيُّ ﷺ رَجُلٌ أَعْمى فَقَالَ: يَا رَسُوْلَ اللّهِ إِنَّه لَيْسَ لِي قَائِدٌ يَقُودُنِىْ إِلَى الْمَسْجِدِ فَسَأَلَ رَسُولَ اللّهِ ﷺ أَنْ يُرَخِّصَ لَه فَيُصَلِّيَ فِىْ بَيْتِه فَرَخَّصَ لَه فَلَمَّا وَلّى دَعَاهُ فَقَالَ: «هَلْ تَسْمَعُ النِّدَاءَ بِالصَّلَاةِ؟» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: فَأَجِبْ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
উক্ত রাবী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর কাছে একজন অন্ধলোক এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এমন কোন চালক নেই যে আমাকে মসজিদে নিয়ে যাবে। তিনি রাসূলের নিকট আবেদন করলেন, তাকে যেন ঘরে সালাত আদায়ের অবকাশ দেয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে অবকাশ দিলেন। সে ফিরে চলে যাওয়া মাত্রই তিনি (ﷺ) আবার তাকে ডাকলেন এবং বললেন, তুমি কি সালাতের আযান শুনতে পাও? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (ﷺ) বললেন, তবে অবশ্যই আযানের সাড়া দিবে (অর্থাৎ নিজেকে জামা‘আতে শরীক করবে)। (মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৬৫৩।
